নিচু জাতের মেয়েকে বিয়ে
করায় মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান
করতে দিল না বাবা, দাদা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১১ই আগস্ট , ২০১৮

ধূপগুড়ি, ১০ই আগস্ট— অন্ধ কুসংস্কার এখনও কিছু মানুষের মধ্যে যে দৃঢ়ভাবে মজ্জায় মজ্জায় গেঁথে রয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল ধূপগুড়িতে। বাড়ির ছোট ছেলে নমশুদ্র সমাজের মেয়েকে বিয়ে করায় বাড়ি থেকে বিতারিত করা হয়েছিল ছয়বছর আগে। এবার মায়ের মৃত্যুতে অশৌচ পালন করে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করতে চাওয়ায় মারধর করে তাড়িয়ে দিল বাবা দাদা বোন। এই ঘটনা ধূপগুড়ি শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলো মিটার দূরে মাগুরমারি ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝুমুর এলাকার। এই গ্রামের বাসিন্দা নিখিলরঞ্জন চক্রবর্তীর ছোট ছেলে রূপম চক্রবর্তী বছর ছয় আগে নিজেদের ইচ্ছায় ঝুমুরগ্রামের মাম্পি সরকারকে বিয়ে করে। সেদিন বৌ নিয়ে বাড়িতে এলে মা বাবা দাদা দিদি সকলেই রে রে করে উঠে জানিয়ে দেয় নিচু জাতের মেয়ে বিয়ে করে বাড়িতে ঠাই হবে না। বাধ্য হয়ে সে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে ধূপগুড়ির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ি ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে। পেশায় পেট্রল পাম্পের কর্মী এই যুবক জানায়, তাদের একটি পুত্র সন্তান আছে। গত বৃহস্পতিবার তার মা অনিতা চক্রবর্তী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রূপম শ্মশানে ছুটে গিয়ে মায়ের শেষ যাত্রা দেখে। দাহ কার্য শেষ হলে সে বাড়িতে গিয়ে বাবা দাদা সকলকে জানায় মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান পর্যন্ত তাকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হোক। সে আরও বলে ঘর না দিলেও চলবে বাড়ির বাইরে থাকতে দিলেও হবে। কিন্তু সেই অনুমতি তাকে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে নিজের ভাড়া বাড়িতে ফিরে যায় এখানে সব ঘটনা শুনে বাড়ির মালিক জানিয়ে দেয় তার বাড়িতে কোন শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা যাবে না। রূপম ফের ঝুমুরে বাবার কাছে গিয়ে আরজি জানালে বাবা নিখিল চক্রবর্তী ও দাদা অনুপম চক্রবর্তী ভগ্নিপতি সুকান্ত মজুমদার দিদি বনশ্রী চক্রবর্তী সকলে মিলে মারধর করে। গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারা এগিয়ে এসেও কোনও সমাধান করতে পারেনি। এর পর রূপম ধূপগুড়ি থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ শুক্রবার গ্রামে গিয়ে চক্রবর্তী পরিবারের সাথে কথা বলেও কিছু সুরাহা করে দিতে পারেনি। থানা থেকে বলে দেওয়া হয় তুমি শ্বশুরবাড়িতে চলে গিয়ে সেখানেই মায়ের কাজ করো। এই ঘটনায় রূপম একেবারেই হতাশ হয়ে পড়ে। শুক্রবার বিকেলে সে জানায় মায়ের মৃত্যুর পর দুদিন হলো স্ত্রী সন্তান নিয়ে পথে পথে ঘুরছি কিছু খাবার জোগাড় করতে পারিনি। আমার সব থাকতেও কিছুই নেই। সে বলে আমাদের সমাজ এখনও জাতপাত বিচার করে চলে। মায়ের কাজ করার জায়গা না পেলে করব না। দেখি সমাজের মানুষজন কি বিচার করে, কে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement