গদাধর, কালজানির ভাঙনের আতঙ্ক
দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েত জুড়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই জুলাই , ২০১৮

কোচবিহার, ১২ই জুলাই— বর্ষার শুরুতেই কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ ১নম্বর ব্লকের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন নদীসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা এই ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

অবিরাম বর্ষণ থেকে কোচবিহারবাসীরা সাময়িকভাবে স্বস্তি পেলেও ভালো নেই দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঝলঝলি, দক্ষিণ নেপালের খাতা, সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দারা। কালজানি এবং গদাধর নদীর ভাঙ্গনে এক ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন তাঁরা।

এই গদাধর এবং কালজানি নদী প্রবাহিত হয়েছে দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার ওপর দিয়ে। কালজানি নদীর গতিপথ সোজা হলেও গদাধর নদীর গতিপথ অনেকটাই আঁকাবাঁকা। প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে এই নদীগুলি ফুলেফেঁপে ওঠে এবং শুরু হয় পার ভাঙনের খেলা। এবারও এই সমস্যার কবলে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির গ্রামবাসীরা। নেপালেরখাতা এলাকায় বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর ঘরসহ বসতভিটার অধিকাংশই গদাধর নদীর গ্রাসে চলে যেতে বসেছে।

অপরদিকে ঝলঝলি গ্রামের দক্ষিণাংশে কালজানি নদীর ভাঙনে চরম আতঙ্কে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। নদীগর্ভে চলে যাওয়ার মুখে এই এলাকার মূল্য রাস্তাটিও। এই নদীর বাঁধটি সঠিকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা করা না হলে এই রাস্তাটির নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর এই রাস্তাটি নদীগর্ভে চলে গেলে গোটা এলাকার সাথে দেওচড়াই এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। অবিলম্বে এই বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অসহায় গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই সমস্যার মুখোমুখি তাঁরা। সেচদপ্তর থেকে অস্থায়ীভাবে বাঁশ দিয়ে এই নদীর পাড় বাঁধাইয়ের কাজ করা হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। আর এ কারণেই প্রতিবছর বর্ষায় সমগ্র এলাকার মানুষ ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটান। কোনভাবে এই নদীবাঁধ একবার ভেঙে গেলে গোটা এলাকার কয়েক হাজার মানুষ চরম পরিণতির সম্মুখীন হবেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এই গ্রামগুলির বাসিন্দারা।

Featured Posts

Advertisement