শিলিগুড়িতে শিশু মৃত্যুর ঘটনার যথাযথ
তদন্তের দাবিতে হাসপাতালে
বিক্ষোভ মহিলা ও যুবদের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জুন , ২০১৮

শিলিগুড়ি, ১৩ই জুন – মহিলা-যুবদের বিক্ষোভের মুখে তদন্ত কমিটি সম্পর্কে মুখ খুললেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার। সদ্যোজাত শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালো সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি ও ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন দার্জিলিঙ জেলা কমিটি। শিশু মৃত্যুর ঘটনার ২৪ ঘন্টা পরেও ঠিক কি কারণে শিশুকন্যার মৃত্যু হলো তা নিয়ে মুখে কুলুপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দার্জিলিঙ জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের। বুধবার দুপুরে সুপারের ঘরের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে চলে মহিলা ও যুবদের বিক্ষোভ। বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক সমাজদার জানান, মোট চারজন সদস্যকে নিয়ে গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটিতে আছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নার্সিং সুপার, শিশু বিভাগ, ল্যাবরেটরি এবং গাইনোকলজি বিভাগের হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট।

সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির দার্জিলিঙ জেলা কমিটির সম্পাদিকা স্নিগ্ধা হাজরা সুপারকে বলেন, শুধুমাত্র লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টিকে যেন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা না হয়। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই ঢিলেঢালা। এখানে লেবার রুমে যখন তখন আয়ারা ঢুকে পড়ছেন বলে এদিন সুপারের কাছে অভিযোগও জানান তিনি। ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের দার্জিলিঙ জেলা কমিটির সম্পাদক সৌরাশিস রায় বলেন, আমরা সুপারকে বলেছি যাতে কোনও রকম চাপের কাছে তিনি যেন নতি স্বীকার না করেন এবং ঘটনার যাতে নিরপেক্ষ তদন্ত হয়। আয়া বা নার্স যার হাত থেকেই পড়ে গিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তাকে খুঁজে বের করে দোষীকে শাস্তি দিতে হবে। আগামী ১৯শে জুন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানিয়েছেন সুপার। এদিনের কর্মসূচিতে মহিলানেত্রী স্নিগ্ধা হাজরা, মণি থাপা, তৃপ্তি ঘোষ এবং যুবনেতা সৌরাশিস রায়, সুদীপ চক্রবর্তী, তাপস চ্যাটার্জি, উদয়ন দাশগুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১১ই জুন প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দার্জিলিঙ জেলার ঘোষপুকুরের বাসিন্দা কল্যাণী রায়। ১২ই জুন সকালে তিনি একটি শিশুকন্যার জন্ম দেন। পরিবারের দাবি শিশুটিকে তার মাকে দেখানো হয় এবং সেসময় শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ্ আছে বলেও জানিয়েছিল নার্সরা। এর পরই শিশুটির বাবা প্রতাপ রায়কে ডেকে কর্মরত নার্সরা জানান, শিশুটি মারা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, কোনও একজন আয়ার হাত থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। কারণ শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

Featured Posts

Advertisement