এম জে এন হাসপাতালে
থ্যালাসেমিয়া ইউনিট বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জুন , ২০১৮

কোচবিহার, ১৩ই জুন— সংকটের মুখে কোচবিহার জেলার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী ও তাদের অভিভাবকরা। কোচবিহার এম জে এন হাসপাতালের বহির্বিভাগে একটি থ্যালাসেমিয়া ইউনিট থাকলেও আক্রান্তদের পরিষেবা দিতে তারা ব্যর্থ। নির্দিষ্ট অপারেটর না থাকায় এই রোগের বাহক নির্ণয় মেশিনটি বন্ধ হয়ে প‍‌ড়ে আছে দীর্ঘদিন। আক্রান্ত রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করতে ছুটতে হচ্ছে বাইরে। আর হাসপাতালে রোগ নির্ণয় না হবার কারণে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্তদের কার্ড হচ্ছে না। এছাড়াও সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রতিনিয়ত রক্ত সংকটের বাহানা দেখিয়ে বারবার ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশ অভিভাবকদের। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদাধিকারীদের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় বুধবার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোচবিহার প্রেস ক্লাবে এসে সমবেত হয়। এই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী ও তাদের অভিভাবকরা এবং তাদের সমস্ত অসুবিধার কথা এদিন সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তাঁরা। ছিলেন উত্তরবঙ্গ থ্যালাসেমিয়া প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থার আহ্বায়ক বিমলকৃষ্ণ বণিক।

তিনি বলেন, এই হাসপাতালে থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয়ের ব্রিলিয়ান্ট অ্যানালাইসিস মেশিন থাকলেও নির্দিষ্ট অপারেটর না থাকায় থ্যালাসেমিয়া বাহকদের রক্ত পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। কিন্তু সবটা জেনেও নীরব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি। শুরু তাই-ই নয়, এই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য হাসপাতাল ব্লাড ব্যাঙ্কে কার্ডের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করতে গেলেও রোগীর অভিভাবক অভিভাবিকাদের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যব্যবহার করেন কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কর্মীরা। এই রক্তের জন্য বারবার ঘুরতে হয় হয় তাদের।

অভিযোগ, এই হাসপাতালের অতিকষ্টে রক্ত জোগাড় করার পর রোগীকে রক্ত দেওয়ার সময় আলাদাভাবে কোনও দেখভাল করা হয় না। রক্ত নিতে গিয়ে এই রোগীরা রক্ত দেওয়ার সময় আলাদাভাবে কোনও দেখভাল করা হয় না। রক্ত নিতে গিয়ে এই রোগীরা যদি কোন শারীরিক সমস্যার মধ্যে পড়েন, তাহলে এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কোনও চিকিৎসকের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালের অন্যান্য রোগীদের সাথেই রাখা হয় এই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত রক্তের জোগানসহ এই রোগের বাহক নির্ণয় মেশিন অপারেটর অবিলম্বে নি‍‌য়োগ করা, কোচবিহার এম জে এন হাসপাতালে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন তাঁরা। এছাড়াও শরীরে রক্ত নিতে হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন এই রোগীদের সবসময় দেখভালের জন্য একজন করে চিকিৎসক নিয়োগ করা, পাশাপাশি একজন হেমোটলজিস্ট নিয়োগেরও দাবি তোলেন এই অভিভাবক ও অভিভাবিকারা। সর্বোপরি এই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের নিখরচায় বাস কিংবা ট্রেনে যাতায়াতের ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিকভাবে পি‍ছিয়ে পড়া পরিবারের এই রোগীদের ভাতার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তাঁরা।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুমিত গাঙ্গুলি জানান, আগামী মাসের মধ্যেই থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয়ের ব্রিলিয়ান্ট অ্যানালাইসিস মেশিন অপারেটর নিয়োগ করা হবে।

Featured Posts

Advertisement