বারাসতে মহিলাদের সাধারণ
সভায় নেত্রীবৃন্দ

মানুষের পঞ্চায়েত হোক চায় না তৃণমূল

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৩ই জুলাই , ২০১৮

বারাসত, ১২ই জুলাই— পশ্চিমবঙ্গে অতীতে অনেক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হয়েছে। সেই সমস্ত আন্দোলনে মহিলাদের ভূমিকা ইতিহাস হয়ে আছে। অতীতের সেই লড়াই আন্দোলনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে ৮০০ জায়গায় প্রতিরোধ তৈরি হয়েছিল, সেই প্রতিরোধে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীরা ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। শুধু পঞ্চায়েত নয় সম্প্রতি কলকাতার বুকে গত ৩ ও ৪তারিখে সহস্রাধিক মহিলা রাত-দিন কলকাতার রাস্তায় যে প্রতিবাদ প্রতিরোধে সোচ্চার হয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙেছিল। পুরো দেশে এই বার্তা পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বারাসতে একথাগুলি বলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদিকা মারিয়ম ধাওয়ালে। এদিন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি উত্তর ২৪পরগনা জেলা কমিটির ডাকে বারাসত শান্তিময় ঘোষ স্মৃতি ভবনে এক সাধারণ সভায় তিনি বক্তব্য রাখেন। সভায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় বামপন্থী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মহিলাদের সংবর্ধিত করা হয়েছে। সভায় সভানেত্রী ছিলেন সংগঠনের সভানেত্রী সোমা দাস।

সভায় সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মালিনী ভট্টাচার্য বলেন, আজকের প্রতিরোধ আগামীদিনের জয়ের রাস্তাকে তৈরি করবে। সভায় পঞ্চায়েতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বামপন্থী মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কথা শুনে তিনি বলেন, মানুষের পঞ্চায়েত তৈরি হোক এটা শাসক তৃণমূল চায় না। চায় না বলেই মনোনয়নপর্ব থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা বোমা, বন্দুক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বামপন্থী প্রার্থীদের উপর। অনেক ক্ষেত্রে বি জে পি প্রার্থী দিতে পারলেও বামপন্থী প্রার্থীদের দিতে দেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন যেখানে যেখানে প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে সেখানেই নির্যাতন নামিয়ে আনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকে সঙ্গে নিয়েই তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। কারণ ওরা প্রতিরোধকে ভয় পায়। তাই ভয় দেখিয়ে জয় করাকে ওদের নেত্রী নিজেদের জয় হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে। সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলার সভানেত্রী সোমা দাস চক্রবর্তী, সম্পাদিকা আত্রেয়ী গুহ।

একসাথে পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সফল প্রতিযোগীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন মালিনী ভট্টাচার্য ও মারিয়ম ধাওয়ালে। বাদুরিয়ার পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী আনোয়ারা বেগম, দেগঙ্গার প্রাক্তন প্রধান কোহিনুর বেগম, আমডাঙার সাহানারা বেগম, বনগাঁর তুলসি ঘোষাল প্রমুখ পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন তাঁদের ওপর যেভাবে শারীরিক ও মানসিক আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছিল তা তুলে ধরেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement