জেরুজালেমে মুসলমান এবং কমিউনিস্টদেরই
প্রধান শত্রু হিসাবে ঘোষণা হিন্দুত্ববাদী নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই জুন , ২০১৮

কলকাতা, ১৩ই জুন —জেরুজালেমে পা রেখেছেন মমতা ব্যানার্জির প্রতি সহানুভূতিশীল রাজ্যের এক প্রবল হিন্দুত্ববাদী নেতা। তিনি তপন ঘোষ। সেখানে গত দুদিনে একাধিক আলোচনাসভায় বক্তব্য রেখেছেন ‘হিন্দু সংহতি’-র এই নেতা। তিনি তেল আভিভে বসে একটি সাক্ষাৎকারে ইহুদি এবং হিন্দুরা মিলে কীভাবে মুসলমানদের ধ্বংস করতে পারে, তার সম্পর্কে বিশদে বলেছেন। ‘দা জেরুজালেম হেরাল্ড’-এ প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারে মুসলমান এবং কমিউনিস্টদের প্রধান শত্রু বলে ঘোষণা করেছেন।

তপন ঘোষ হিন্দু সংহতির নেতা। রাজ্যে যখন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এবং তৃণমূল কংগ্রেস পাল্লা দিয়ে ইন্ধন জোগাচ্ছে, তখন মমতা ব্যানার্জির প্রতি সহানুভূতিশীল এই হিন্দুত্ববাদী নেতার জেরুজালেম যাওয়া, সেখানে বৈঠক, সভা করাকে যথেষ্টই আশঙ্কার। ১৯৭০-’৭১-এ তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সদস্য হন। পরবর্তীকালে তিনি ‘হিন্দু সংহতি’ সংগঠন গড়ে তোলেন। বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে রাজ্যে এই তীব্র সংখ্যালঘু বিদ্বেষী সংগঠনটি বিশেষ কোনও দাগ ফেলতে পারেনি। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, গত সাত বছরে রাজ্যে একাধিক সভা করেছেন তপন ঘোষ। নানা কর্মসূচি শুরু করেছেন মমতা ব্যানার্জির শাসনে। এমনকি দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ যখন শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্যালেস্তাইনের নিরীহ মানুষের উপর ইজরায়েলের জায়নবাদী শাসকের হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তখন ইজরায়েলের পক্ষে সমাবেশও করেছে হিন্দু সংহতি। সেই সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা নিঃশব্দে হাজির হয়েছেন জেরুজালেমে, যখন তা রক্তাক্ত, বিধ্বস্ত। সেখানে তিনি মুসলমান এবং কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে হিন্দু-ইহুদি ঐক্যের কথা বলেছেন।

গত রবিবার তপন ঘোষ ইজরায়েলে গিয়েছেন। তার সঙ্গে আছেন হিন্দু সংহতির আর এক নেতা দেবদত্ত মাজি। সাত দিনের এই সফর। ইজরায়েলের সেন্টার ফর পাবলিক ডিপ্লোম্যাসির আমন্ত্রণে তাঁরা সেখানে গিয়েছেন। হিন্দু সংহতি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সংগঠনের মাধ্যমে সামরিক বিষয়ে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এবং ইজরায়েল সেনবাহিনীর প্রাক্তন কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে তপন ঘোষের সাক্ষাৎ হবে। গত রবিবার, সোমবার তেল আভিভে দুটি আলোচনাসভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। দিয়েছেন ওই সাক্ষাৎকারটিও।

উল্লেখ্য, তপন ঘোষ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে কোনোভাবে বিব্রত করতে রাজি নন। এমনকি মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে কোনও কথা বলতেও তিনি রাজি নন। ২০১৭-র ২৭শে মার্চে ফেসবুকে এক বন্ধুকে তিনি স্পষ্ট লেখেন,‘‘আমি মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে কোনও কথা বলতে চাই না। ...আমি মনে করি মোদীজি পশ্চিমবঙ্গের লিজ মমতাকে দিয়ে রেখেছেন। সেই লিজ ছাড়িয়ে নেওয়ার কোনও লক্ষণ এখনও আমি দেখতে পাইনি। আমি তো মোদী ভক্ত। তাই মোদীজির কাজের বিরুদ্ধে যেতে চাই না।’’ ২৯শে মার্চ তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন কমিউনিস্টরা শিক্ষিত বাঙালির মন অধিকার করে থেকেছে। মার্কসিজম অধিকার করে রেখেছিল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের। এখনও সবটা যায়নি। কমিউনিস্টদের জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ‘হুল’ ফোটাতে পারেনি হিন্দুত্ববাদ। এখন নরেন্দ্র মোদী ইচ্ছা করেই মমতা ব্যানার্জিকে পশ্চিমবঙ্গের ইজারা দিয়ে রেখেছেন।’’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement