সীমান্তে ফের সংঘর্ষ,
নিহত চার জওয়ান -- পাঁচ বছরে সবথেকে বেশি মৃত্যু এবছরেই

পাকিস্তানে মৃত্যু গ্রামবাসীর

সংবাদসংস্থা   ১৪ই জুন , ২০১৮

জম্মু ও ইসলামাবাদ, ১৩ই জুন— সীমান্ত ফের উত্তপ্ত গুলি বিনিময়ে। ফের ঝরল রক্ত। পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলিতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা জেলায় একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডান্টসহ তাদের চার জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বি এস এফ। এদিনই একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, সীমান্তে গুলি বিনিময়ে এবছর এখনও পর্যন্ত ১১জন বি এস এফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালানোর অভিযোগ তুললেও পাকিস্তান বুধবার সমন পাঠিয়েছে অস্থায়ী ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে। পাকিস্তানের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতের গুলিতে পাকিস্তানের বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বি এস এফ-এর দাবি, এদিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিনা প্ররোচনায় পাকিস্তান গুলি চালাতে শুরু করে। আশরফে পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকি থেকে ধেয়ে আসে গুলি চাম্বিলিয়ালের সীমান্ত চৌকি লক্ষ্য করে। ভারতের তরফেও পালটা গুলি চালানো হয়েছে। বি এস এফ-র এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, পাকগুলিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডান্ট জিতেন্দ্র সিং, এস আই রজনীশ, এ এস আই রাম নিবাস, কনস্টেবল হংসরাজের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বি এস এফ আরও দাবি করেছে, তারা শর্তসাপেক্ষে সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্তের সম্মান জানালেও পাকিস্তান তা করেনি। পাকিস্তান এমন কিছু অস্ত্র ব্যবহার করছে, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়াও মর্টার হানাও চলছে। বি এস এফ-র ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, পাকিস্তান সীমান্ত রক্ষীবাহিনী গুলি চালানো শুরু করতেই একদল বি এস এফ জওয়ান তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়। আরেক দল বি এস এফ জওয়ান জিতেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে পৌঁছায় জম্মুর রামগড় সেক্টরে। সেইসময়ই পাকিস্তানের দিক থেকে এক মর্টার হানায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তাঁরা। জখমদের চিকিৎসা চলছে সেনা হাসপাতালে। বি এস এফ জানিয়েছে, নিহত জিতেন্দ্র সিংয়ের তিন বছরের সন্তান রয়েছে।

রামগড়ের চাম্বিলিয়ালে মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা থেকে ভোর সাড়ে চারটে পর্যন্ত টানা পাকিস্তান গুলি চালায় বলে দাবি করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের এক পুলিশ আধিকারিক। বি এস এফ-ও পালটা জবাব দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিন সকালে ফের গুলি চালাতে শুরু করে পাকিস্তান, এমনই অভিযোগ। এই নিয়ে এ মাসে দুবার আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর বড়সড় সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করল পাকিস্তান। প্রাগওয়াল, কানাচক এবং খৌর সেক্টরে পাকিস্তানের গুলিতে দুই বি এস এফ জওয়ান প্রাণ হারান এবং ১০জন জখম হন। তাঁরা অধিকাংশই সাধারণ মানুষ বলে দাবি সেনাবাহিনীর। জানা গিয়েছে, ওই গুলি বিনিময়ের পরের দিনই ৪ঠা জুন কম্যান্ডার পর্যায়ের একটি বৈঠকে পাকিস্তান আশ্বাস দিয়েছিল, তারা সীমান্তের ওপার থেকে কোনও গোলাবর্ষণ হবে না। কিন্তু, এদিনও ফের পাকিস্তানই প্রথম গুলি চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী।

এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ, মঙ্গলবার চিরিকোট সেক্টরে ভারতের ছোঁড়া গুলিতে এক গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বিনা প্ররোচনায় সেই গুলি চালানোর ঘটনায় ভারতের আচরণে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। সমন পাঠিয়েছে পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতের অস্থায়ী রাষ্ট্রদূতকে। পাকিস্তানের দাবি, এ বছর নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারত ১১০০’রও বেশিবার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে। তার জেরে ২৯জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং জখম হয়েছেন ১১৭জন। আবার ভারতের অভিযোগ, এবছর পাকিস্তান অন্তত পক্ষে ১২০০ বার সীমান্তের ওপার থেকে আক্রমণ হেনেছে। প্রাণ হারিয়েছেন ৫১জন, তাঁদের মধ্যে ২৫জন নিরাপত্তা বাহিনীর।

কংগ্রেস বুধবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, ‘নরেন্দ্র মোদী সীমান্ত সুরক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দুর্বল এবং কাপুরুষোচিত আচরণ করছে তারা। গত চার বছর ধরেই গেরুয়াবাহিনী সীমান্ত সুরক্ষায় কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বি জে পি নিজেদের ব্যর্থতার দায় পাকিস্তানের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে এদিনও। প্রতিটি ঘটনার মতোই জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এদিনও বি এস এফ জওয়ানদের মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement