প্রবল বৃষ্টির জেরে
উত্তরাখন্ডে মৃত ১১

সংবাদসংস্থা   ১২ই জুলাই , ২০১৮

দেরাদুন, ১১ই জুলাই— প্রবল বৃষ্টির জেরে দেরাদুনে ৭জনের মৃত্যু হয়েছে। চারজনের প্রাণহানি হয়েছে পিথোরাগড়ে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। গোটা রাজ্যে সেই মোতাবেক সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে ফুলে ফেঁপে উঠেছে নদীগুলি। অস্থায়ী সেতু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বহু জায়গায়। স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারই আবহাওয়া দপ্তর জানিয়ে দিয়েছিল উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন অঞ্চলে ভারী থেকে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তার জেরেই সতর্কতা জারি হয়েছিল। বুধবার ভোর রাত থেকেই দেরাদুনসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবল বৃষ্টির জেরে ধস নামে। নদীগুলি ফুলে ফেঁপে ওঠায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু।

এদিন সকালেই প্রবৃল বৃষ্টির জেরে ধস নামে একটি শহরের শাস্ত্রীনগর এলাকায়। সংবাদ সংস্থা পি টি আই জানিয়েছে, একটি বাড়ির উপর নেমে আসা পাথরের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন মহিলা ও শিশু রয়েছে। আরও দুই শিশু এই ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। বিকাশ নগর এলাকার চারবা গ্রামে এক ব্যক্তি শীতলা নদীর জলে ভেসে গেছেন। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে শহরের বলবীর রোড এবং রায়পুর এলাকায়। দুই জায়গাতেই রিসপানা নদীর প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছেন দুই জন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির জলের তোড়ে ভেসে গেছে বহু বাড়ি। দুই নদীর জলে ভেসে যাওয়া তিনজনের দেহই উদ্ধার হয়েছে।

পিথোরাগড় জেলার মুন্সিয়ারির নাচনি এলাকায় একটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে জলের তোড়ে। ওই অঞ্চলের সমস্ত নদী কালি, গোরি, সরযু সবই বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। থাল এলাকায় রামগঙ্গা নদী বিপদসীমা অতিক্রম করায় একটি আবাসিক স্কুলের একশো ছাত্রকে অন্যত্র সরিয়ে আনা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টির জেরে সমস্ত সরকারি স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি দেরাদুন শহরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বুধবার। আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে গারওয়াল অঞ্চলের চামোলি, পওরি এবং রুদ্রপ্রয়াগ জেলাতেও প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

পিথোরাগড়ের মুন্সিয়ারি এবং ধারচুলা এলাকায় বৃষ্টির জেরে সড়ক এবং সেতুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথর পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিন জন জলে ডুবে গেছে। চাম্বা এবং ঋষিকেশের মধ্যে ৯৪নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ধসের কারণে। রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে।

সংবাদ সংস্থা এ এন আই জানিয়েছে, দেশের বিভন্ন প্রান্তেই প্রবল বৃষ্টির জেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মণিপুরের তামেঙলঙে ধস নেমে ৯জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে ধস নামে।

মহারাষ্ট্রেও বৃষ্টির জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গত কয়েকদিনে। পালঘরে বৃষ্টিজনিত ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মুম্বাইয়ে সড়ক, রেল এবং বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়েছে। মুম্বাইয়ে এদিনও সতর্কতা জারি করা রয়েছে।

Featured Posts

Advertisement