সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে
ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের
আহ্বান ১২ই জুলাই কমিটির

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১৩ই জুলাই , ২০১৮

কলকাতা, ১২ই জুলাই— একদিকে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। অন্যদিকে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাধীন চিন্তাভাবনার ওপর ফতোয়া। এই দুই চরম বিপদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানালো ১২ই জুলাই কমিটি। বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় সমস্ত ক্ষেত্রের প্রতিটি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে লড়াই সংগ্রামের বার্তা দেওয়ার শপথ নিলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

এদিন দেশ ও রাজ্যের বিপন্ন গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন শ্রমিক, কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। তাঁরা তীব্র প্রতিবাদ জানান, সরকারের উদার অর্থনীতি এবং পুঁজিপতি তোষণের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ধর্মকে সামনে রেখে ছড়িয়ে দেওয়া হিংসা ও সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করারও আহ্বান জানান তাঁরা। কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শতবার্ষিকী হলে আয়োজিত হয় এই সভা।

‘অর্থনীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কর্তব্য’ শীর্ষক বিষয়ে মূল বক্তব্য রাখেন অনুনয় চট্টোপাধ্যায়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ১২ই জুলাই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সমীর ভট্টাচার্য, রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয়শংকর সিনহা, নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব উৎপল রায়, নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সমর চক্রবর্তী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন অনুপ চক্রবর্তী।

সভায় দেশ ও রাজ্যের বিপন্ন গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ব্যাখ্যা করেন অনুনয় চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘নয়া উদার অর্থনীতি সরকারের এক বেপরোয়া পদক্ষেপ। এখন তো কলোনি সেভাবে আর নেই। এখন আছে অর্থনৈতিক উপনিবেশ। এখানে আমাদের দেশে যে বাজেট তৈরি হয় তার কর্তাব্যক্তিরাই তো আমেরিকার লোক। ভারত সরকার তাদের রক্ষা করে মাত্র। এই বেপরোয়া পুঁজিবাদ ডেকে আনছে শ্রমিক কর্মচারীদের শোষণ।’ তাঁর কথায়, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে ক্রমশ পিছু হটছে সরকার। কৃষকদের আয় নাকি বেড়েছে— এই ধরনের মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে মোদী সরকার। একই প্রচার চলছে মমতা ব্যানার্জির সরকারেরও। প্রতিরক্ষাকেও বেসরকারিকরণ করছে। প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা দেশের সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছে মোদী সরকার। অস্থায়ী কর্মী বাড়ছে। শ্রমিকরা ছাঁটাই হচ্ছেন। ব্যাঙ্ক বিমা বেসরকারিকরণ হচ্ছে— নিরাপত্তা হারাচ্ছেন গ্রাহক ও কর্মীরা। এসব কি দেশ এগিয়ে চলার লক্ষণ? মমতা সরকার তো পারতো মোদী সরকারের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করতে। তা তিনি করলেন না। এখন এসব ভাবার সময় এসেছে। শ্রমিক কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তীব্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চাই এখন। আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে।

‘প্রত্যেক সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে’, মন্তব্য করেন সমীর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই আক্রান্ত। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, শ্রমজীবী মানুষ কেউ বাদ নেই এই আক্রমণ থেকে। অন্যদিকে ধর্ম নিরপেক্ষতা এখন কঠিন বিপর্যয়ের মুখে। মোদী সরকারের একটার পর একটা কাজ সাধারণ মানুষের বিপক্ষে যাচ্ছে। এ রাজ্যের অবস্থাও তথৈবচ। লুম্পেন রাজ চলছে এখানে। ১২ই জুলাই কমিটি’র আহ্বান, এক ঐক্যবদ্ধ কঠিন লড়াইয়ের। গোটা দেশ জুড়ে আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। তার আগে আমাদের আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে। আগামী ৫ই নভেম্নর দিল্লি অভিযানে আমরা থাকছি।’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement