ভর্তিতে বেনজির বেনিয়ম, বিক্ষোভ শিবপুরের কলেজে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই জুলাই , ২০১৮

হাওড়া, ১১ই জুলাই — কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বেনজির দুর্নীতির প্রতিবাদে বুধবার হাওড়ার শিবপুর দীনবন্ধু কলেজে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা। সারা রাজ্যের মতো এই কলেজেও একই ছবি। মেধা নয়, টাকার বিনিময়ে কলেজের আসন বিক্রি।

টাকা দিয়ে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা বুধবার বেলা ১১টা থেকে কলেজের সামনে জি টি রোডের ওপর অবস্থানে বসেন। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জি টি রোড। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা। টানা আট ঘণ্টা সুষ্ঠুভাবে ভর্তির দাবিতে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকে জি টি রোড। বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, এবছর ৯ই জুন থেকে এই কলেজে স্নাতকস্তরে ভর্তির দিন নির্ধারিত থাকলেও শুরু হয় ১০ই জুন থেকে। কাউন্সেলিংয়ের জন্য যে দিন ধার্য করা হয় তাও স্বচ্ছভাবে জানানো হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষর পক্ষ থেকে। মেধা তালিকা ১৯শে জুন প্রকাশের কথা থাকলেও প্রকাশিত হয় ২০শে জুন। মেধা তালিকায় নাম থাকলেও ক্রমিক অনুযায়ী ভর্তি নেওয়া হয়নি। তাঁদের প্রশ্ন, মেধাতালিকায় পিছিয়ে থাকা কম নম্বরের ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়ে গেল কিভাবে? ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, টি এম সি পি নেতা গুড্ডু ওরফে সামিম আহমেদ মূলত টাকার বিনিময়ে ভর্তি করাচ্ছে কলেজে। বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীরা মনে করেন, মেধা তালিকায় নিচের দিকে থাকা যেসব ছাত্রছাত্রীরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের থেকে আরও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। জেনেও কর্তৃপক্ষের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকরা। এদিকে বিক্ষোভ চলাকালীনই এক অভিভাবক বলেন, মেধা তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁর মেয়েকে ভর্তির জন্য ডাকা হয়নি, পিছনে থাকা ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়েছেন সেখানে। কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়াও শেষ হয়ে গিয়েছে ১০ই জুলাই। পড়াশোনা নষ্ট হয়ে যাবে একবছর এই হতাশায় তাঁর মেয়ে মঙ্গলবার রাতে আত্মহত্যা করতে যান। তিনি তাঁকে বাঁচিয়ে নেন।

থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত এক ছাত্রী জানান, ভর্তির করে দেওয়ার নাম করে টি এম সি পি নেতা গুড্ডু তাঁকে নিশ্চয়তা দিয়ে বারে বারে ঘুরিয়েছে। পরে আর ফোন ধরেনি। এদিন এক ছাত্র ধারালো ব্লেড দিয়ে তার নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত করে কলেজে ভর্তির বেনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানান। ঘটনাস্থলে শিবপুর থানার পুলিশ পৌঁছায় বিক্ষোভের প্রায় শুরুতেই। যদিও গুড্ডুকে ফোনে ধরা হলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কলেজে অর্থনীতিতে ১৫টি, কম্পিউটার সায়েন্সে ১৭টি, রসায়নে ২৩টি, অঙ্কে ১০টি, ইতিহাসে ২১টি, দর্শনে ২৩টি, সংস্কৃতে ৯টি, ফিজিক্সে ২৫টি, বটানিতে ১৯টি আসন খালি আছে। কলাবিভাগে ৮৭টি, বি কম অনার্সে ৫৮ টি, বি কম জেনারেলে ৬২টি আসন খালি আছে।

এদিন কলেজে কর্তৃপক্ষের কারোরই দেখা মেলেনি। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কার্তিক খামারুকে ফোন করলে তাঁর অনুমতিতে কথা বলেন অধ্যাপক আশিসকুমার দাস। তিনি বলেন, বিক্ষোভরত ছাত্রদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। কলেজে প্রক্রিয়া মেনেই ভর্তি করা হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এদিন রাতে শিবপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

Featured Posts

Advertisement