পরিস্থিতি গুরুতর, শিবভক্তির নামে
তাণ্ডবে প্রতিক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের

সংবাদসংস্থা   ১১ই আগস্ট , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১০ই আগস্ট— শিবভক্তির নামে তাণ্ডব এবং অব্যবস্থায় উদ্বেগ জানালো সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রের ভূমিকায় অসন্তোষও গোপন করেনি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছে, কেন্দ্রের পদক্ষেপের অপেক্ষায় আর থাকা হবে না। পরিস্থিতি গুরুতর। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে আদালতই।

মূল মামলাটি দায়ের হয়েছিল ‘পদ্মাবত’ সিনেমা প্রকাশের সময় উগ্র প্রতিবাদ এবং হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে। শুক্রবার শুনানির সময় কেন্দ্রের সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বলেন যে এমন উগ্র প্রতিবাদ হচ্ছে দেশের যত্রতত্র। এই প্রসঙ্গে দিন কয়েক আগে দিল্লিতে শিবভক্তদের তাণ্ডবের প্রসঙ্গও টানেন বেণুগোপালই। তিনি বলেন, কানওয়ারিয়ারা দিল্লিতে শহরের মধ্যে গাড়ি ভাঙচুর করে উলটে দিচ্ছে। পদ্মাবত সিনেমা মুক্তির আগে একদলকে দেখা গেল প্রধান অভিনেত্রীকে নাক কেটে দেওয়ার হুমকি দিতে। কোনও এফ আই আর হয়নি। শেষ পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি। বেণুগোপাল অবশ্য এদিন কানওয়ারিয়া তাণ্ডবের সঙ্গে মহারাষ্ট্রে মারাঠাদের সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন এবং দলিত বিক্ষোভ প্রসঙ্গও জুড়ে দেন আদালতে।

তাহলে কী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার, প্রশ্ন তোলে বিচারপতিদের বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যে বেঞ্চটির সদস্য বিচারপতি এ এম কানউইলকর এবং ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তখনই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংসদে আইন সংশোধন করতে চাইছে সরকার। দেখা গিয়েছে আঞ্চলিক স্তরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করলে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়। সেই লক্ষ্যে আদালতের উচিত কিছুদিন অপেক্ষা করা। এরপর ক্ষোভ জানিয়ে বেঞ্চ বলে, আপনারা কী করবেন তার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আদালত এমন তাণ্ডব বন্ধ করতে নির্দেশ দেবে। যদিও এদিন কোনও নির্দেশ দেয়নি বেঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্ট কড়া মনোভাব জানানোয় ‘কানওয়ারিয়া’ তাণ্ডব রোধে ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে। শিবভক্তদের বরাবরই শ্রাবণ মাসে দলবেঁধে যাত্রা করতে দেখা যায়। গত কয়েকবছর ধরে এই বাহিনীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেপরোয়া তাণ্ডবের তালিকাও লম্বা হচ্ছে। পশ্চিম দিল্লিতে এদের হামলার ছবি এবং ভিডিও সোশ‌্যাল মিডিয়ায় হু-হু করে ছড়িয়েছে। বিচারপতি চন্দ্রচূড় এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। শিবভক্তির নামে জনজীবন অচল করে দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানান তিনি নিজে। চন্দ্রচূড় বলেন, এই সময়টাতেই ভয়ানক যানজট হয় বারাণসী থেকে এলাহাবাদের রাস্তায়। হাইওয়ের অর্ধেকটা বন্ধ থাকে। দিল্লির ঘটনায় ক্ষোভের প্রতিফলন ধরা পড়ছে সোশ‌্যাল মিডিয়ায়। ভাঙচুরের ভিডিও পোস্ট করে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন ভক্তির এমন নমুনায়। পিছনে মদত কাদের, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

‘পদ্মাবত’ মুক্তির আগে উত্তেজনার বিষয়টিতে মূল মামলাটি দায়ের করেছিল কোডাঙ্গাল্লুর ফিল্ম সোসাইটি। এই সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করছেন আইনজীবী পি ভি দীনেশ। উগ্র তাণ্ডব বা প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে দীনেশ বলেন সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯সালে বিশদ নির্দেশিকা জারি করেছিল। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য সেই নির্দেশিকা যাতে মান্য হয় তা দেখা উচিত।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা ঘিরে গণতান্ত্রিক মহলে আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। ওই নির্দেশিকায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে, সম্পত্তি নষ্ট হলে আন্দোলনে শামিল সংগঠন বা ব্যক্তিবর্গকে আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে। অভিযোগ, শান্তির বাতাবরণ বজায় রাখার নামে বিভিন্ন প্রশাসন বিরোধী প্রতিবাদ দমনে ব্যবহার করছে ওই নির্দেশিকা। কানওয়ারিয়াদের হুজ্জুতি বা ‘পদ্মাবত’ সিনেমা ঘিরে উগ্রতার সঙ্গে দলিত বিক্ষোভ এক করে দেখানো সংগত কিনা, প্রশ্ন আছে তা নিয়েও।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement