উত্তর দিনাজপুরে দুই হাসপাতালের
বেহাল দশা, নেই চিকিৎসা পরিষেবা

বিশ্বনাথ সিংহ   ১৯শে জুন , ২০১৮

রায়গঞ্জ , ১৮ই জুন— উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল হাসপাতাল এবং হেমতাবাদ ব্লকের বাঙালবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল অবস্থা। ঘরবাড়ি সবই আছে নেই শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাটুকুও না পেয়ে অসহায় গ্রামবাসীরা। দেখেও দেখে না প্রশাসন।এর আগে হেমতাবাদ ব্লকের চৈন নগর, বিষ্ণুপুর, রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল, মহিপুর, ভগিলতা, মোহিনীগঞ্জ কয়েক হাজার মানুষের দাবি ছিল একটি হাসপাতাল। সেই দাবি মেনেই বিন্দোলে তৈরি হয়েছিল বিন্দোল গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। হাসপাতাল গড়তে রাজ্য সরকারের আর্থিক সহযোগিতাও পাওয়া গিয়েছিল।। ১৯৮২ সাল থেকে একাধিক চিকিৎসক আসতেন, সারাদিন হাসপাতালে রোগী দেখতেন তাঁরা। চাহিদামতো ওষুধপত্র মিলত। বিন্দোল হাসপাতালে থুথু পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা পর্যন্ত চালু হয়েছিল। বহু মানুষ পরিষেবা পেতেন এখানে।

ব্যাস ঐ পর্যন্তই। গত ২০১৪ সাল থেকে চিকিৎসক আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। নিয়মিত আসেন না নার্স। গ্রামের মানুষের অভিযোগ এমনই। অথচ ২০০৯ সালে জেলার সব হাসপাতালের ভবন নির্মাণের জন্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ বরাদ্ধ হয়েছিল। সেই সময়ে অনেক ঝামেলার পরেও হাসপাতালের ভবন নির্মাণের পরিবর্তে বরাদ্দ অর্থে প্রাচীর নির্মাণ হয়েছিল। সমস্যা এসেছে ভবন নির্মাণে। ফলে পরিষেবা শিকেয় উঠেছে। সপ্তাহে ৫ দিন সকালে কিছু সময়ের জন্য একজন চিকিৎসক এসে দায়সারা কাজ সেরে ফিরে যান।

মানুষের অভিযোগ, নার্সরা নিজেরাই রোটেশন করে নিয়েছেন তাঁদের ডিউটি। অনেক সময়ে নার্স এলেও চিকিৎসক থাকেন না, আবার কোনও সময়ে চিকিৎসক যদিও বা এসে নিদানপত্র দেন, সেই ওষুধের নামগন্ধ থাকে না হাসপাতালে। এই অস্থির পরিস্থিতির শুরু ২০১৪ সাল থেকে। পরিত্যক্ত বাড়ির উপরে, দেওয়ালে অনায়াসে জন্ম নিচ্ছে আগাছা। তৃণমূল সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই হাসপাতালকে ভালোভাবে চালানোর। অথচ এলাকার পাঁচটা গ্রাম পঞ্চায়েতের একমাত্র সম্বল বিন্দোল স্বাস্থ্য কেন্দ্র। সন্ধ্যার পর থেকেই সমাজবিরোধীদের কেন্দ্রস্থলে চেহারা নিয়েছে বলে বহু গ্রামবাসীর বক্তব্য।

এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান ভুপেন্দ্রনাথ বর্মণের আক্ষেপ, এই এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এলাকার কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘ লড়াই আন্দোলন করে এই হাসপাতাল গড়ে উঠেছিল। এখন হাসপাতালে নেই কোনও রকম পরিষেবা। দূর থেকে দাঁড়িয়ে বিন্দোল  হাসপাতালের দিকে তাকালে মনে হবে পোড়ো বাড়ি বা জতুগৃহ। গ্রামের মানুষের অভিযোগ, ভোটের আগেই জেলা বা রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম আসে। তারা ঘুরে দেখে চলে যান। তারপর সেই জতুগৃহের ইটের পাঁজর দেখেই দিন কাটে বিন্দোল, মহিপুর, মোহিনীগঞ্জ,  চৈনগরের মানুষের।

জেলার অন্যতম বাঙালবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরও ঠিক একই অবস্থা। চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে এলাকাবাসীর আক্ষেপ, আগেই তো অনেক ভালো ছিল। বাঙালবাড়ি হাসপাতালে পরিকাঠামোগত অভাবের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা বেহাল। চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও হাসপাতালে বেডের সংখ্যা যথেচ্ছ কম। সামান্য রোগ কিছু হলেই এখান থেকে জেলা হাসপাতালে রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে বক্তব্য গ্রামবাসীদের। এলাকার সি পি আই (এম) নেতা মাজিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ তাঁদের পক্ষে জেলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না। আগের সরকারের আমলে হাসপাতালের যা উন্নয়ন হওয়ার হয়েছে, এই রাজ্য সরকার এলাকার মানুষের এই সমস্যার কথা ভাবে না।

নীল সাদা রঙ  দিয়ে সাজো সাজো বাঙালবাড়ি হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই, জেনারেটার রাখা আছে, সচল নেই। দুর্ঘটনায় পা-হাত কেটে গেলে সুচ সুতো রোগী বা তাঁদের আত্মীয়দের কিনতে হয়। সামান্য কিছু হলেই জেলা হাসপাতালে রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত করতে পারেনি।

বাঙালবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এই হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসক ও চারজন নার্স রয়েছেন। হাসপাতালে বেডের সংখ্যা দশটি। প্রতিদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর আগে যা ছিল এখনো সেই পরিকাঠামোই আছে। শুধু বদলেছে বাড়িটার রঙ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement