জুনিয়র হাই স্কুলে একজনই
শিক্ষক, তাঁর অনুপস্থিতিতে
শিকেয় উঠেছে পড়াশোনা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১১ই আগস্ট , ২০১৮

মুরারই, ১০ই আগস্ট— পড়ুয়ার সংখ্যা ১৭৩। শিক্ষক বলতে একজনই। তিনি আবার দুর্ঘটনায় পায়ে গুরুতর চোট পেয়ে শয্যাশায়ী। পরিণামে শিকেয় উঠেছে পড়াশোনা। মিড ডে মিলের পাটও আপাতত লাটে। একদিন বা দুদিন নয়, এই জুনিয়র হাই স্কুলের তালাই খোলা হয়নি প্রায় পঁচিশ দিন! উঁকিও মেরে দেখেননি শিক্ষা দপ্তরের কেউ, অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এ রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার এক জঘন্য দৃষ্টান্ত বীরভূমের রাজগ্রাম ভিলেজ এই জুনিয়র হাই স্কুল।

জানা গেছে, মুরারই থানা এলাকার এই স্কুলটি অনুমোদন পায় ২০১১-১২ সালে। গ্রামের মানুষের অভিযোগ, শুরু থেকেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে স্কুলটি। অথচ বর্ধিষ্ণু এই গ্রামের ভালো সংখ্যক ছেলেমেয়ের ভরসা এই জুনিয়র স্কুল। মাত্র একজন শিক্ষক কোনোমতে চালাচ্ছিলেন স্কুলটি। তিনিও এখন অনুপস্থিত। শিক্ষক অনির্বাণ চৌধুরিকে ফোনে ধরা হলে তিনি জানান, “গত ১৭ই জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে আমি পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পাই। ওইদিনই মুরারইয়ে চিকিৎসক দেখিয়ে দুর্গাপুরের বাড়িতে ফিরে আসি। দুর্গাপুরের চিকিৎসক জানিয়ে দেন পায়ের আঘাত গুরুতর। কিছু দিন চলাফেরা করা যাবে না। সেই মতো এখন আমি বাড়িতেই শয্যাশায়ী। বিষয়টি স্কুল পরিদর্শককে জানিয়েছি।’’

এই অবস্থায় স্কুলের একমাত্র শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে বন্ধ পঠনপাঠন। রান্না চাপে না মিড ডে মিলেরও। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের এমন অচলাবস্থায় কে বা কারা ভেঙে ফেলেছে স্কুলের জানালা, আসবাব। ক্লাস ঘরে জমেছে পুরু ধুলোর আস্তরণ। মাকড়সার জাল দখল নিয়েছে শ্রেণিকক্ষের। স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইরফান শেখ, ছাত্রী আরিনা খাতুনরা বলেন, “আমাদের মাস্টারমশাই একজনই। এমনিতেই ঠিকঠাক পড়াশোনা হয় না। এখন তো মাস্টারমশাইও আসে না। ফলে আমরা বাড়িতেই পড়াশোনা করছি। স্কুলে যাই না।’’ গ্রামেরই অভিভাবক নুরনেহার বিবি বলেন, “মাসখানেক ধরে স্কুল বন্ধ। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে না। গৃহশিক্ষকের কাছে গিয়ে পড়াশোনা করছে। প্রয়োজন মতো গৃহশিক্ষক দিতে পারছি না। অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’’

মুরারই চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সেলিম দফাদারকে এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “ওই শিক্ষক আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত জানায়নি। আমরা গেস্ট শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেছি।’’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement