বার্নপুরে তিন শহীদের স্মরণসভা
বিভাজনের রাজনীতি রুখতে লড়াই
জোরদার করুন: সুজন চক্রবর্তী

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জুন , ২০১৮

বার্নপুর, ১৩ই জুন — তৃণমূল এবং বি জে পি একই উঠানে ঘর করে। জামা বদলের জন্য আলাদা আলাদা ঘর। এরা একে অন্যের পরিপূরক। তৃণমূল বি জে পিকে ঠেকাবে না, আবার বি জে পি-ও তৃণমূলকে ঠেকাবে না। ওরা বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করে রাখতে চায়। এদের হাত থেকে বাংলা, দেশকে বাঁচাতে হবে। মানুষ পথে নেমেছেন। লড়াই আরও জোরদার করে তুলুন। মঙ্গলবার বার্নপুরে এই আহ্বান জানান সি পি আই (এম)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। পার্টির বার্নপুর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে এদিন প্রান্তিক ময়দানে বার্নপুরের তিন শহীদ কমরেড দিলীপ সরকার, কমরেড অর্পণ মুখার্জি ও কমরেড নির্গুণ দুবের স্মরণে সমাবেশ হয়। সমাবেশে সুজন চক্রবর্তী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্টির জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরি। সভাপতিত্ব করেন দীপায়ন রায়।

সুজন চক্রবর্তী বলেন। বার্নপুর লড়েছে ইস্কো বাঁচাবার জন্য। মানুষের ঐক্য গড়ে তুলে লড়াই দিয়েছে বার্নপুর। সেই বার্নপুরেই এখন বার্নস্ট্যান্ডার্ড ওয়াগন কারখানা বন্ধ হয়ে গেল। লড়াইয়ের নেতাদের পর পর খুন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে।

ইস্কোর শ্রমিক আন্দোলনের নেতা কমরেড নির্গুণ দুবেকে ২০১১ সালের ৫ই জুলাই প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করা হয়। শ্রমিক নেতা বামাপদ মুখার্জির একমাত্র পুত্র সন্তান পার্টি সদস্য কমরেড অর্পণ মুখার্জিকে প্রাতঃভ্রমণের সময় গুলি করে খুন করা হয় ২০১২ সালের ১০ই মে। পার্টির অবিভক্ত বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড দিলীপ সরকারকে প্রাতঃভ্রমণের সময় গুলি করে খুন করা হয় ২০১৩ সালের ৯ই জুন। খুনিদের কাউকে আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সভায় সুজন চক্রবর্তী বলেন, বি জে পি এবং তৃণমূল দুই দলেরই ভয় কমিউনিস্টদের। কমিউনিস্টরা লড়াইয়ে আছে। মিথ্যা মামলা, খুন সন্ত্রাস দিয়েও বামপন্থীদের দমানো যায়নি, যাবেও না। বার্নস্ট্যান্ডার্ড, এইচ সি এল, এম এ এম সি নিয়ে তৃণমূলের কোনও উদ্বেগ নেই। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন বার্নস্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আবির খেলেছিল তৃণমূল। এম এ এম সি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যাক্স দেখিয়েছিলেন নেত্রী। ছল-কপট ও মিথ্যার রাজনীতি। মানুষের অধিকার হরণ করে মানুষকে তাঁবেদার বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। ভালো রেজাল্ট করেছো সেটা ভর্তির মাপকাঠি নয়। আমায় ‘খুশি’ করো, সেটাই মাপকাঠি। ২টাকা কেজি দরে চাল চাও, আমায় খুশি করো। পঞ্চায়েত ভোটে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজে খুশি হয়েছেন, ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু এদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এদের পি এফ দেওয়া হচ্ছে না।

মঙ্গলবার সুজন চক্রবর্তী আসানসোলে সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহত নুরানি মসজিদের ইমাম ইমদাতুল্লা রশিদির কাছেও গিয়েছিলেন। তার ছেলে শিবগাতুল্লা রসিদি মাধ্যমিকে ৪১২ নম্বর পেয়েছে। পুত্রহারা ইমাম এদিনও বলেছেন, শান্তি দরকার। মানুষকে নিয়ে একসাথে চলা দরকার।

Featured Posts

Advertisement