বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার
করে নিতে বাধ্য হলেন
মালদহের জেলাশাসক

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১২ই জুলাই , ২০১৮

কলকাতা, ১১ই জুলাই— মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। শুধু শুনানিতেই পিছু হঠল সরকার।

কর্মচারীদের বদলির নির্দেশ দিয়েও রায়ের আগেই প্রত্যাহার করে নিল মালদহের জেলাশাসক। আগের নির্দেশ প্রত্যাহার হওয়ায় ফের পুরানো জায়গায় কাজে ফিরলেন ৩২জন পঞ্চায়েতকর্মী। সরকারি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নজিরবিহীন জয় পেলেন মালদহের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে কর্মরত কর্মচারীরা।

গত মঙ্গলবারই মালদহের জেলাশাসক তাঁর গত নির্দেশ প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি (মেমো নং-৭৬৭/পি) জারি করেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীদের বদলির যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা বাতিল করা হচ্ছে। যাঁদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের আগের কাজের জায়গাতেই বহাল করার নির্দেশও দিতে বাধ্য হয়েছেন জেলাশাসক।

জেলাশাসকের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৭জন পঞ্চায়েতকর্মী। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে পঞ্চায়েত কর্মীদের হয়ে মামলায় শুনানি করেছিলেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টচার্য। তাঁর শুনানির পরই আর অপেক্ষা করেনি প্রশাসন। রায় কী হতে যাচ্ছে বুঝতে পেরে পিছু হঠে নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেন জেলাশাসক। এই প্রসঙ্গে আইনজীবী বিকাশ ভট্টচার্য বলেন, ‘বেআইনিভাবে কর্মচারীদের বদলি করে দিয়েছিল প্রশাসন। কোর্টে সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ হওয়ার পর সরকার কোনও জবাব দিতে পারছিল না। তাই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে।’

গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি মালদহের জেলাশাসক কৌশিক ভট্টচার্য এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ৩২জন গ্রুপ ডি পদে কর্মরত পঞ্চায়েত কর্মীকে বদলির আদেশ জারি করেন। এক একজন কর্মচারীকে তাঁর বর্তমান কর্মস্থল থেকে ৩০ থেকে ৪০কিমি দূরে বদলি করে দেন। গাজোল থেকে রতুয়া, কোথাও আবার কালিয়াচক থেকে মানিকচক সরিয়ে দেওয়া কর্মীদের। কর্মচারীরা সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে সরকারি আইন উল্লেখ করেই জেলাশাসকের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ করেন। কারণ, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনের সরকারি নিয়মাবলীতেই আছে, একজন পঞ্চায়েত কর্মীকে বদলি করতে হলে সেই ব্লক এলাকার মধ্যেই কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে পাঠাতে হবে। আর এই বদলি করতে পারেন একমাত্র বি ডি ও। লিখিতভাবে আইনের ধারা তুলে জেলাশাসক ও জেলা পঞ্চায়েত আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছিল কর্মচারী সংগঠন। কিন্তু প্রশাসন কর্ণপাত করেনি। শেষ পর্যন্ত সাত জন পঞ্চায়েত কর্মী জেলাশাসকের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে। সেই মামলার কর্মচারীদের হয়ে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। একসময় মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে বুঝে নিয়ে মালদহ জেলা প্রশাসন থেকে মামলাকারী পঞ্চায়েত কর্মীদের ডেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার চাপ পর্যন্ত এসেছিল। কিন্তু মামলাকারী কর্মীরা প্রশাসনের চাপ এড়িয়ে মামলা চালিয়ে যান।

কর্মচারীদের অভিযোগ, গোটা রাজ্যে পঞ্চায়েতে কর্মরত গ্রুপ ডি পদে কর্মরত পঞ্চায়েত কর্মীদের শাসকদলের মদতে হয়রানিমূলক বদলি নতুন কোনও ঘটনা নয়। এর আগে নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় পঞ্চায়েত কর্মীদের হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে বদলি করা হয়েছে। কর্মচারীরা যখন প্রশাসনকে ডেপুটেশন দিয়ে তাঁদের অভিযোগ করছেন তখন কোনও গুরুত্ব পর্যন্ত দেননি সরকারি আধিকারিকরা। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মচারীরা মামলার পথে যেতে এক প্রকার বাধ্য হচ্ছেন।

মামলার শুনানিতেই সরকারের এহেন পিছু হঠা নিয়ে পঞ্চায়েত কর্মীদের সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত কর্মচারী সমিতি সমূহের যৌথ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ রায় বলেন,‘এই সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি নিয়ে চলছে। কোনও কারণ ছাড়াই যত রকমের হেনস্তা একজন কর্মচারীকে করা যায় তা করা হচ্ছে। এখন আদালতের শুনানিতেই সরকার বুঝে গিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলো।’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement