কলকাতায় পালিত
অধিকার রক্ষা দিবস

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই জুন , ২০১৮

কলকাতা, ১৩ই জুন— কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে পালিত হলো ‘অধিকার রক্ষা দিবস’। কোনোরকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ১৯৮৫সালের ১০ই জুন ৫জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। সেই আন্দোলনের ফলে বরখাস্ত হওয়া ৫জন কর্মচারীকে পুনরায় কাজে বহাল করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হিসাবে প্রতিবছর নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ১০ই জুন অধিকার রক্ষা দিবস পালন করেন কর্মচারীরা। এবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা দিনটিকে স্মরণ করেছেন এক রক্তদান শিবির ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদসভার মধ্যে দিয়ে।

এতদিন শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার অধিকার ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে। আইন সংশোধন করে রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত থেকে সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এবার শিক্ষক, আধিকারিক, কর্মচারীদের বেতন হবে সরকারি ব্যবস্থাপনা ট্রেজারির মাধ্যমে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৬ই জুন কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে সভার আয়োজন করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারি সমিতি। এছাড়া বুধবার এক রক্তদান শিবিরের মধ্যে দিয়ে অধিকার রক্ষা দিবস পালন করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। ৫জন মহিলাসহ মোট ১০৭জন রক্ত দেন। গত ১০ই জুন ছুটি থাকার জন্য ওইদিন অধিকার রক্ষা দিবস পালন করতে পারেননি কর্মচারীরা। তাই দিনটির তাৎপর্য স্মরণ করে প্রতিবাদসভা ও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন কর্মচারীরা।

গত ৬ই জুনের সভায় বক্তারা বলেছেন, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিজস্ব অর্থ যা সঞ্চিত রয়েছে সেগুলি হস্তগত করার পরিকল্পনা নিয়েই রাজ্য সরকার আইন সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আর্থিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। চলতি মাসে রবীন্দ্রভারতী, পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য ও প্রাণীবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারীদের বেতন হয়েছে সরকারি ট্রেজারির মাধ্যমে। এভাবে নানা কায়দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাবর, অস্থাবর কুক্ষিগত করার সরকারি অভিসন্ধির বিরুদ্ধে সমস্ত কর্মচারীকে একজোট হয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানান বক্তারা। ওইদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি অভিজিৎ চৌধুরি, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চক্রবর্তী ও পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন ঘোষ।

Featured Posts

Advertisement