৪বছরে মোদী শাসনের প্রতিবাদ
দেশজুড়ে জন একতার বিক্ষোভ

অসন্তোষ সংহত করে ডাক জনপ্রতিরোধের

নিজস্ব প্রতিনিধি   ২৪শে মে , ২০১৮

২৩শে মে- রুটি-রুজির দাবি আর একতার স্লোগানে রাজ্য-রাজ্যে পথে নামলেন মানুষ। কেন্দ্রের বি জে পি জোট সরকারের নীতির প্রতিবাদে শামিল হলেন লক্ষ্ণৌ থেকে বিজয়ওয়াড়ায়। প্রতিবাদ হয়েছে দিল্লিতে, কলকাতায়। সভায় সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অসন্তোষ বাড়ছে। অসন্তোষকে সংহত করে জনপ্রতিরোধ গড়া দরকার।

২৬শে মে চার বছর পূর্ণ করছে কেন্দ্রের বি জে পি জোট সরকার। তার আগে, বুধবার, এই চার বছরের শাসনে জনতার যন্ত্রণায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে জন একতা জন অধিকার। যে মঞ্চে শামিল একশোর বেশি শ্রেণি ও গণ সংগঠন। ‘পোল খোল, হল্লা বোল’ স্লোগান তুলে বুধবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিটেও হয়েছে সমাবেশ। প্রবল গরমেও শামিল হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সভায় জন একতা জন অধিকার আহ্বায়ক এবং সারা ভারত কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন পঁচিশটি রাজ্যের রাজধানী সহ বিভিন্ন শহরে দেখানো হয়েছে বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। দেশের বহু জায়গায় সভায় স্মরণ করা হয়েছে তুতিকোরিণে স্টারলাইট কারখানার দূষণ বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের। তীব্র ধিক্কার জানানো হয়েছে কেন্দ্র এবং তামিলনাডুর এ ডি এম কে সরকারের কর্পোরেটমুখী ভূমিকায়।

উত্তর প্রদেশে লক্ষ্ণৌয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ হয়েছে। বিহারে মিছিল হয়েছে পাটনায়। রাঁচিতে রাজভবনের সামনে অবস্থান ধরনায় শামিল হয়েছেন প্রতিবাদীরা। কেন্দ্রের নীতির প্রতিবাদে গুয়াহাটিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শামিল হয়েছে আসামের চল্লিশটি সংগঠন। ডিব্রুগড়, ধুবুরি, লামডিং থেকে করিমগঞ্জে উজান এবং নিম্ন আসামের প্রতিটি জেলা সদরে জন একতা জন অধিকার মঞ্চের ডাকে পথে নেমেছেন মানুষ। আগরতলায় প্রতিবাদ সভা হয়েছে মঙ্গলবারই। বুধবার সভা করার অনুমতি দেয়নি রাজ্যের বি জে পি সরকার। তেলেঙ্গানার বিজয়ওয়াড়ায় মিছিলে পথ হেঁটেছেন কয়েকশো মানুষ। মণিপুরের বিভিন্ন সংগঠনও সমবেত হয়েছেন ইম্ফলে। রাজ্যে জন একতার আহ্বায়ক শরৎ সালাম বলেছেন, অধিকারের জন্য মানুষ পথে থাকবেই। কোনও শাসনই তা শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

দিল্লিতে বিক্ষোভে শামিল হয় কৃষক, শ্রমিক, মহিলা, ছাত্র, যুব বিভিন্ন সংগঠন। মান্ডি হাউস থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পর্যন্ত মিছিলে পথ হেঁটেছেন দলিত, আদিবাসীদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কৃষকসভা নেতা হান্নান মোল্লা, কৃষক সভা (অজয় ভবন)-র নেতা অতুল অঞ্জনের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন সি আই টি ইউ সাধারণ সম্পাদক তপন সেন, ইউ টি ইউ সি নেতা মনোজ ভট্টাচার্য, অগ্রগামী কৃষকসভার এস এন চৌহান, এ আই সি সি টি ইউ-র সন্তোষ রায় প্রমুখ। বড় সংখ্যায় অংশ নিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা শামিল লড়াইয়ে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পাশাপাশি এদিন দিল্লির মিছিলে বড় সংখ্যায় অংশ নিয়েছেন মহিলারা। ফরিদাবাদ, গুরগাঁও, নয়ড়া, গাজিয়াবাদের মতো এলাকা থেকে এসেছেন বিভিন্ন আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।

সমাবেশে হান্নান মোল্লা বলেছেন, কৃষক এবং শ্রমিকের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে দেশের সরকারের নীতিতে। ছাড় পাচ্ছেন না সমাজের অন্য অংশের মানুষও। কাজের নতুন সুযোগ কমে যাচ্ছে। তার উপরে চলছে ছাঁটাই। শ্রম আইন তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। মালিকপক্ষের একতরফা ছাঁটাইয়ের সামনে অসহায় করা হচ্ছে শ্রমিকদের। আক্রমণ তীব্র কৃষকসমাজের উপর। ফসলের দাম মিলছে না। এই সরকার স্বামীনাথন কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। খরচের সঙ্গে তার অর্ধেক যোগ করে ফসলের সহায়ক মূল্য ঠিক করবে কথা দিয়েছিল। চার বছর হয়ে গেলো, কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এই চার বছরে কৃষক আত্মহত্যা চল্লিশ শতাংশ বেড়েছে।

কেন্দ্রের সরকার বিপুল খরচে নিজেদের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় সাফল্যের দাবি করছে। সমাবেশে সেই দাবি খারিজ করা হয়েছে। হান্নান মোল্লা বলেছেন, কৃষকদের তরফে ২৪০০কোটি টাকা প্রিমিয়াম জমা পড়েছে। সরকারি এই প্রকল্প থেকে কৃষকরা ফেরত পেয়েছেন মাত্র ৭হাজার ৩০০কোটি টাকা। বাকি প্রায় ১৬হাজার কোটি টাকা ঢুকে গিয়েছে বীমা কোম্পানিগুলির ঘরে। সুদিনের শ্লোগান দিয়ে এখন লাগামহীন বাড়ছে পেট্রোপণ্যের দাম। সংসার চালাতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন মানুষ। দিল্লির মিছিলে অংশ নেন শ্রমিক আন্দোলনের নেত্রী কে হেমলতা, অমরজিৎ কৌর, কবিতা কৃষ্ণাণ। মেধা পাটেকর, নিখিল দে, মধুরেশ কুমারও অংশ নেন। এস এফ আই, এ আই ডি এস ও নেতৃবৃন্দ এবং দলিত শোষণ মুক্তি মোর্চার নাথু প্রসাদও অংশ নেন মিছিলে।

বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রতিরোধে অংশ নেওয়া মানুষের ঐক্য ভাঙতে হাতিয়ার করা হচ্ছে বিভাজন। জাত এবং ধর্ম ব্যবহার করে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে মানুষের ঐক্য। সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ হচ্ছে। দলিতদের সুরক্ষা নেই। কাঠুয়ায় শিশুহত্যার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনার অপরাধীদের আড়ালেও প্রকাশ্যে সরব বি জে পি।

কর্তৃত্ববাদের নানা নজির ঢাকতে চার বছর পালনের প্রচারে নেমেছে কেন্দ্র। এদিন জন একতার বিক্ষোভে চেষ্টা হয়েছে সরকারের আসল চেহারা তুলে ধরার। আমেদাবাদ, জয়পুর, ভোপাল, হরিয়ানার কার্নালে হয়েছে প্রতিবাদসভা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement