কৃষকের আয় হ্রাসের হিসাব
বুঝিয়ে বাজারনির্ভরতার
সুপারিশে রিপোর্ট

প্রস্তাবে ক্ষোভ কৃষকসভার

সংবাদসংস্থা   ১২ই জুলাই , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১১ই জুলাই— সরকারি নীতিতে আয় কমছে কৃষকের। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রে আসীন বি জে পি জোট সরকারের প্রথম দুবছরে কৃষকের আয় হ্রাস পেয়েছে। চলতি শতাব্দীর গোড়া থেকে হিসাব করলে, এই সমীক্ষা অনুযায়ী, কৃষকের আয় হ্রাসের হার আরও বেশি।

আন্তর্জাতিক সংস্থা অরগানাইজেশন ফর ইকনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ও ই সি ডি) এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিক রিলেশনস (আই সি আর আই ই আর) যৌথভাবে এই সমীক্ষা চালিয়েছে। সমীক্ষকদের বক্তব্য, কৃষি বাণিজ্য উদার না করার জন্য কৃষক আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সমীক্ষা রিপোর্টে সওয়াল করা হয়েছে বাজারসর্বস্ব কৃষি বিপণন নীতির পক্ষে।

রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সারা ভারত কৃষকসভার বক্তব্য, নয়া উদারবাদী নীতির কারণে কৃষকরা সংকটে। বারবার একথা বলা হয়েছে। কৃষকের যে সংকট বাড়ছে তা সমর্থন করছে এই রিপোর্টও। কিন্তু, এই রিপোর্টে সুপারিশ সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। কৃষকসভার ব্যাখ্যা, ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে কৃষকের সঙ্গে শত্রুতা করতে পারে এই রিপোর্ট। সংকট যে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা বলা হচ্ছে। আবার, নয়া উদারবাদী নীতির প্রয়োগ তীব্রতর করার পক্ষে সওয়ালও করা হচ্ছে। অথচ, এই নয়া উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতির কারণেই দেশজুড়ে কৃষক আত্মহত্যা বাড়ছে। কৃষকসভা জানিয়েছে রিপোর্টে প্রস্তাবিত সুপারিশ প্রয়োগের চেষ্টা হলে তা রুখতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে।

রিপোর্টে সুপারিশ, ন্যূনতম সহায়কমূল্য বাড়ানোর নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ এবং ক্রেতার কাছে বাড়তি দামের বোঝা তৈরি করে এমন নীতি থেকে সরে আসা দরকার। তার জন্য বাজারমুখী সংস্কার করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। সেই কারণে বন্ধ করতে হবে অপচয়ে ভরা ফসলের সরকারি সংগ্রহও। সুপারিশ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদনের উপকরণে সরকারি ভরতুকিতেও নারাজ সমীক্ষকরা। দেশজুড়ে বৈদ্যুতিন জাতীয় কৃষি বাজার (ই-ন্যাম) প্রকল্পে আরও জোর দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে রিপোর্টটি। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সরকারি বিধিনিষেধও প্রায় তুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

লক্ষণীয়, সারা ভারত কৃষকসভাসহ একাধিক কৃষক সংগঠন সুপারিশে বলা প্রস্তাবে পদক্ষেপগুলির বিরুদ্ধে সরব। সুপারিশের মূল কথা, কৃষির দায়দায়িত্ব সরকার নেবে না। কৃষি উৎপাদন এবং বিপণনে মাথাও ঘামাবে না। বাজারের ইঙ্গিত বুঝে কৃষকই সিদ্ধান্ত নেবেন। তাতে কৃষকের লাভ, ক্রেতারও লাভ। উদারবাদ চালু হওয়ার বিভিন্ন পর্বে সরকারি কর্তারা এমন নীতির জন্য সওয়াল করেছেন, অনেকক্ষেত্রে এগিয়েছেন। আবার পড়তে হয়েছে প্রতিরোধের মুখেও।

সমীক্ষায় সংকট মাপতে ‘উৎপাদক সহায়তা হিসাব’ নামে সূচক করা হয়েছে। সমীক্ষকরা জানিয়েছেন, এই সূচক ‘পি এস ই’ শতাংশের বিচারে ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ কৃষকের আয় কমেছে সরকারি নীতিতে। ধনাত্মক হওয়ার অর্থ আয় বেড়েছে। রিপোর্টে দেখানো হয়েছে ২০১৪-১৬, নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম দুবছরে এই সূচক (মাইনাস) ৬শতাংশ। শতাব্দীর গোড়ায়, ২০০১ থেকে ২০১৬ হিসাব করা হলে এই সূচক (মাইনাস) ১৪ শতাংশ।

Featured Posts

Advertisement