সাইকেল চড়ে রাশিয়ায়,
মেসির সই চান কেরালার ফ্রান্সিস

  ১৯শে জুন , ২০১৮

তিরুবনন্তপুরম, ১৮ই জুন— ফুটবলে বাঙালির উন্মাদনাকে টেক্কা দিতে পারে কেরালা। সাম্প্রতিক সময়ে কেরালা ফুটবল ম্যাচের আবহ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। কেরালার বাসিন্দা ক্লিফিন ফ্রান্সিস এর চেয়েও ঢের বেশি এগিয়ে। ফুটবলই তাঁর প্রথম ভালোবাসা। আর্জেন্টিনা সমর্থক ফ্রান্সিস লিওনেল মেসিকে চোখে হারান। বিশ্বকাপ দেখতে সাইকেলে প্যাডেল করেই পৌঁছে গিয়েছেন রাশিয়ায়। ভারত থেকে পুরো পথ সাইকেলে যাননি। প্রথমে বিমানে করে কেরালা থেকে দুবাই। সেখানেই সাইকেল কেনেন। তারপর প্রায় ৫,৫০০ কিমি পথ সাইকেলে। মস্কোয় ঢুকতে আরও ৬০০ কিমি সাইকেল চালাতে হবে ফ্রান্সিসকে। তাহলেই প্রথম স্বপ্ন সত্যি হবে। তালিকায় দ্বিতীয় স্বপ্নটি কঠিন হলেও হাল ছাড়ছেন না ২৮ বছরের সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। একটা সই। মেসিকে দিয়ে যে করেই হোক, নিজের সাইকেলে একটা সই করাতে মরিয়া ফ্রান্সিস।

এতটা পথ পার করেও ফ্রান্স-ডেনমার্কের একটি গ্রুপ ম্যাচ ছাড়া কোনও ম্যাচই দেখবেন না। ফ্রান্সিস জানান, ‘খুব ছোট থেকেই ফুটবল-পাগল। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন ছিলই। এবার সাধ মিটতে চলেছে। টিকিটের দাম বেশি। একমাত্র ফ্রান্স-ডেনমার্ক ম্যাচেই মাঠে থাকব। বিশ্বকাপের পর কটা দিন রাশিয়াতে থেকে সাইকেলে কেরালা ফিরব। তার আগে অবশ্য মেসিকে দিয়ে সাইকেলে সই করাতে হবে।’ রাশিয়া পৌঁছাতে মাঝপথে সমস্যাতেও পড়তে হয় তাঁকে। হতাশার সুরে বলেন, ‘জর্জিয়া দিয়ে রাশিয়া ঢোকার পরিকল্পনা ছিল। জর্জিয়া ভিসা দিল না। বাধ্য হয়ে আজারবাইজান দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হলো। অথচ আমার আগে ‌এক জার্মানকে একই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হলো। খারাপ লাগা স্বাভাবিক।’

যাত্রাপথে মানুষের ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পেরেছেন ফ্রান্সিস। সাইকেলে চেপে রাশিয়া যাওয়ার বিষয়টি শুনে অনেকেই তাঁকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন। কোনওদিন ইরানের মেমেহ-তে জন্মদিন পালন করার সুযোগ হবে! অভাবনীয়। ফ্রান্সিস জানান, ইরানের একটি বাড়িতে রাজ কাপুরের সিনেমা চলতে দেখে অবাকই হন। সেখানেও অমিতাভ বচ্চন, মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে ব্যাপক মাতামাতি। তরুণ প্রজন্ম আবার সলমনের দিকে ঝুঁকে। রাশিয়া সীমান্তে পৌঁছানোর সময় চেকপোস্টে তাঁর নথি খতিয়ে দেখা হয়। এক সেনা আবার তাঁর কাছে ঐশ্বর্য রাইয়েরও খোঁজ নেন বলে জানান কেরালার ফুটবলপ্রেমী।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement