রোগীর দেহে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায়
ফুসফুস, কিডনির মারাত্মক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই জুন , ২০১৮

কলকাতা, ১৩ই জুন— অস্ত্রোপচারের রোগীর দেহে এবার ভুল গ্রুপের রক্ত দিল সল্টলেকের এক নামী বেসরকারি হাসপাতাল। চিকিৎসকদের এই উদাসীনতার জেরে রোগীর ফুসফুস আর কিডনি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার পরে রোগীর জটিল অবস্থাকে কাটিয়ে তোলা দূর অস্থ। রোগীর চিকিৎসার জন্য আরও লক্ষ টাকা না দিলে চিকিৎসা বন্ধের হুমকি নাকি দিয়েছে ওই বেসরকারি হাসপাতাল। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ করে লাভ না হওয়ার রোগীর পরিজনরা এবারে শহরের নামী ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন।

অভিযোগে অভিজিৎ সাহা নামে এক যুবক জানিয়েছেন, গত ৫ই জুন তাঁর স্ত্রীকে তিনি সল্টলেকের এক হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের দিন ধার্য করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অস্ত্রোপচারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকাও জমা দিতে হয়েছিল অভিজিৎ সাহাকে। অস্ত্রোপচারের শুরুতে আড়াই লক্ষ টাকা দেন তিনি। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরই বাধে বিপত্তি।

সংবাদ সংস্থায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোগীর স্বামী অভিজিৎ সাহা অভিযোগ করেছেন, অস্ত্রোপচারের সময় ভুল গ্রুপের রক্ত ব্যবহার করার জেরেই তাঁর স্ত্রীর শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। ফুসফুস ও কিডনিতে সংক্রমণ ধরা পড়ে।

চিকিৎসকদের অবহেলার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বামী। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি গত ৫ই জুন আমার স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় ভুল গ্রুপের রক্ত ব্যবহারের জেরে আমার স্ত্রীর ফুসফুস ও কিডনিতে সংক্রামণ দেখা দিয়েছে। আমি যখন গোটা বিষয়টির প্রতিবাদ করি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উলটে চাপ দিতে শুরু করেছে।’

এরপরে যে অভিযোগটি ওই রোগীর স্বামী করেছেন তা আরও মারাত্মক। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে টাকা না মেটালে রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হবে হুমকি দেওয়া হয়।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এহেন হুমকির মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন রোগীর স্বামী। চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রীকে গোটা ঘটনায় হস্তক্ষেপের আরজি জানান তিনি।

রোগীর পরিবারের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়, স্বাস্থ্যসচিব, বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মঙ্গলবার আবারও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন রোগীর স্বামী।

রোগীকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়া প্রসঙ্গে হাসপাতালের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের ঘটনা এই প্রথম নয়। একাধিকবার ঘটেছে। বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে উঠেছে বাড়তি চিকিৎসা বিল নিয়েও উঠেছে অনেক প্রশ্ন।

এর আগেও যুবভারতী স্টেডিয়ামের উলটোদিকে অবস্থিত ওই বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এর আগে তিন মাস ধরে ষাটোর্ধ্ব রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। ওই অভিযোগ আদালত পর্যন্ত যায়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে ছাড়া পান রোগী। এবার অস্ত্রোপচারের সময় ভুল গ্রুপের ব্যবহার করে রোগীকে ফুসফুস ও কিডনি নষ্টের অভিযোগ উঠে এল।

Featured Posts

Advertisement