খেতমজুর ও কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ
লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই রুখতে
হবে লুটেরার শক্তিকে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই জুলাই , ২০১৮

কামারকুণ্ডু, ১১ই জুলাই — খেতমজুর ও কৃষকের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যের লুটেরার শক্তিকে রুখে দিতে হবে। বুধবার সিঙ্গুরের কামারকুণ্ডুতে অবস্থিত রাধারানী লজে হুগলী জেলা খেতমজুর কনভেনশনে এই আহ্বান জানান সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক অমিয় পাত্র। তিনি বলেন, তৃণমূলের বিকল্প বি জে পি নয়, আর বি জে পি-র বিকল্প তৃণমূলও নয়। এই দুই সর্বনাশা শক্তির বিকল্প একমাত্র বামপন্থীরাই। এই বিষয়টি মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে আমাদের কর্মীদের।

সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের হুগলী জেলা কমিটির উদ্যোগে এই কনভেনশনের শুরুতে সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন জেলা সভাপতি গণেশ মাণ্ডি। তিনিই শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কনভেনশনে। সম্পাদকীয় খসড়া প্রতিবেদন পেশ করে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন ঘিরে গ্রামে গ্রামে খেতমজুরদের নিয়ে বৈঠক করা, কৃষকের ফসলের দাম ও কৃষিঋণ মকুবের দাবিতে স্বাক্ষর সংগ্রহ ২৫শে জুলাই জেলাব্যাপী খেতমজুর ধর্মঘট সফল করা এবং ৯ই আগস্ট জেলা সদরে জেল ভরো আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের হুগলী জেলা সম্পাদক রামকৃষ্ণ রায়চৌধুরি। কনভেনশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন হুগলী জেলা কৃষক সমিতির সম্পাদক ভক্তরাম পান।

অমিয় পাত্র বলেন, তৃণমূলের অপশাসন থেকে মানুষ মুক্তি চায়। খেতমজুরদের ২০০ দিনের কাজ ও ৩০০ টাকা মজুরি এবং ৩ হাজার টাকা করে পেনশন দেবার দাবি জোরদার করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, কৃষক ফসল ফলিয়ে মানুষের অন্ন জোগায়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার অন্নের জোগানদাতাকে ফসলের দাম দেবে না খেতমজুরদের মজুরি বাড়াবে না। কৃষক ও খেতমজুরের অবদান দুই সরকারই স্বীকার করে না। তাদের মজুরি বৃদ্ধির কথা বি জে পি বা তৃণমূল বলে না। বামপন্থীরাই মজুরি বৃদ্ধির লড়াই করে।

গরিবের জন্য বরাদ্দ এন আর ই জি-এর টাকা লুট করছে তৃণমূল। তাদের দুর্নীতি, তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা সাজানো কেস দেবে। তাই দেখে দুই শক্তির বিরুদ্ধে গরিব শ্রমজীবী মানুষকে সংগঠিত করার কথা বলেন তিনি। ড. স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশে যেখানে ধানের দাম ২২০০ টাকা কুইন্টাল সেখানে ১৭০০ টাকা দাম ধার্য করে কৃষকদের ধোঁকা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সহায়ক মূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু মূল্য ঘোষণা করলেই হবে না, কৃষকের ফসল বিক্রির ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে ত্রাণ কেন্দ্র খোলা দরকার।

কনভেনশনে জেলার সন্ত্রাস কবলিত আরামবাগ মহকুমাসহ বিভিন্ন ১৬টি ব্লক এলাকা থেকে ২০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। খসড়া প্রতিবেদনের উপর ১৬ জন প্রতিনিধি আলোচনা করেন। প্রতিনিধিরা আলোচনায় তৃণমূল সন্ত্রাস, পঞ্চায়েত ভোটে মানুষের অধিকার হরণ, ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি, বামপন্থী কর্মীদের ওপর আক্রমণ, শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন। কনভেনশন পরিচালনা করেন গণেশ মাণ্ডি, স্বপন বটব্যাল, গৌর জানা, বন্যা টুডু, হালিম সরকারকে নিয়ে গঠিত সম্পাদকমণ্ডলী। কনভেনশন হয় কমরেড বলাই সাঁবুই নামাঙ্কিত মঞ্চে। উপস্থিত ছিলেন গণআন্দোলনের নেত্রী মিতালি কুমার ও অন্যান্যরা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement