জন্মের শহরে চে-র ছবি বাসে,
অভিমান মেসিকে নিয়ে

  ১৪ই জুন , ২০১৮

১৩ই জুন- শহর রোজারিও। বুয়েনস আয়ার্স থেকে ২৯০ কিলোমিটার দূরে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বৃহত্তম শহর। শেষ পর্যন্ত দুনিয়া এই শহরকে চেনে বিশ্ব-বিপ্লবী চে গুয়েভারা ও ফুটবলের দুনিয়ায় শিখরশীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির জন্মস্থান হিসাবে। ৯০ বছর আগে ১৪ই জুন এই শহরে জন্মেছিলেন এর্নেস্তো গুয়েভারা, বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দিয়ে যাঁর ডাকনাম হয় ‘চে’। রোজারিও থেকেই তাঁর মহাদেশকে চিনতে মোটরসাইকেলে বেরিয়ে পড়েছিলেন চিকিৎসক চে। চিলির তামার খনিতে, গুয়াতেমালার বস্তিতে শ্রমজীবী মানুষের গভীর সংস্পর্শ তাঁকে চিনিয়ে দেয় কে শত্রু, কে মিত্র। মেক্সিকোয় শেষ পর্যন্ত ফিদেল কাস্ত্রো ও কিউবার বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ। চে হয়ে ওঠেন কিউবার বিপ্লবের অন্যতম নেতা। কঙ্গো থেকে বলিভিয়া— দুনিয়ার মুক্তির লড়াইয়ে মতাদর্শের ক্ষুরধার অস্ত্র, কাঁধে রাইফেল নিয়ে চিরযাত্রী চে।

রোজারিও শহরে চে-র ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে পৌরসভা বিশেষ বাস চালু করেছে। চে-র ছবি আঁকা বাস চলতে শুরু করেছে বুধবারই। মধ্য-বাম সোশ্যালিস্টরা পৌরসভা চালাচ্ছে। তাদের ঘোষণা, চে এ-শহরের গর্ব। তাঁর জীবন মানুষের জন্য ত্যাগের উদাহরণ। রক্ষণশীল, দক্ষিণপন্থীদের আবার চে-র নামে আপত্তি রয়েছে। শহরে চে গুয়েভারা স্কোয়ারে তাঁর মূর্তি থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল মার্কিন-পন্থী রাজনৈতিক শক্তি। এমন সময়ে যখন গোটা বিশ্বে চে উচ্চারিত হচ্ছেন পরম সম্ভ্রমে।

মেসি রোজারিও ছেড়ে চলে গেলেও চলে যাননি কখনোই। ভাঙাচোরা বাড়ি রয়ে গেছে আজও। রাশিয়ায় যখন বিশ্বকাপের দামামা বেজে গেছে, মেসি প্রায় প্রতিদিন আলো করে থাকছেন সংবাদমাধ্যম, তখন প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বালক মেসির ছবি নিয়ে ডুব দিচ্ছেন স্মৃতির প্রহরে। রোজারিও ফুটবলের শহর, এ শহরের অনেক ফুটবলার-কোচই জাতীয় স্তরে খেলেছেন। শহরের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোজারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েল ওল্ড বয়েজের দ্বন্দ্বই শহরবাসীর কাছে ফুটবলের মূল লড়াই। মেসি খেলতেন নিউয়েলে। সেখান থেকে বার্সেলোনার লা মাসিয়ার ফুটবল আকাদেমিতে। রোজারিওর জন্য, আর্জেন্টিনার জন্য এখনও কোনও সোনার ট্রফি জেতেননি তিনি— অন্তঃসলিলার মতো এই অভিমানই রোজারিওতে যেন খানিকটা ‘উপেক্ষিত’ রেখেছে মেসিকে। তাঁর শৈশবের স্কুলের দেওয়ালে ছোটবেলার মেসির এক ম্যুরাল আছে। আবাল্যের বান্ধবীকে বিয়ে করতে গত বছরে রোজারিওতে এসেছিলেন মেসি। ছোটবেলায় যে মাঠে খেলতেন সেখানে তাঁর বন্ধুরা এক বিরাট ম্যুরাল আঁকিয়েছেন তখন। গ্রহপুঞ্জের মধ্যে মেসি, লেখা রয়েছে ‘অন্য কোনো গ্রহ থেকে, আমার পাড়া থেকেও’। কিন্তু পর্তুগালে রোনাল্ডোর নামে বিমানবন্দর আছে, পেলের নামে ব্রাজিলে মিউজিয়াম রয়েছে, রোজারিওতে তেমন কিছুই নেই মেসির নামে। মারাদোনা বরং অনেক বেশি সম্মানিত। মারাদোনা যে-বছর দেশকে বিশ্বকাপ দেন, মেসির জন্ম তার পরের বছরে। অথচ একের পর এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, তাঁর প্রিয় স্মৃতি রোজারিওর বাড়ি, পাড়া। পাড়ার বন্ধুদের অনেকের সঙ্গেই এখনও হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন, সুখ-দুঃখ ভাগ করেন।

গত বছরে মেসির বিয়ে নথিভুক্ত করতে এসেছিলেন শহরের চিফ রেজিস্ট্রার গঞ্জালো কারিল্লো। সাংবাদিকরা ধরেন তাঁকে, এই নথিই নিশ্চয়ই রোজারিওর রেজিস্ট্রিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি? ‘মোটেই না’, উত্তর কারিল্লোর। ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চে গুয়েভারার বার্থ সার্টিফিকেট’, দ্বিধা না রেখেই বলেছিলেন তিনি।

Featured Posts

Advertisement