সাক্ষরতার পর পরিবেশ রক্ষা
বিরল সাইকেলে যাত্রা শুরু দেবেন্দ্রনাথের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৪ই জুন , ২০১৮

তমলুক, ১৩ই জুন — তাঁর সাইকেলে নেই কোনও সিট। নেই চেন, নেই ব্রেক। নেই বেল। কেবল দুটি চাকাই সম্বল। সেই ডেক, চেন, সিটবিহীন সাইকেল নিয়েই আগামী ১৭ই জুন ভারত ভ্রমণে রওনা দেবেন সবংয়ের সাতমাই গ্রামের অবিবাহিত যুবক দেবেন্দ্রনাথ বেরা। ২৯টি রাজ্যসহ সব কেন্দ্রশাসিত রাজ্যে যাবেন স্বচ্ছতার বার্তা নিয়ে। ভারতকে নির্মল কর। নিজেকে নির্মল রাখ। পরিবেশকে পরিষ্কার রাখ। সুস্থ ভারত গড়ার দাবি নিয়েই এবার দেবেন্দ্রনাথ বেরার এই পরিকল্পনা।

১৯৯০ যখন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় পালিত হচ্ছিল ক্ষুদিরাম বসু জন্মশতবার্ষিকী, তখন তিনি সাইকেল নিয়েই শুরু করেছিলেন পরিভ্রমণ। সবংয়ের দেহাটি গ্রামে তার সাইকেল যাত্রার উদ্বোধন করে‍‌ছিলেন তৎকালীন সভাধিপতি হরেকৃষ্ণ সামন্ত, সেবার গোটা মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি ব্লক এলাকা ঘুরেছিলেন তিনি। ১৪ই ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাস ধরে তিনি ঘুরেছিলেন জেলায়।

১৯৯২ সালে ‘সাক্ষরতা ও রোগ প্রতিরোধ’ বার্তাকে সামনে রেখে শুরু করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পরিক্রমা। প্রতিটি জেলায় ঘুরেছিলেন তার আশ্চর্য সাইকেলে। মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর মূর্তির সামনে সেই যাত্রার উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, কমরেড সুকুমার সেনগুপ্ত। অতিক্রম করেন চার হাজার কিমি পথ। ফের ১৯৯৪-র ৯ই ডিসেম্বর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি’ রক্ষায় শুরু হয় তার ভারত ভ্রমণ। ২৮টি রাজ্যই অতিক্রম করেন তিনি। ১৯৯৫-র ১৭ই এপ্রিল ফিরে আসেন কলকাতায়। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী সাহায্যের হাত বাড়ি‍‌য়ে দিয়েছিলেন তাঁকে।

সবংয়ের দুই শিক্ষক শান্তনু অধিকারী এবং গৌতমদেব পাত্র নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন তাঁকে। দেবেন্দ্রনাথ বেরা জানান, ‘‘সাধারণ সাইকেল নিয়ে তো সকলেই যেতে পারে। যে সাইকেলের ব্রেক, চেন, গিয়ার, সিট কিছুই নেই — এমন সাইকেল চালাতে পারে ক’জন?

তাঁর এই নৈপুণ্য অবশ্য অতীতে দেখেছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, আব্দুল হালিম, সুব্রত মুখার্জি, সুভাষ চক্রবর্তীরা। এক হাত দিয়ে চাকা ঘুরিয়ে সাইকেল চালাবেন তিনি। সাইকেল হলো দূষণহীন যান। আজকাল পেট্রলের দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে। মানুষ যদি এসময় সাইকেলকে বেছে নেয় পরিবেশবান্ধব যান হিসাবে তবে পরিবেশেরই উপকার হবে।

ডেবরা থেকে কলকাতা, শিলিগুড়ি হয়ে তিনি যাবেন কোচবিহার। মূলত প্রথমে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে যাবেন। ফিরে সিকিম হয়ে বিহার, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি হয়ে কাশ্মীর। এরপর দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি হয়ে ওডিশা, ঝাড়খণ্ড হয়ে ফিরবেন। প্রতিটি রাজ্যের রাজধানীতে গিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজেও হাত লাগাবেন তিনি। অবশ্য তিনি একা যাচ্ছেন না। তার সঙ্গে যাচ্ছেন এক সঙ্গী আকাশকুমার করণ। তিনি অবশ্য ভালো সাইকেল নিয়েই যাচ্ছেন। প্রায় ৮ মাস ধরে চলবে দেবেন্দ্রনাথের চেন, ব্রেক, গিয়ার, সিটবিহীন সাইকেলে ভারত ভ্রমণ।

Featured Posts

Advertisement