ঋণ মকুবের দাবি
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই জুলাই , ২০১৮

কোচবিহার, ১১ই জুলাই— কৃষকদের ঋণ মুকুব, স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে কার্যকর করা, কৃষকদের জন্য শস্যবিমা চালু, তামাক রপ্তানির ক্ষেত্রে জি এস টি তুলে নেওয়া, ১০০ দিনের কাজকে ২০০ দিনে রূপান্তরিত করে ৩০০ টাকা মজুরি সুনিশ্চিতকরণ, প্রত্যেক কৃষকের হাতে ডিজিটাল রেশন কার্ড তুলে দেওয়া এবং কৃষকদের মাসিক পেনশন ৩হাজার টাকা করার দাবিসহ ১৩ দফা দাবিতে আগামী ৯ই আগস্ট জেলাশাসকের দপ্তরে অভিযান করবে সারা ভারত কৃষকসভার কোচবিহার জেলা কমিটি। বুধবার সংগঠনের জেলাদপ্তরে এক সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন কৃষকনেতা তমসের আলী।

কোচবিহার জেলা প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষা নয়, সরকারি অনুমতি না পেলেও এই দাবিদাওয়া নিয়ে কোচবিহার শহরে মিছিল এবং কোচবিহার জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে দেখান কৃষকরা। এমনকি কোচবিহার জেলাশাসকের দপ্তর সংলগ্ন এলাকা সাইলেন্স জোন হিসাবে ঘোষিত থাকলেও তাদের কর্মসূচিতে রীতিমতো মাইক ব্যবহার করবে বলে এদিন জানান তিনি।

তাঁদের অভিযোগ, শাসকদল জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে মাইক ব্যবহার করে তাদের কর্মসূচি পালন করেছে এবং সেক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নির্বিকার। তমসের আলী বলেন, কেন্দ্রের বি জে পি সরকারের সময়কালে গোটা দেশে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় ৩লক্ষ কৃষক। এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এরপরেও ঘুম ভাঙেনি কেন্দ্রীয় সরকারের। কৃষকদের ঋণ মকুবের ক্ষেত্রে কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি এই সরকার। ভারতবর্ষে কৃষিক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানির আমদানির ফলে কৃষিতে নেমে এসেছে ভয়াবহ সংকট। অভিযোগ এই সরকার কৃষকদের সাথে প্রতারণা করে চলেছে।

এছাড়াও এই রাজ্যে চলছে লুটেরাদের সরকার। এই সরকারের কোনও নীতি নেই। কোনও লক্ষ্য নেই। গোটা রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে রাজ্যের সরকার। এ পর্যন্ত এ রাজ্যেও ঋণের দায়ে, উৎপাদিত ফসলের দাম না আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১৪৭জন কৃষক। কিন্তু রাজ্য সরকার এই আত্মহত্যার ঘটনাকে আজও স্বীকার করেনি। এরাজ্যে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত। ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। উৎপাদিত সবজি রাস্তায় ফেলে বারবার বিক্ষোভে শামিল কৃষকরা। জেলায় জেলায় কৃষকমান্ডি তৈরি করা হলেও সরকারি ন্যায্যমূল্যে নিজেদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন না বড় অংশের কৃষক। এই সংকট প্রতিনিয়ত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন।

এদিন তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, গতবছরের বন্যায় কোচবিহার জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যাপক অংশের কৃষক উৎপাদিত ফসলের ক্ষতিসহ বাড়িঘর বন্যার কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন তাঁরা। রেগার কাজে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। রাস্তা তৈরি, পুকুর খননসহ রেগার প্রকল্পের আওতাভুক্ত বিভিন্ন কাজ না করেই তুলে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা রেগার মজুরি। কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের জিরানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩হাজার ৩০০পরিবারের জবকার্ড এই লুটের জন্য ব্যবহার করেছে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের নেতারা। জব কার্ডের প্রকৃত প্রাপকরা পাননি মজুরির এক টাকাও। অথচ রেগার কাজে বিভিন্ন প্রকল্পের মাস্টার রোল তৈরি করে তুলে নেওয়া হয়েছে মজুরি বাবদ বিশাল অঙ্কের টাকা। এই লুটের রাজত্ব থেকে মুক্তি পেতে আগামী ৯ই আগস্ট গোটা কোচবিহার জেলার প্রায় ৫হাজার কৃষক কোচবিহার শহরের জমায়েত হয়ে তাঁদের ১৩দফা দাবির সমর্থনে মিছিল করবেন কোচবিহার শহরে এবং এই দাবি সংবলিত স্মারকলিপি তাঁরা পেশ করবেন কোচবিহার জেলা শাসককে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement