ভাঙড়ে আরাবুল
মামলায় পুলিশের রিপোর্ট
তলব করল হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১২ই জুলাই , ২০১৮

কলকাতা, ১১ই জুলাই- খুনের মামলায় তৃণমূলের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম এখনও জেল হেপাজতে। পঞ্চায়েত ভোটের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে ভাঙড়ে গ্রামবাসীদের মিছিলে গুলি করে খুন করা হয়েছিল আন্দোলনকারী হাফিজুল মোল্লাকে। সেই মামলাতে পুলিশ প্রশাসন এখন আরাবুলকে বাঁচাতে যেন প্রাণপাত পরিশ্রমে নেমেছে।

ইতিমধ্যে শহীদ হাফিজুল মোল্লার স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে দিয়ে জোর করে আদালতে পিটিশন দেওয়ানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হাফিজুর হত্যায় আরাবুল ইসলামের কোনও ভূমিকা নেই। যদিও খুনের পরে স্বামীর নিথর দেহের সামনে কাঁদতে কাঁদতেই বারে বারে বলছিলেন, আরাবুল বাহিনীর ফাঁসি চাই।

আর এদিন সেই মামলাতে কলকাতা হাইকোর্টে পুলিশি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন রেখেই এই খুনের মামলার তদন্ত রিপোর্ট তলব করে পুলিশ প্রশাসনের কাছে। আগামী ৮ই আগস্টের মধ্যে এই রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। কলকাতা হাইকোর্টে এদিন মামলার শুনানিতে শহীদ হাফিজুল মোল্লার দাদার তরফে আইনজীবী বলেন, এফ আই আর করা হয়েছিল কুড়ি জনের বিরুদ্ধে। একমাত্র আরাবুল ইসলাম ছাড়া কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। বাকি অভিযুক্তরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি মামলা প্রত্যাহার করার জন্য শহীদ পরিবারের সদস্যদের ওপর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই পুলিশি তদন্তে কোনও ভরসা রাখতে পারছে না পরিবার। তাই সি আই ডি কিংবা কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবিও তোলা হয় প্রথম শুনানিতেই। শহীদ পরিবারের তরফে এদিনের মামলায় শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী উদয়শঙ্কর চ্যাটার্জি ও মধুশ্রী দত্তমজুমদার।

পঞ্চায়েত ভোটের তিন দিন গত ১১ই মে আগে ভাঙড় দখল করে নিতে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের নেতৃত্বে সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল গুলি বোমায় নৃশংস আক্রমণ চালায়। তৃণমূল বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় ভাঙড়ের ‘জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র সমর্থক ২৭বছর বয়সি যুবক হাফিজুর রহমান মোল্লার।প্রকাশ্যে মিছিল লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চলে।হাড়োয়া রোডের ওপরেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে সদ্য বিয়ে করা ওই যুবক হাফিজুর মোল্লা। এই হত্যাকান্ডের জেরেই আরাবুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই গ্রেপ্তার বলেও দাবি করা হয়। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি ভোটের আগে জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতেই এই কৌশল। তা যে ভ্রান্ত দাবি নয় তা এখন স্পষ্ট হচ্ছে তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে। ভাঙড়ের দাবি তাই শুধু আরাবুল ইসলাম নয়, লিখিত অভিযোদ দায়ের করা খুদে, হাকিমুল, লাদেন, তৃণমূলী প্রার্থী আহাদ বক্স মোল্লা, বিহারী কামালসহ বাকি ১৯জনকেও গ্রেপ্তার করতে হবে।

এদিকে অলীক চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে হাজারো মানুষের মহামিছিল, গ্রামবাসীদের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে প্রশাসনও আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে। এমনটাই দাবি আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের। সোমবার আলিপুরে জেলা প্রশাসনের সদর দপ্তরে এই বৈঠক হয়েছিল। আশ্চর্যের হলো, যে সরকার এতদিন ভাঙড় আন্দোলনে ‘বহিরাগত’রা মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে সেই সরকারই এখন আন্দোলনের চাপের মুখে ‘বহিরাগত’ শর্মিষ্ঠা চৌধুরির সঙ্গেই বৈঠকে বসতে বাধ্য হয়েছে। আলিপুর জেলাশাসকের দপ্তরে ভাঙড়ে আন্দোলনকারী কমিটির তরফে মির্জা হাসান ও শর্মিষ্ঠা চৌধুরি উপস্থিত ছিলেন। এদিন মির্জা হাসান বলেন, বহিরাগত তকমা লাগিয়েছিল এখন আন্দোলনের তীব্রতার মুখে সেই বৈঠকে বসতেই বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন। আমাদের সঙ্গে প্রশাসন পাওয়ার গ্রিড নিয়ে আলোচনা করে যদিও আমরা জানিয়েছি আন্দোলনের মূল নেতা অলীক চক্রবর্তীর মুক্তি ছাড়া এই আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে না। পাওয়ার গ্রিডের নামে যেভাবে ঘনিবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে বন্দুকের জোরে জমি দখল করা হয়েছে, যেভাবে আন্দোলন দমাতে শাসকদলের দুষ্কৃতীরা অত্যাচার চালিয়ে সেই বিবরণ তুলে ধরা হয় কমিটির তরফে। তবে আলোচনার মাধ্যমেই ভাঙড় কাণ্ডের মীমাংসা সম্ভব বলেই জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরাও।



Current Affairs

Featured Posts

Advertisement