অভিযোগ পেয়েও নিশ্চুপ
পুলিশ দুবরাজপুর আই টি টি-তে
ভর্তির জন্য চাওয়া হলো ৬৫ হাজার টাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই জুলাই , ২০১৮

সিউড়ি, ১১ই জুলাই— ভর্তিতে তৃণমূলের তোলাবাজি রুখতে মমতা ব্যানার্জির তর্জন গর্জন যে নিছকই লোকদেখানো তা প্রমাণ হয়ে গেল আরও একবার। কলেজে কলেজে ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়ে তোলাবাজি রুখতে তৎপরতা জাহিরও যে পুলিশের শুধুমাত্র নিয়মরক্ষা তাও স্পষ্ট হয়ে গেল চোখের সামনে। কারণ, বীরভূমের এক সরকারি আই টি আই কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা টাকা হাঁকা তৃণমূলী ছাত্ররা নাগালে থাকলেও পুলিশের হেলদোল নগণ্যই। অভিযোগ, অভিযুক্ত টি এম সি পি নেতা সিউড়ি শহরের তৃণমূলের এক শীর্ষনেতার খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশও কোনো কিছু করে ওঠার ‘সাহস’ দেখাতে পারছে না। যদিও পুলিশের হাতে আছে ভর্তিপ্রার্থী এক ছাত্রের লিখিত অভিযোগ। আছে আসন নিয়ে ভর্তিপ্রার্থী ছাত্রের সাথে অভিযুক্ত তৃণমূলী ছাত্রদের দরকষাকষির ফোন রেকর্ডও।

জানা গেছে, সিউড়ির রুটি পাড়ার বাসিন্দা তৃণমূলকর্মী এক ছাত্র শেখ মুটুক টাকার বিনিময়ে সরকারি আই টি আই-এ ভর্তি করে দেওয়ার এই অভিযোগটি সিউড়ি থানায় করেছে। অভিযোগে শেখ মুটুক জানিয়েছে, গত ২৫শে জুন সে তার বন্ধু কঙ্কন দাসকে নিয়ে দুবরাজপুরের সরকারি আই টি আই-তে ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েছিল। সেখানেই বিক্রম মণ্ডল ও সৌরভ মণ্ডলের সাথে তাদের পরিচয় হয়। তারা দুজনেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের উঠতি নেতা। একজন সিউড়ি বিদ্যাসাগর ও অপরজন সিউড়ির বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। তারা কোনরূপ ডোনেশন ছাড়াই ভর্তির আশ্বাস দিয়ে নিজেদের ফোন নম্বর মুটুকের হাতে তুলে দেয়।

এরপর গত ২৭শে জুন বিকালে ওই দুই ছাত্রনেতাকে ফোন করা হলে প্রথমে বিক্রম ফোন ধরে। পরে সৌরভ ফোন ধরে জানিয়ে দেয় ভর্তি হতে গেলে এক লক্ষ টাকা লাগবে। জোরাজুরি করলে সেই টাকা কমে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায়। কিন্তু মুটুক সেই টাকা দিতে পারবে না জানিয়ে দিলে শেষে ৪০-৪৫ হাজার টাকায় মোটামুটি একটা রফা হয়। ওই দুই ছাত্রনেতা সিউড়ি পুলিশ লাইনের একটি ক্যাফেতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। সেই মতো ওই এলাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টাকা বাড়িয়ে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা দাবি করে বলে পুলিশকে জানিয়েছে মুটুক। তবে এর মধ্যে ওই দুই ছাত্রের সাথে কথোপকথন রেকর্ড করে রাখে মুটুক। সেই ফোন রেকর্ডসহ বুধবার সিউড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করে মুটুক।

সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা জানাচ্ছেন, অভিযুক্তরা দুজনেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের উঠতি নেতা। তাদের সাথে তৃণমূলের সিউড়ি শহরের সাংগঠনিক শীর্ষনেতার ঘনিষ্ঠতা বেশ ভালোই। পুলিশলাইন চত্বরেই এদের দিনের বেশিরভাগ সময় দেখা যায়। সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের এক ছাত্রের কথায়, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরেও এদের বিরুদ্ধে পুলিশের ব্যবস্থা না নেওয়াটা সত্যিই সন্দেহের। কারণ এদের নাগাল পাওয়াটা খুব একটা কষ্টকর নয় পুলিশের পক্ষে।’ তবে সংবাদ মাধ্যমে খবর চাউর হওয়ার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এদের সাথে। স্বাভাবিকভাবেই ‘সাবধান’ হয়ে গিয়েছে এরা। বেশ কয়েকবার অভিযুক্ত বিক্রমকে ফোন করা হলেও সে ফোন ধরেনি।

এস এফ আইয়ের বীরভূম জেলা সম্পাদক রুদ্রদেব বর্মণ বলেন, ‘আমরা বহু আগেই এমনই আশঙ্কা করে জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দিয়েছি। সবই পুলিশের লোক দেখানো তৎপরতা। আসলে অভিযোগের সব সত্যতা প্রমানসহ হাতে পেলেও শাসকদলের অনুমতি ছাড়া পুলিশের এক পাও নড়ার ক্ষমতা নেই।’ জানা গেছে, দুবরাজপুর সরকারি আই টি আই কলেজটি এবছরই নতুন চালু হয়েছে। প্রথম বর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। কলেজ খুলতে না খুলতেই খোদ এক সরকারি কলেজ ঘিরে এমন অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামহল। যদিও কলেজ সরকারি হলেও রাজ্য সরকারের নতুন ফরমানে এগুলি পরিচালনার ভার রয়েছে বেসরকারি সংস্থার হাতেই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement