পোগবা, কাইলদের শুভেচ্ছা নিয়ে
সম্পূর্ণ সুস্থতার পথে থাই-শিশুরা

সংবাদসংস্থা   ১২ই জুলাই , ২০১৮

ব্যাঙ্কক ও মস্কো, ১১ই জুলাই— ‘এই জয় আজকের নায়কদের জন্য। তোমরা মানসিকভাবে যথেষ্ট শক্ত। খুব ভালো।’ বেলজিয়ামকে হারিয়ে ১২ বছর পর ফ্রান্স বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর দলের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার পল পোগবা থাইল্যান্ডের খুদে ফুটবলারদেরকেই জয় উৎসর্গ করেছেন। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার কাইল চেয়েছেন তিতান, মিগ, মার্কদের কাছে খেলার শার্ট পৌঁছে দিতে। কিন্তু কীভাবে? সন্ধান চেয়েছেন টুইটারে।

মঙ্গলবারই থাম লুয়াংয়ে আটকে থাকা পাঁচজনকে বের করে এনেছেন উদ্ধারকারীরা। ফ্রান্সও স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে। তারপরই টুইটারে দুটি উচ্ছ্বাসই একসূত্রে মিলিয়ে দিয়েছেন এই খেলোয়াড়। সেমিফাইনালে ওঠার একধাপ আগে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে খেলা ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে। তার আগে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার টুইটারে লিখেছেন, ‘প্রত্যেককে গুহার বাইরে আসতে পেরেছে, দারুণ খবর। আমি ওদের শার্ট পাঠাতে চাই, কেউ ঠিকানা দিয়ে সাহায্য করেত পারবেন?’ ফিফা থাইল্যান্ডের ওই ১২জন কিশোর ফুটবলার এবং কোচকে ফাইনাল দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে তাদের শরীর সম্পূর্ণ ফিট না হওয়ায় তারা রাশিয়ায় যেতে না পারলেও পাঁচ হাজার পঁচাশি কিলোমিটার দূরে অচেনা তারকাদের সঙ্গেও মিলেমিশে গিয়েছে ওই খুদে ফুটবলাররা। উদ্ধার হওয়া ১৩জনই হাসপাতালে। বুধবার হাসপাতাল থেকে প্রথম ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে তাদের। মুখে ‘সার্জিকাল মাস্ক’, বিছানায় আধশোয়া ওরা। হাসপাতালের ঘরের কাচের ওপার থেকে বাবা-মায়েরা হাত নাড়ছেন। কাঁদছেন। এখনও কাছে যাওয়ার অনুমতি দেননি চিকিৎসকরা, সংক্রমণের ভয়ে। নার্স কথা বলছেন বাচ্চাদের সঙ্গে। বুধবার চিয়াঙ রাই হাসপাতালের দৃশ্যটা ছিল এমনই। কয়েক ঘণ্টা আগেও জলমগ্ন গুহায় আটকে থাকা খুদেরা শারীরিক এবং মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে ফের খোলা আকাশের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছে। সেই দৃঢ়তাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে হলিউড। ‘পিওর ফ্লিক্স এন্টারটেইনমেন্ট’ এই সিনেমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্থার সি ই ও থাম লুয়াংয়ের উদ্ধারকাজের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন হলিউডের সাংবাদিকরা। সেইসময়ই সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। বলেছেন, ‘অনুপ্রেরণার জন্যই এই ছবি বানানো হবে।’ এখনও পর্যন্ত কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রী বা পরিচালকের নাম জানানো হয়নি। দুসপ্তাহেরও বেশি অন্ধকার জলমগ্ন গুহায় আটকে থেকে যে আতঙ্ক হতে পারত ওই কিশোরদের, তা হয়নি বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের মনোবিদরা। এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ‘তবে এখনও এই পর্যায়টি শেষ হয়নি। এরকম কোনও ঘটনা দেখলে বা শুনলে পুরানো অভিজ্ঞতা ফিরে আসতে পারে। অন্ধকার ঘরে দরজা বন্ধ করে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সমস্যা হতে পারে তাদের।’ এক সপ্তাহ হাসপাতালে নজরদারিতে থাকবে ওই ১৩জন। আগামী ছ’মাস তাদের মানসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নজরদারির উপর থাকতে হবে। একবার পরিবারের লোকেদের সঙ্গে আগের মতো করে মিশে যেতে পারলে তাদের বিশেষ কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধারকারীদের পাঠানো খাবার ছাত্রদের মধ্যেই আগে ভাগ করে দিয়েছেন কোচ একাপল। সবার থেকে বেশি দুর্বল তাই তিনিই। কিম্তু নিজেও হার মানেননি, ওদেরও হার মানতে দেননি। ১৩জনের এই দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা এবং কঠিন উদ্ধার প্রক্রিয়াকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে থাম লুয়াংকে জাদুঘরে পরিণত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement