ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধের
দোকান চলছে কোচবিহারে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জুন , ২০১৮

মাথাভাঙা, ১৩ই জুন— স্বাস্থ্যদপ্তর নিশ্চুপ! আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোচবিহার জেলার অধিকাংশ ওষুধ ব্যবসায়ী ফার্মাসিস্ট ছাড়াই দোকান চালাচ্ছেন। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখে যিনি ওষুধ দিচ্ছেন তার প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দেবার নূন্যতম যোগ্যতাই নেই। অযোগ্য ব্যক্তিদের হাত ঘুরেই জীবনদায়ী ওষুধ আসছে আমজনতার হাতে। দিনের পর দিন এধরনের মারাত্মক অপরাধমূলক কাজ চললেও টনক নড়েনি প্রশাসনের।

কীভাবে ফার্মাসিস্ট ছাড়া দিনের পর দিন চলছে ওষুধের দোকান? কিভাবেই বা এসব দোকানদারের লাইসেন্স রিনিউ হয়ে যাচ্ছে ফি বছরে? চিকিৎসকেরা বলছেন ফার্মাসিস্ট ছাড়া ওষুধের দোকান চলা খুব মারাত্মক চিন্তার বিষয়। ওষুধের মাত্রা, প্রয়োগ বিধি সঠিক না হলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে রোগ বেড়ে যেতে পারে। জীবনহানির অশঙ্কাও থেকে যায়। জেলার ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তর কার্যত "ঠুঁটো জগন্নাথ"। রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। দপ্তরে কর্মী সংকট তীব্র। কোচবিহার জেলা অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর রঞ্জিত মুদি বলেন, জেলাদপ্তরে ৪জন ইন্সপেক্টর ও দুজন সিনিয়র ইন্সপেক্টর থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন সিনিয়ার ইন্সপেক্টর। তিনিই সাধ্যমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর যার ফলে চলছে লাগামহীন অন্যায় কাজ।

কোচবিহার জেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ ওষুধের দোকান আছে। ব্যবসায়ী স্বীকার করছেন অধিকাংশেরই ফার্মাসিস্ট নেই। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওষুধের দোকানেই ফার্মাসিস্ট থাকবার কথা। জানা গেল, জেলায় যারা ফার্মাসিস্ট আছেন, তাঁদের লাইসেন্স ভাড়া নেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। কখনও কখনও একটি লাইসেন্স দিয়ে ৩/৪ জনের ড্রাগ লাইসেন্স রিনিউ হয়ে যায়। আর এসব কাজের জন্য মোটা লেনদেন চলে। যাদের ফার্মাসিস্ট লাইসেন্স আছে তারা তাদের লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে বছরে মোটা টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

প্রশ্ন উঠেছে, এসব কি জানে না জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর? উত্তর লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যদপ্তরের অন্দরেই। সব জেনেশুনেও চুপ আধিকারিকরা। ড্রাগ কন্ট্রোল অফিস কর্মীর অভাবের গল্প শুনিয়ে জেলাজুড়ে ফার্মাসিস্ট ছাড়াই লাইসেন্স রিনিউ করিয়ে দিচ্ছে। ক্রেতা সুরক্ষাদপ্তরও আছে জেলায়। তারাও কিছু করছে না। ফলে ওষুধের বিপণনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বছরের পর বছর অবহেলিত।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement