সাদা কাগজে সরকারি চিঠির
জেরে বিভ্রান্তি, ফের
উত্তেজনা ভাবাদিঘিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১২ই জুলাই , ২০১৮

কলকাতা, ১১ই জুলাই— ভাবাদিঘি সমস্যা সমাধানের বদলে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনের বিভ্রান্তিকর চিঠিতে। সাদা কাগজে নেই সরকারি লোগো, নেই তারিখ, চিঠির নিচে জেলাশাসকের সংক্ষিপ্ত সই! গত ৫ই জুলাই রাতে এমন চিঠি গ্রামে দিয়ে আসেন গোঘাট থানার ওসি।

সাদা কাগজে এহেন চিঠি দেখেই ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়ায় মানুষের মধ্যে। ‘প্রোপোজড অফারস অ্যান্ড কনসেশনস হুইচ ডিসকাসড’, কাগজের ওপরে ইংরেজিতে লেখা, তার পর প্রতিশ্রুতি, নিচে হুগলীর জেলাশাসক সঞ্জয় বনশলের সইয়ের ইনিশিয়াল! নাহ! জেলাশাসকের দপ্তরের লেটার হেডে কোনও চিঠি নয়, নেই লোগো, নেই সিল মোহর। এই চিঠি পেয়ে গ্রামের মানুষের বিভ্রান্তি গত কয়েক দিনে আরও বেড়েছে।

গত ২২শে জুন ভাবাদিঘি সমস্যার সমাধানের জন্য গ্রামে গিয়ে সভা করেন হুগলীর জেলাশাসক সঞ্জয় বনশল, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্তারা ছাড়াও ছিলেন রেলের পদস্থ আধিকারিকরা। ২২শে জুনের সভাতেও ভাবাদিঘির জট কাটেনি, সেদিনই জেলা প্রশাসনের থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। ‘লিখিত প্রতিশ্রুতি’ হিসাবে ৫ই জুলাই রাতে গ্রামবাসীদের কাছে সাদা কাগজে লেখা এই চিঠি দিয়ে আসেন গোঘাট থানার ওসি মিঠুন ব্যানার্জি। ‘ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটি’-র পক্ষে সুকুমার রায় সেদিনই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন তাঁরা মনে করছেন চিঠিটি ভুয়ো, এভাবে সরকার চিঠি দিতে পারে না, ছেলে ভুলানো প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা ভুলবেন না, দিঘি রক্ষায় আন্দোলন চলবে।

অভিযোগ, সংবাদপত্রগুলিতে সুকুমার রায়ের এই বক্তব্য দেখেই বেজায় চটে যান গোঘাট থানার ওসি। গত শনিবার রাতে গ্রামে ঢুকে হুমকি দিতে শুরু করেন এবার পুলিশ ফোর্স নিয়ে এসে দিঘির দখল নেবে। গ্রামবাসীরা জানিয়ে দেন পুলিশ তার কাজ করুক, আদালতে মামলা চলছে, আদালতের নির্দেশ না পেয়ে পুলিশ যদি বলপূর্বক দিঘি দখল করতে ‌আসে তাঁরা প্রতিরোধ করবেন।

২১শে জুলাই-র সমাবেশকে সামনে রেখে তৃণমূল গোঘাটের প্রতিটি সভাতেই কার্যত মিথ্যাচারকে সম্বল করে হুমকি শানাচ্ছে ভাবাদিঘির বিরুদ্ধে। প্রতিটি সভাতেই নিয়ম করে তৃণমূল নেতারা বলছেন কলকাতা হাইকোর্ট বলে দিয়েছে রেলপথের কাজ শুরু করতে, অতয়েব গ্রামবাসীরা না মানলে পুলিশ ঢুকবে গ্রামে! ভাবাদিঘি সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির প্রয়োজনীয়তা আপাতত নেই। গত ২২শে জুন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ ব্যানার্জির এজলাসে ভাবাদিঘি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানান যে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা বিচারাধীন রয়েছে যে কোনও পক্ষ ইচ্ছা করলেই ওই মামলায় যুক্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, ইন্ডোর ডেভলেপমেন্ট অথরিটি নামে ভিন রাজ্যের একটি সংস্থা বিভিন্ন রেলওয়ে প্রকল্প নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছে, সেখানে এরাজ্যের ভাবাদিঘি প্রকল্পটি রয়েছে। অথচ, এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ফের পুলিশবাহিনী ব্যবহার করে দিঘি দখল করতে মাঠে নামতে চাইছে প্রশাসন। বুধবার ‘ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটি’-র সদস্য রাজকুমার পণ্ডিত জানিয়েছেন, ‘আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না। জোর করে দিঘি দখল করতে এলে আমরা জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ করবো’।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement