চ্যাংরাবান্ধাকে পূর্ণাঙ্গ স্থল
বন্দরে উন্নীত করার দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জুন , ২০১৮

মেখলিগঞ্জ, ১৩ই জুন— চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরকে বেনাপোলের ধাঁচে "ইন্টিগ্রেটেড পোর্টে পরিণত করার দাবি উঠল চ্যাংরাবান্ধায়। ভুটান, নেপাল ও ভারতের সাথে বাংলাদেশের চ্যাংরাবান্ধা পোর্টের মাধ্যমে ব্যবসা চললেও এই স্থলবন্দরের কোনও উন্নয়ন হয়নি। অথচ এখান থেকেই গড়ে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেস থেকে বি জে পি এমনকি রাজ্যের শাসকদল পোর্টের উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও কোনও লাভ হয়নি। পোর্টের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন চেক পোস্টের অবস্থাও তথৈবচ। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী সফরে এসেও দিয়েছেন প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্মারকলিপিও গেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এখন নবান্ন থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় কিনা সেটাই দেখার!

চ্যাংরাবান্ধা দিয়ে সড়ক বাণিজ্যে ভারত সরকারের মুনাফা হলেও উন্নয়ন হয়নি এই পোর্টের। নেই কোনও আধুনিক ওয়্যার হাউস। এপথ দিয়ে বাংলাদেশে যায় কাঁচামাল। অথচ এখানে কোনও পরীক্ষাগার নেই। ফলে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট আসতে সময় বেশি লেগে যাচ্ছে।

বামফ্রন্ট আমলে যে ট্রাক টার্মিনাস গড়ে উঠেছিল তার রক্ষণাবেক্ষণও হয়নি সঠিকভাবে। গত সাত বছরে ট্রাকের সংখ্যা বেড়েছে অনেক। দাবি উঠেছে নতুন ট্রাক টার্মিনাসের। সেই দাবি নিয়ে রাজ্য সরকার চুপ। রাস্তার ওপর শয়ে শয়ে লরি দাঁড়িয়ে থেকে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় প্রতিদিন। জেলা প্রশাসনও উদাসীন।

রাজ্য সরকার চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদ ঠিক কি কাজের জন্য গঠন করেছিল সেটা নিয়েও এই এলাকার মানুষের কোনও স্বচ্ছ ধারণা নেই। উন্নয়ন পর্ষদের নিজেরই এখনও মাথার ওপর ছাদ নেই। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এই পর্ষদ।

হাজারও সমস্যায় হাসফাঁস করছে চ্যাংরাবান্ধা। অভিযোগ এখানকার ইমিগ্রেশন চেকপোস্টও বিদেশিদের কাছে দেশের লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক কারণেই প্রতিদিন এই চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাশপোর্ট নিয়ে কয়েকশো পর্যটক যাতায়াত করেন। অথচ তাদের অপেক্ষা করতে হয় খোলা আকাশের নিচে। সামান্য আধুনিক শৌচাগারের ব্যবস্থাও করতে পারেনি সরকার। চ্যাংরাবান্ধার সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বামপন্থীরা লড়ছে। বুধবার এখানকার নব নির্বাচিত নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য সুনির্মল গুহ ২৩দফা দাবিতে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রীসহ বিধায়ক, সাংসদ, জেলাশাসকদের।

এদিকে বাংলাদেশে ঈদের ছুটির জন্য বুধবার থেকে এক সপ্তাহ চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করলেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। ফের ২২শে জুন থেকে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটানের সাথে বাণিজ্য চালু হবে। এতদিন শুক্রবার ব্যবসা বন্ধ থাকত। ভুটানের আবেদনে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সাপ্তাহিক ছুটি তুলে নিচ্ছে। এর ফলে ২২শে জুন থেকে সপ্তাহে ৭দিনই স্থল বাণিজ্য চালু থাকবে। জানা গেছে, শুক্রবার শুধু ভুটান এক্সপোর্ট অ্যাসোশিয়েশন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাদের পণ্যসামগ্রী বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। আর শুক্রবার ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রপ্তানি করতে পারবে। রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই নতুন ব্যবস্থা বলে জানানো হয়েছে। এতে ভারত সরকারের আয়ও অনেকটাই বাড়বে।

Featured Posts

Advertisement