নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর পুলিশের
লাঠি, জখম মহিলারা, ভাঙা হলো ঘর

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই জুন , ২০১৮

মেদিনীপুর, ১২ই জুন — তৃণমূলী দুষ্কৃতী‍‌দের বাঁচাতে নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর লাঠি চলল। ভাঙা হলো নিরীহ গ্রামবাসীদের ঘর। প্রতিবাদ জানিয়ে পুলি‍‌শের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘ‍‌টেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। মেদিনীপুর সদর ব্লকের কংসাবতী অঞ্চলের কালগাং মৌজায়। মেদিনীপুর শহর লাগোয়া এই কালগাং মৌজায় দুটি বুথে তৃণমূল, পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরাজিত হয় দুই নির্দল প্রার্থীর কাছে। আর এই এলাকা জুড়ে তৃণমূলের মদত‍পুষ্ট দুষ্কৃতীদের মদ, গাঁজা সহ অসামাজিক ব্যবসা। বালি থেকে অন্যান্য জায়গা জমি, গৃহ নির্মাণ প্রভৃতিতে তোলা আদায়সহ দালালি কারবার চলে। এতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার মানুষরাই রাত পাহারা দেন। এতে তৃণমূলীদের ব্যবসায় ব্যাঘাত ঘটে। স্থানীয় তৃণমূলের যুবনেতা শুভ্রকান্তি মজুমদার (পাপ্পু‍‌)-এর নেতৃত্বে হুমকি চলছিল কয়েকদিন ধরে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরও ৮/১০ জন বহিরাগতদের নিয়ে ভোজালি, রড নিয়ে বাড়ি বাড়ি হুমকি শুরু হয়। প্রথমে এলাকার মানুষ কিছুটা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তার পর মহিলাসহ গ্রামবাসীরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধে শা‍‌মিল হয়। বহিরাগতরা বাইক নিয়ে পালালেও, ঘটনাস্থলে ধরা পড়ে যায় ওই তৃণমূলের যুবনেতা পাপ্পু। জনরোষ তীব্র আকার নেয়। গ্রামের মানুষই ওই দুষ্কৃতীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরা লিখিত ঘটনা জানিয়ে তার একটি রিসিভ কপি দাবি করে। সেই সময় পুলিশ ওই দুষ্কৃতীকে একটি গাড়িতে করে নিয়ে চলে যায়। তারপর পু‍‌লিশ গ্রামবাসীদের তিন চারজনকে গাড়িতে জোর করে থানায় তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা চালায়। তখন গ্রামবাসীরা গাড়িসহ পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। দাবি তো‍‌লে বিনা কারণে কেন গ্রামবাসীদের নিয়ে যাওয়া হবে? এমন প্রতিবাদে পুলিশ নির্বিচারে লা‍‌ঠি চালাতে শুরু করে। মানুষদের হটিয়ে দিয়ে রামা সুখী সহ দুইজন গ্রামবাসীকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। তারপর ‍‌পোশাক পরা পু‍‌লিশ সহ সাদা পোশাকের কিছু লোক গ্রামের মধ্যে তাণ্ডব চালিয়ে ১২টির অধিক সাধারণ মানুষের ঘর ভাঙচুর চালায়। এলাকায় সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের এমন আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি এক চিত্র সাংবাদিক। পু‍‌লিশ ম‍‌হিলাদের ওপরও লাঠিচার্জ করে। এতে কমবেশি ১৫/২০ জন আহত হয়েছে।

Featured Posts

Advertisement