গোরু চুরির গুজবে ঝাড়খন্ডে পিটিয়ে খুন

সংবাদসংস্থা   ১৪ই জুন , ২০১৮

রাঁচি, ১৩ই জুন— ফের ঝাড়খণ্ডে গোরু চুরির গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজনকে পিটিয়ে খুন করল হিন্দুত্ববাদীরা। বুধবার ভোরে গোড্ডা জেলায় নৃশংস এই ঘটনা গত বছর রামগড়ের ভয়াবহ স্মৃতিকেই উস্কে দিয়েছে। মারধরে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোড্ডা জেলার দেওদাঁদ এবং সুন্দের পাহাড়ি অঞ্চলের সীমান্তে বানকাট্টি গ্রামে গবাদিপশু পাচারের অভিযোগ তুলে এদিন ভোরে গ্রামে ২জনকে পিটিয়ে মারা হয়।

দুমকার ডি আই জি অখিলেশকুমার ঝা পরে দাবি করেন, মৃতেরা গ্রাম থেকে মোষ চুরি করে। পালানোর সময় গ্রামবাসীরা ২জনকে ধরে ফেলে। নিহত মুমতাজ আনসারি এবং চরকু আনসারির দেহ ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এক দিনের ঘটনা নয়। গো রক্ষার অছিলায় ২০১৫ সাল থেকেই চলছে সঙ্ঘ বাহিনীর তাণ্ডব। দলিত, মুসলিমদের পরিকল্পিতভাবেই পিটিয়ে খুন করার ঘটনা চলছে। ২০১৪ সাল থেকেই দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের লক্ষ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকার এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা গো রক্ষার নামে জোর প্রচার চালাচ্ছে। আর এস এস-বি জে পি গোরুর নজরদারির নামে কার্যত ঘাতকবাহিনীকে ব্যবহার করছে। অনেক সময়ে এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াকেও।

গোড্ডার এস পি রাজীব রঞ্জন সিং দাবি করেন, পাঁচজনের একটি দল দেওদাঁদ থানার অন্তর্গত দুল্লু গ্রাম থেকে প্রায় এক ডজন মোষ চুরি করে। গ্রামটি আদিবাসী প্রধান। প্রায় ২-৩ কিলোমিটার হেঁটে গবাদিপশুগুলি নিয়ে তাঁরা নাকি বানকাট্টি গ্রামে যান। এই সময়েই কয়েকজন হিন্দুত্ববাদীরা তাঁদের ধরে ফেলে। তিনজন পালিয়ে যান। দুজনকে ধরে মারধর শুরু করে। প্রকাশ্যেই পুলিশের দাবিমতো তথাকথিত গ্রামবাসীরা পিটিয়ে খুন করে দুজনকে। মোষ চুরির অভিযোগও দায়ের করেছে পুলিশ।

ঝাড়খণ্ডের বি জে পি সরকারের পুলিশের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, বুধবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন্দ্রের বি জে পি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ জোট সরকার ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করে না বলেই দাবি করেছেন। কিন্তু তাঁর নিজের দলের পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলির নাকের ডগায় গোরু পাচারের অভিযোগে একের পর এক দলিত, মুসলিমকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় কোনও শব্দ উচ্চারণ পর্যন্ত করেননি। এর আগে ২০১৭ সালে রামগড়ে গোরুর মাংস পাচারের অভিযোগে এক মুসলিমকে পিটিয়ে খুন করার ঘটনায় বি জে পি নেতাসহ ১০ জনের সাজা ঘোষণা করে আদালত। রাজ্যে অসহিষ্ণুতার আবহ বেআব্রু হয় ২০১৭সালেরই মে মাসে শিশু চুরির অভিযোগে পূর্ব সিংভূম জেলায় ৭জনকে পিটিয়ে মারে জনতা। উত্তর প্রদেশের দাদরিতে একইভাবে ভুয়ো প্রচার চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল মহম্মদ আখলাককে। রাজস্থানের আলোয়ারে খুন করা হয়েছিল পেহলু খানকে। এই ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে।

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ থেকে পাওয়া খবর অনুসারে, ডাকাত সন্দেহে ২জনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। আহত ৭ জন। গত শুক্রবার জেলার ভাইজাপুর তালুকের চন্দনগাঁও গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পিটিয়ে মারার ঘটনায় সোশ‌্যাল মিডিয়ায় খবর বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। প্রায় ১হাজার ৫০০মানুষ ৯ জনকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। লাঠি দিয়ে ডাকাত সন্দেহে দলটিকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ২ জনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ১জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের অভিযোগ, হোয়াটস অ্যাপে ৯ জনের একটি ডাকাত দল ঘুরছে বলে আগেই ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়। এর ফলে গ্রামের মানুষ রাত পাহারার ব্যবস্থা করে। তার থেকেই শুক্রবার ভোরে ঘটে যায় ঘটনাটি। চন্দনগাঁও গ্রামে একটি খেতের কাছে দলটিকে গ্রামবাসীরা ধরে ফেলে।

২জনকে পিটিয়ে খুন করার ঘটনায় ৪০০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। যদিও এপর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগে গত মাসে চোর সন্দেহে তেলেঙ্গানায় ২জনকে পিটিয়ে মারা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার আসামের আরবি আঙলঙ জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা ২জনকে পিটিয়ে মারে। উভয় ক্ষেত্রেই বিপদ ঘটে সোশ‌্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement