মিথ্যা হলফনামা দিয়ে ভোটে
জেতা তৃণমূল নেতার
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১১ই আগস্ট , ২০১৮

মাথাভাঙা, ১০ই আগস্ট — তিনি শাসকদলের অঞ্চল সভাপতি। টাকাগাছ এলাকার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। পঞ্চায়েত ভোটে লড়েছিলেন। ‘উন্নয়নকে’ রাস্তায় দাঁড় করিয়ে ড্যাং ড্যাং করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেও গিয়েছিলেন মীর মহিরুদ্দিন। কিন্তু মাত্র দুটি আপাত নিরীহ ফ্লেক্স মীর মহিরুদ্দিনের মসৃণ চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে।

কোচবিহার কলেজের ছাত্র মাজিদ আনসারী খুন হবার পর রাতের অন্ধকারে একদল মানুষ জেলাশাসক ও পুলিশসুপারের অফিসের সামনে মাত্র দুটি ফ্লেক্স টাঙিয়ে প্রশ্ন তোলেন খুনের আসামি কি করে মিথ্যে হলফনামা দিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়ায়?  কেন তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এর পরেই আর প্রশাসনের চুপ করে থাকা সম্ভব হয়নি। জেলা পুলিশসুপার ভোলানাথ পাণ্ডে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকের কাছে।

কি বলছে পুলিস?  খুনের মামলায় জড়িয়ে মীর মহিরুদ্দিন প্রায় এক বছর ধরে পুলিসের খাতায় নিখোজ!

গত বছর ১৫ই জুলাই নিজের বাড়ির সামনেই খুন হন মাংস বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম। সেই খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় মীর মহিরুদ্দিনের। সেই সময় এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা মীর মহিরুদ্দিনের বাড়িতে হামলাও চালায়। তার বিরুদ্ধে ৩০২, ১২৩ বি ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়। যার কেস নাম্বার -১২৮/১৭ তাং-১৫/০৭/১৮।

এলাকাবাসীদের বক্তব্য শাসকদলের দাপুটে নেতা একদিনের জন্যও ফেরার ছিলেন না। পুলিশ এতদিন সব দেখেও চোখ বন্ধ করেছিল। কিন্তু কলেজ ছাত্র মাজিদ আনসারী খুনের পর নাম জড়িয়ে পড়ে জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য মুন্না খানের। প্রথমে পুলিশ চুপ করে থাকলেও ছাত্র আন্দোলনের চাপে মুন্না খান এখন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে। আর তাতেই বিপত্তি বেড়েছে দাপুটে নেতা মীর মহিরুদ্দিনের। তিনি ছিলেন,মুন্না খান ঘনিষ্ঠ।

জানা গেছে, পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়ানোর জন্য, মীর মহিরুদ্দিন হলফনামার ১ এর খ-এ স্পষ্ট লেখেন, তার নামে কোন ফৌজদারি মামলা নেই! কোচবিহারের জেলাশাসক কৌশিক সাহা বলেন, কেউ তথ্য গোপন করে হলফনামা জমা দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইন রয়েছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement