কেন্দ্র-রাজ্যের কর্পোরেটমুখী সিদ্ধান্তের
বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে ছাত্রদেরও

আলোচনাসভায় বললেন নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৯শে জুন , ২০১৮

কলকাতা, ১৮ই জুন— কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই সরকারের প্রতিটা সিদ্ধান্তই জনস্বার্থবিরোধী। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে নরেন্দ্র মোদী বা মমতা ব্যানার্জি সাধারণ মানুষের জন্য সরকার চালান না। দুই সরকারই কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করে চলে। আর মানুষকে বোঝানোর এই কাজটা ছাত্রদের গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। এদের দুয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই আরও তীব্র করতে হবে। ছাত্র সংগ্রাম পত্রিকার ৫৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে এই বার্তাই দিলেন বক্তারা। ছাত্র সংগ্রামের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সোমবার দুপুরে কলকাতায় অনিল বিশ্বাস স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করেছিল এস এফ আই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি। ‘দুনিয়া, দেশ, রাজ্য—অধিকার কেড়ে নিতে হয়’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য ও পার্থ মুখার্জি।

এদিন সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। তারপর কমরেড অনিল বিশ্বাস ও কমরেড সুদীপ্ত গুপ্তের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের বর্তমান ও প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থিত ছিলেন এস এফ আই-র প্রাক্তন রাজ্য সভানেত্রী মধুজা সেনরায় ও সম্পাদক দেবজ্যোতি দাস, ছাত্র সংগ্রামের দীর্ঘদিনের সম্পাদক অনির্বাণ হাজরা, বর্তমান রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, ছাত্র সংগ্রামের সম্পাদক অরুণারঞ্জন সাহাসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ। এদিন কমরেড সুদীপ্ত গুপ্ত স্মৃতি স্মারক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, অলচিকি ভাষায় লিখে মেয়েদের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হওয়া সীমা সোরেনকে। ছাত্রদের নানা দাবি নিয়ে এস এফ আই-র পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের বোমার আঘাতে আহত হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের ছাত্রকর্মী সায়ক আশিক হোসেন। সে এবছর ভালো ফল করেই উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁকেও এবার কমরেড সুদীপ্ত গুপ্ত স্মৃতি স্মারক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি প্রতিকুর রহমান।

এদিন বক্তারা বলেন, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের দীর্ঘ দিনের মুখপত্র আমাদের গর্বের ছাত্র সংগ্রাম। সময় বদলেছে ছাত্র সংগ্রামও তাল মিলিয়ে চলছে। ছাত্র আন্দোলনকে দৃঢ় করার জন্য আরও বেশি ছাত্রছাত্রীদের হাতে ছাত্র সংগ্রাম পৌঁছে দিতে হবে। তাঁদের দাবি নিয়ে আমাদের যে লড়াই তা বুঝিয়েই আমাদের সেই লড়াইতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরও শামিল করতে হবে। পরিস্থিতি কঠিন হলেও ছাত্র সংগ্রাম তার পথ চলা থামাবে না। এই সংগঠন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের কথা বলে। বামপন্থার কথা বলে। ছাত্রছাত্রীদের অসহায় অবস্থা দেখে দুঃখ পেলে চলবে না। তাঁদের সেই অবস্থার পরিবর্তনের যে লড়াই এস এফ আই লড়ছে তা আগামী দিনে আরও দৃঢ় করতে হবে। এস এফ আই-র মতাদর্শ ছাত্রছাত্রীদের শক্তি দেয় আগামীর অন্ধকার মুছে ফেলার সংগ্রাম চালাতে। এই সমস্ত আন্দোলনে দীর্ঘদিন রসদ জোগান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে সংগঠনের মুখপত্র ছাত্র সংগ্রাম। আগামী দিনেও একইভাবে সংগঠনকে আন্দোলন, সংগ্রামের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। রাজ্যে ও গোটা দেশে মানুষের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে বামপন্থীদের কী ভূমিকা তা নতুন প্রজন্মকে বোঝানোর দায়িত্ব এস এফ আই নেতা, কর্মীদের নিতে হবে।





Current Affairs

Featured Posts

Advertisement