টয়ট্রেন-পথ মসৃণ করতে
এবার বসছে গার্ডওয়াল

অনিন্দিতা দত্ত   ১৩ই জুন , ২০১৮

শিলিগুড়ি, ১২ই জুন — পাহাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে টয়ট্রেন। পাহাড়বাসীর কাছে যেমন, তেমনি পর্যটকদের কাছেও চির আকর্ষণীয় টয়ট্রেন। টয়ট্রেন চলার পথে পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে বাঁকে সড়ক ও রেলপথের লুকোচুরি খেলাও পর্যটকদের কাছে আজও সমানভাবে আকর্ষণীয়। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ টয়ট্রেনকে বিশ্বজুড়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য যখন সর্বতো প্রচেষ্টা চলছে, সেই সময়ে পর্যটক নিয়ে যাত্রাপথে বারবার বাধা আসায় থেমে দাঁড়াতে হচ্ছে টয়ট্রেনকে। এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। গাড়ি চালকেরা টয়ট্রেন লাইনের ওপরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখেন। কখনও দাঁড়িয়ে থাকে মোটরবাইক, এমনকি সাইকেলও। তাই টয়ট্রেনকে স্টেশন ছাড়াই থামতে হচ্ছে। কখনও টয়ট্রেনের হুইসল বাজতেই দূরে থাকা গাড়ির চালক দৌড়ে এসে গাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কখনও দীর্ঘ সময় ধরে টয়ট্রেন হুইসল বাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও গাড়ির চালক বেপাত্তা। কখনও আবার লাইন দখল করে বসছে বাজার। এই ধরনের ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতেই ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেনের স্বচ্ছন্দ্যে চলার পথে যাতে কোনওভাবেই বাধা না আসে তারজন্য পাকাপাকিভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল দার্জিলিঙ হিমালয়ান রেলওয়ে (ডি এইচ আর) কর্তৃপক্ষ।

দার্জিলিঙ হিমালয়ান রেলওয়ের উদ্যোগে রাস্তার ধারে টয়ট্রেনের লাইনের পাশ দিয়ে গার্ডওয়াল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত মতোই শিলিগুড়ি সংলগ্ন ডাগাপুর থেকে সুকনা পর্যন্ত টয়ট্রেনের লাইন ধরে গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ হচ্ছে।

শুধুমাত্র টয়ট্রেনের লাইনের ওপর যানবাহন পার্কিং করে রাখা ছাড়াও এলাকার একটি বড় বাজার প্রতিদিন দার্জিলিঙ মোড় থেকে ডাগাপুর পর্যন্ত টয়ট্রেনের লাইনটির দখল নিয়ে থাকে। এই বাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকেই টয়ট্রেনের লাইনের ওপরেই তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এই একটি কারণেও চলার পথে বারবার থমকে যেতে হচ্ছে টয়ট্রেনকে। অভিযোগ, গার্ডওয়াল নির্মাণ করে টয়ট্রেন লাইনের ওপর অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, ডাগাপুর থেকে দার্জিলিঙ মোড় পর্যন্ত টয়ট্রেনের লাইনের দখল নিয়ে থাকা ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওই এলাকায় গার্ডওয়াল তৈরির কাজ এখনও শুরু হয়নি।

বেশ কয়েকমাস আগে দাগাপুরের কাছে টয়ট্রেনের লাইনে ইট বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় চলার পথে থেমে দাঁড়ায় টয়ট্রেন। টয়ট্রেনে যাত্রীদের অনুমান ছিল হয়তো সিগনাল না পাওয়ার কারণে থামানো হয়েছে টয়ট্রেন। কিন্তু সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও লাইনের পাশে একটি ইট বোঝাই ট্রাক এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিল যার কারণে টয়ট্রনের যাবার কোনও রাস্তাই ছিল না। তাই টয়ট্রেনের চালক ট্রেন দাঁড় করিয়ে দিতে বাধ্য হন। ফলে টয়ট্রেন যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় পর্যটকদের মধ্যে। কখনও ডি এইচ আর ডিরেক্টর, এ ডি আর এম, এন জে পি সহ একাধিক রেলকর্তার টয়ট্রেন সফরকালে এরকম ঘটনা একাধিকবার ঘটছে।

সম্প্রতি টয়ট্রেনের দুটি প্রথম শ্রেণির কামরাকে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিঙ পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাতানুকূল করার কাজ শেষ হয়েছে। এক একটি কোচে ১৫জন করে যাত্রী বসার ব্যবস্থাসহ কামরার ভিতর টিক প্যানেল ও পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করার জন্য জানালায় ল্যামিনেটেড সুরক্ষিত কাঁচ লাগানো হয়েছে। একইভাবে দার্জিলিঙ থেকে ঘুম চলাচলকারী টয়ট্রেনেও এই ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাতানুকূল ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে, মুক্ত বাতাস ও বায়ু চলাচলের জন্য ছাদের সঙ্গে ব্যাটারি চালিত পাখাও লাগানোর ব্যবস্থা থাকছে। রয়েছে গান শোনার ব্যবস্থা। যাত্রীদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেলে বাতানুকূল কামরার সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।

পাহাড়ের পথে পর্যটকদের মনে ভ্রমণের আনন্দে পৃথক মাত্রা এনে দেয় টয়ট্রেনে সফর। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে কখনও আন্দোলনের নামে, আবার কখনও ধসের কারণে টয়ট্রেন চলাচলে বিপত্তি ঘটেছে। কিন্তু পর্যটকদের কাছে টয়ট্রেনের একটা আকর্ষণ রয়েই গেছে।



Featured Posts

Advertisement