মড্রিচদের হালকা ভাবে
নিতে নারাজ পোগবা

  ১৩ই জুলাই , ২০১৮

মস্কো, ১২ই জুলাই— ফাইনালের আগে মস্তিষ্কের লড়াই শুরু পল পোগবার। তাঁর টিম ফর্মে থাকলেও ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের ফেভারিট বাছলেন না। বরং এই প্রসঙ্গে ফ্রান্সের তারকা মিডিও পোগবা একেবারে দার্শনিক। তাঁর সরাসরি বক্তব্য, ‘রবিবারের ফাইনালে ফ্রান্স একেবারেই ফেভারিট নয়।’ ফর্ম এবং পারফরম্যান্সের বিচারে লেস ব্লুজরা ক্রোটদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপ অঘটনের। কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। তুলনামূলক ছোট দেশগুলি বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী টিমগুলিকে যথেষ্ট বেগ দিয়েছে তা প্রমাণিত। ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখা হলেও বিপরীত ভাবনা পোগবার। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পরের দিন পোগবার প্রতিক্রিয়ায় শোনা গেল ক্রোয়েশিয়ার প্রশংসা। জানালেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে আমরা কখনই ফেভারিট নয়। এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল।’ মানসিকভাবে ক্রোয়েশিয়া অনেকটা এগিয়ে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফ্রান্সকে ফাইনালে সহজে ছেড়ে দেবে না ভালো মতোই জানেন ফরাসি মিডিও। রবিবার রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশ্বকাপ জয় একার দ্বারা সম্ভব নয় মানছেন পোগবা। সেই প্রসঙ্গে তারকা ফুটবলারের সংযোজন, ‘প্রতিযোগিতার শুরুতে আমাদের নিয়ে প্রচুর সংশয় তৈরি হয়। কারণ এই টিম কোনও ট্রফি জেতেনি। বিশ্বকাপ জিতে সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের লক্ষ্য।’ সতীর্থের সঙ্গে একমত বেলজিয়াম ম্যাচের নায়ক স্যামুয়েল উমতিতি। সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে পোগবা। যা দেখে খুশি তিনি। ফাইনালে ব্যক্তিগত নির্ভরতার থেকেও টিম পারফরম্যান্সে গুরুত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স। পোগবার উপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে তা ভালো মতোই জানেন তিনি। পোগবার মতে, ‘অতীতের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবার সময় নেই। নক আউটের মতোই ফাইনালে টিম হয়ে খেলতে হবে।’ আনন্দের জোয়ারে না ভেসে বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতে চাইছেন অ্যাটাকিং মিডিও। অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশে বিশ্বাসী নন। কারণ তাঁর ফুটবল জীবনের এই মুহূর্তে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই শেষ ম্যাচ জিতে যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেবেন বলে জানিয়েছেন। এনগোলো কান্তের সঙ্গে পোগবার জুটি দারুণ সাফল্য দিয়েছে দিদিয়ের দেশঁর টিমকে। যার সম্পর্কে কোচ সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষে বলেছিলেন পোগবা ফ্রান্স টিমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ফর্মে না থাকলেও ভরসা জুগিয়েছেন পোগবাকে।

পোগবার মতোই ফাইনালে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় টিমের তারকা ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতিও। ক্রোয়েশিয়া ফুটবলারদের শারীরিক ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন তিনি। খেলায় বিশেষ সৌন্দর্য না থাকলেও শারীরিকভাবে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ক্রোয়েশিয়া। উমতিতির কথায়, ‘দারুণ ফাইনাল হবে। আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী টিম। আবার ক্রোয়েশিয়ার ব্যক্তিগত প্রতিভা অসাধারণ। বিশ্বের অন্যতম দুই সেরা মিডিও ইভান রাকিটিচ এবং লুকা মড্রিচ ক্রোয়েশিয়া টিমের স্তম্ভ। মান্ডজুকিচও ইংল্যান্ড ম্যাচে সময়ের সঙ্গে ঝলসে উঠেছে।’

উমতিতির বিশ্বাস ক্রোয়েশিয়া তিনটি ম্যাচ ১২০ মিনিটের খেললেও ফাইনালে ক্লান্তি কোনোভাবেই তাঁদের প্রতিপক্ষকে গ্রাস করবে না। আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে। বার্সেলোনা ডিফেন্ডার শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁর ক্লাব সতীর্থ লিওনেল মেসিকে দারুণ টেক্কা দিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে লুইস সুয়ারেজের উরুগুয়েকে আটকাতে সক্ষম। রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে রাকিটিচের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাঁকে। উমতিতি আত্মবিশ্বাসী এই চ্যালেঞ্জেও তিনি সফল হবেন। রাকিটিচ প্রসঙ্গে উমতিতির বক্তব্য, ‘টেকনিকের দিক থেকে রাকিটিচ খুবই উচ্চমানের। পাসিং দক্ষতাও অসাধারণ। সারা মাঠ জুড়ে খেলতে পারে। মড্রিচের সঙ্গে জুটি বেঁধে দারুণ দারুণ খেলছে। ওদের ফাঁকা খেলতে দিলেই বিপদ। সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রতিযোগিতার মাঝেই পোগবা বলেছিলেন তিনিই বিশ্বকাপের সবথেকে সমালোচিত ফুটবলার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রশ্ন ওঠে পল পোগবার পারফরম্যান্স নিয়ে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। ইউরো কাপের ফাইনালে প্রথম একাদশের মধ্যে ৬ জন ফুটবলার এই বিশ্বকাপে আছেন। যার মধ্যে পোগবা অন্যতম। বিশ্বকাপ জয় তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ। আত্মবিশ্বাসী পোগবা এই চ্যালেঞ্জ উপভোগ করছেন। ১৯৯৮সালে ১২ই জুলাই প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। ২০বছর ৩দিন পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সামনে পোগবার দেশ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement