সর্বশিক্ষার কর্মীদের বেতন
বাড়ালো না রাজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১২ই জুলাই , ২০১৮

কলকাতা, ১১ই জুলাই— সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পের অধীন পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বাড়লেও প্রকল্পের আওতায় থাকা সর্বশিক্ষা কর্মীদের বেতন বাড়ানো হলো না। গত সোমবার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে সরকার। প্রাথমিকের পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন বেড়ে ১০হাজার টাকা ও উচ্চ প্রাথমিকের পার্শ্বশিক্ষদের ১৩হাজার টাকা হয়েছে। চলতি বছরের ১লা মার্চ থেকে তাঁরা বর্ধিত হারে এই বেতন পাবেন বলে সরকার ঘোষণা করেছে। পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন সরকার বাড়ালেও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সর্বশিক্ষার অফিসগুলিতে।

রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৪৫হাজার। অন্যদিকে, রাজ্যের সর্বশিক্ষার অফিসগুলিতে প্রায় ২৭০০ কর্মী কাজ করেন। এঁদের সর্বশেষ বেতন বেড়েছিল ২০১৩সালে। বামফ্রন্ট সরকারের তৈরি করা নিয়ম মেনে তাঁদের বেতন বেড়েছিল। সর্বশিক্ষার অফিসগুলিতে যুক্ত কর্মীদের বক্তব্য, ‘ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে টাকার তো অভাব নেই। গতবছর এই খাতে কেন্দ্রের কাছ থেকে ৫৭কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তারমধ্যে খরচ হয়েছে ৫২কোটি টাকা। পরে থাকা ৫কোটি টাকা দিয়ে ৫শতাংশ হারে কর্মীদের ইনক্রিমেন্ট দেওয়াই যেত। তা করা হয়নি। কেন্দ্রের পাঠানো টাকার সঙ্গে বাড়তি সামান্য টাকা যদি রাজ্য সরকার দিত তাহলে আমাদেরও বেতন অনেকটাই বাড়ানো যেত বলে দাবি করেছেন সর্বশিক্ষার অফিসগুলিতে কর্মরত বিভিন্ন পদের কর্মীরা।

সর্বশিক্ষা অফিসে কর্মরত অন্যতম একটি পদ কো-অর্ডিনেটর। অফিস কর্মীদের দাবি, এ রাজ্যের কো-অর্ডিনেটররা পান ২১হাজার টাকা। ত্রিপুরার একজন কো-অর্ডিনেটরের বেতন ৪২হাজার টাকা। ৩৮হাজার টাকা পান দিল্লির একজন কো-অর্ডিনেটর। কো-অর্ডিনেটরসহ সর্বশিক্ষা অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পদের কর্মীদের ভাতার টাকা বাড়িয়েছে অন্যান্য রাজ্য। বিহার, দিল্লি বা আসাম বাড়িয়েছে। করল না মমতা ব্যানার্জির সরকার।

রাজ্যে সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে সর্বশিক্ষার অফিসগুলিতে কর্মরত কর্মচারীরা প্রতিদিন যে কাজ করে চলেছেন, তা অনস্বীকার্য। মিড ডে মিল-র তদারকি করা, বই দেওয়া, স্কুলপড়ুয়াদের জুতো দেওয়া, ব্যাগ দেওয়া, খেলার সরঞ্জাম বিতরণ করার, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে দেখভাল করা, পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করা, গরিব, প্রান্তিক, ফুটপাতবাসী ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়মুখী করতে সর্বশিক্ষার কর্মীদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা সবচেয়ে বেশি। এঁরা ও পার্শ্বশিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সর্বশিক্ষার কাজ বাস্তবায়িত হয়। সর্বশিক্ষার কর্মীদের আক্ষেপ, পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি যেমন জরুরি, তেমনি আমাদের বেতন বাড়ানো কী অন্যায়? অন্যান্য রাজ্য বাড়াতে পারলেও, পশ্চিমবঙ্গ কি তা পারে না?

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement