কাউন্সিলরকে ঘেরাও
জলবন্দি বাসিন্দাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৪ই জুন , ২০১৮

কলকাতা, ১৩ই জুন— বৃষ্টির ২৪ ঘণ্টা পরেও জল না নামায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিলজলার রায়চরণ ঘোষ লেনের বাসিন্দারা। বুধবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খানের ছেলে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ খানকে বাসিন্দারা ঘেরাও করে রাখলেন দীর্ঘ সময়। অবশেষে নিকাশি বিভাগের কর্মী-আধিকারিকরা পাম্প চালিয়ে জল নামানোর কাজ শুরু করলে কাউন্সিলরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ খানও ঘটনাটি স্বীকার করে নিয়েছেন। এদিকে নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃষ্টি হলে জল জমবে না এমন গ্যারান্টি কোনও দিন দেইনি। তবে দু-চার দিন ধরে জমে থাকবে না।

মঙ্গলবার ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টিতে মহানগরের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত জলের তলায় চলে যায়। ২৪ ঘণ্টা পরেও শহরের একাধিক জায়গা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুষ্টিয়া পার্কের পাশ দিয়ে খানিকটা এগিয়ে গেলেই রায়চরণ ঘোষ লেন। সেখানে এদিন বিকাল ৪টে নাগাদও হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে। এই জলমগ্ন এলাকায় বাসিন্দাদের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে সকালে গিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ খান। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাঁকে দেখে প্রথমে বিক্ষোভে শামিল হন ও পরে আটকে রাখেন। বাসিন্দাদের দাবি, মরশুমের প্রথম দিন ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টিতে এই অবস্থা হলে গোটা বর্ষায় কী হবে? জল না নামলে কাউন্সিলরকে ছাড়া হবে না। তিনিও এখানে বেশ কিছু সময় থেকে বুঝুন, জমা জলে কী দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। সকাল ১০টা থেকে দুপুর প্রায় সাড়ে ৩টে পর্যন্ত তাঁকে আটকে রাখা হয়। কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, ‘‘বাসিন্দারা আটকে রেখেছিলেন। আমি তাঁদের সামনে দাঁড়িয়েই জমা জলে এলাকার কী অবস্থা, তা মেয়র শোভন চ্যাটার্জি ও নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং-কে ফোনে বলি। বরোতে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিতে বলি। নিকাশি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পাম্প চালিয়ে জল নামানোর কাজ শুরু করলে দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’’

শুধু তিলজলা নয়, দক্ষিণ কলকাতার বেহালার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত জলের তলায় ছিল। ১২২ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণ নগর, সূর্য সেন পল্লী, সোদপুর এলাকা হাঁটু সমান জলের নিচে। পানীয় জলের কল জমা জলের তলায় চলে গেছে। কর্পোরেশনের পানীয় জলের গাড়িকেও এলাকায় ঢুকতে বেগ পেতে হয়েছে জমা জলের কারণে। ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডে দাস পাড়া রোড, পূর্ণেন্দু নগর, মুকুন্দ দাস পল্লি জলের তলায়। এখানে ভোগান্তি আরো চরমে উঠেছে নিকাশির পাইপ বসানোর জন্য রাস্তা খোঁড়ায়। জলের তলায় পা একটু এদিক ওদিক হলেই গর্তে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ১২৫ নম্বর, ১২৬ নম্বর, ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বহু এলাকায় এদিন বিকালেও জল নামেনি। এর জেরে নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এদিকে ই এম বাইপাসে জমা জল নেমে যাওয়ার পরে রাস্তার বেহাল অবস্থা সামনে এসেছে। গড়িয়াহাটের সঙ্গে বাইপাসের সংযোগকারী রাস্তার মোড়ে পাসপোর্ট অফিসের সামনে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় গর্তের আকার নিয়েছে। যেখানে গাড়ির চাকা পড়লে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই জায়গা এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মেরামত না হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রেখেছে।

এই বিষয়ে নিকাশির মেয়র পারিষদ তারক সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘বেহালায় ৪ কোটি টাকা খরচে কে ই আই আই পি প্রকল্পে ড্রেনেজের যে কাজ হচ্ছে, তা প্রথম ঠিকাদার সঠিকভাবে করেনি বলে দ্বিতীয়জনকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাম্প চালানোর দায়িত্বে যিনি আছেন, গতকাল শরীর খারাপ থাকায় তিনি পাম্প চালাতে পারেননি। তাই জল নামেনি। তিলজলায় কে ই আই আই পি ড্রেনেজের যে কাজ হয়েছে, তা ক্রুটিপূর্ণ বলে স্থানীয় কাউন্সিলরের থেকে জানতে পেরেছি। আমাদের এখানে পরিকাঠামো অনুসারে নিকাশি ব্যবস্থা ঘণ্টায় ৬ মিলিমিটার জল টানতে পারে। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ মিলিমিটার হলে জল জমবে। আমার কিছু করার নেই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement