মানুষের ঐক্য গড়ে
লড়েছে বার্নপুর: নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জুন , ২০১৮

বার্নপুর, ১৩ই জুন— একই উঠানে ঘর করে তৃণমূল এবং বি জে পি। জামা বদলের আলাদা আলাদা ঘর। একে অন্যের পরিপূরক। তৃণমূল-বি জে পি’কে ঠেকাবে না, আবার বি জে পি’ও তৃণমূলকে ঠেকাবে না। ওরা মানুষকে বিভক্ত করে রাখতে চায়। এই দুই শক্তির হাত থেকেই এখন রাজ্য, দেশকে বাঁচাতে হবে। সেই লড়াই এখন জোরদার করে তুলুন। মঙ্গলবার বার্নপুরে এই আহ্বান জানান, সি পি আই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। পার্টির বার্নপুর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে প্রান্তিক ময়দানে বার্নপুরের তিন শহীদ কমরেড দিলীপ সরকার, কমরেড অর্পণ মুখার্জি ও কমরেড নির্গুণ দুবের স্মরণে সমাবেশ হয়।

ইস্কোর শ্রমিক আন্দোলনের নেতা কমরেড নির্গুণ দুবেকে ২০১১ সালের ৫ই জুলাই দিনেরবেলা গুলি করে খুন করা হয়। শ্রমিকনেতা বামাপদ মুখার্জির একমাত্র সন্তান পার্টি সদস্য কমরেড অর্পণ মুখার্জিকে প্রাতঃভ্রমণের সময় গুলি করে খুন করা হয়। দিনটি ২০১২সালের ১০ই মে। পার্টির অবিভক্ত বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড দিলীপ সরকারকেও ২০১৩ সালের ৯ই জুন প্রাতঃভ্রমণের সময় গুলি করে খুন করা হয়। খুনিদের কেউই আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। দাবি আদায়ের লড়াইয়ের সামনের সারিতেই ছিলেন তাঁরা। বার্নপুর শ্রমিক আন্দোলনের উর্বর জমি। সেখানেই তাই সন্ত্রাসের মাত্রা তীব্র করছে তৃণমূল। অন্যদিকে বিভাজনের রাজনীতিতে মদত জোগাচ্ছে আর এস এস-বি জে পি।

সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সি পি আই(এম)-র এক প্রতিনিধি দল যায় আসানসোল রেলপাড় সংলগ্ন নুরানি মসজিদে। সেদিন তাঁর চোখের এক ফোঁটা জল গোটা আসানসোলের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারতো। নিজের সন্তানের জানাজায় দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে আসানসোলের ইমাম মৌলানা ইমদাদুল রশিদির আহ্বান ছিল, ‘প্রতিহিংসা নয়। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য একটি মানুষের ওপরেও আক্রমণ করা চলবে না। তাহলে আমি এই শহর ছেড়ে চলে যাব’। শুধু এরাজ্য নয়, বিভাজনের আবহে গোটা দেশের কাছেই সম্প্রীতির মুখ হয়ে উঠেছিলেন ইমদাদুল রশিদি। সেই ইমামের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন তাঁরা।

সুজন চক্রবর্তীর সঙ্গে পার্থ মুখার্জি, রানিগঞ্জের বিধায়ক রুনু দত্ত, জামুড়িয়ার বিধায়ক জাহানারা খান প্রমুখ। সম্প্রীতি রক্ষার লড়াইয়ে সর্বশক্তি দিয়ে বামপন্থীরা থাকবে সেকথাও ইমামকে জানান সি পি আই(এম) নেতৃত্ব। সুজন চক্রবর্তী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্টির জেলাসম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরি। সভাপতিত্ব করেন দীপায়ন রায়। ইস্কো বাঁচাবার জন্যই বার্নপুর লড়েছে। মানুষের ঐক্য গড়ে লড়াই লড়েছে বার্নপুর। সেই বার্নপুরেই বার্নস্ট্যান্ডার্ড ওয়াগন কারখানা বন্ধ হয়ে গেল। লড়াইয়ের নেতাদের পর পর খুন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে।

সুজন চক্রবর্তী বলেন, মিথ্যা মামলা, খুন সন্ত্রাস দিয়েও বামপন্থীদের দমানো যায়নি। যাবেও না। বার্নস্ট্যান্ডার্ড, এইচ সি এল, এম এ এম সি নিয়ে তৃণমূলের কোনও উদ্বেগ নেই। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন বার্নস্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আবীর খেলেছিল তৃণমূল। এম এ এম সি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যাক্স দেখিয়েছিলেন নেত্রী। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার হরণ করে মানুষকে তাঁবেদার বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। ভালো রেজাল্ট করেছো সেটা ভর্তির মাপকাঠি নয়। আমায় ‘খুশি’ কর। সেটাই মাপকাঠি। পঞ্চায়েত ভোটে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ২হাজার টাকা বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু এদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement