সমস্ত এ টি এমে রক্ষীর দাবি
ফের জানালো বি ই এফ আই

নিজস্ব প্রতিনিধি   ১১ই আগস্ট , ২০১৮

কলকাতা, ১০ই আগস্ট— এ টি এমে রক্ষী না থাকলে ভয়াবহভাবে বাড়বে টাকা লোপাটের ঘটনা। সম্প্রতি কয়েকটি এ টি এম জালিয়াতির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানিয়ে ফের সমস্ত এ টি এমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ করার দাবি জানালো ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া। সংগঠনের দাবি, শুধু নিয়োগই নয়, নিরাপত্তা রক্ষীদের কোনওভাবেই ছাঁটাই করা চলবে না। প্রায় ৪৫০০ কর্মী ছাটাই হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। ফলে প্রায় ১৬ হাজার পরিবার চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। এই ছাঁটাই হওয়া রক্ষীদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে। সংগঠনের আরও দাবি, এজেন্সি নয়, নিরাপত্তা রক্ষীদের চাকরিগত সুযোগ সুবিধা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকেই।

ব্যাঙ্ক কর্তৃক নিয়োজিত এজেন্সিগুলি নিরাপত্তাকর্মীদের শোষণ করছে বলে বক্তব্য বেফি’র নেতৃবৃন্দের। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা অভিযোগ করেন, ৮ ঘণ্টা কাজের জায়গায় আরও অনেক বেশি কাজ করিয়ে তার যথার্থ মজুরি বেশিরভাগ সময়েই দিচ্ছে না এজেন্সিগুলি। এই রক্ষীদের নেই ন্যূনতম মজুরি বা চাকরিগত সুযোগ সুবিধা। তিন শিফটের নামে দুই শিফটে কাজ করিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে তিন শিফটের বিলের টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে এজেন্সিগুলির বিরুদ্ধে। সংগঠনের বক্তব্য, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ব্যাঙ্কগুলি এ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করছে না। ব্যাঙ্কেরই কাজ করতে এসেছেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। অথচ তাঁদের কোনও সুবিধা দেখছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এজেন্সিগুলি অন্যায়ভাবে কর্মী ছাঁটাই করলেও ব্যাঙ্ক কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এসবের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বিশ্বাস, ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব দাশগুপ্ত, ব্যাঙ্ক কর্মচারী আন্দোলনের নেতা দেবাশিস বসু চৌধুরি, ব্যাঙ্ক কন্ট্রাকচুয়াল অ্যান্ড কনট্রাক্ট ওয়ার্কমেনস ইউনিয়নের সভাপতি মিলন দাস, সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ প্রমুখ।

ব্যাঙ্ক জালিয়াতি বাড়ছে বলে মন্তব্য করে প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, এটা গভীর উদ্বেগের বিষয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা যাচ্ছে ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরে দেশে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির সংখ্যা ছিল ৪৩০৬টি। প্রায় ১০ লক্ষ ১৭ হাজার টাকার জালিয়াতি হয়েছিল সেই বছর। আর ২০১৭-১৮ বর্ষে জালিয়াতির সংখ্যা ৫৮৭৯। প্রায় ৩২ লক্ষ টাকার ওপর জালিয়াতি হয়েছে। তার অনেকগুলিই হয়েছে নিরাপত্তা রক্ষীর অভাবে। এ টি এম-গুলিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের তরফে বলা হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও তাই বলেছে। কিন্তু তার বাস্তবতা নেই। মুখে বললেও কাজে কেউ কিছু করছে না। কর্মীরা বঞ্চিত ও শোষিতই থেকে যাচ্ছেন। এর বিহিত চাই। পরিসংখ্যান দিয়ে জয়দেব দাশগুপ্ত বলেন, প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার এ টি এম আছে দেশে। রাজ্যে এই সংখ্যা হলো ১২ হাজারের মতো। মোটামুটিভাবে দেখা যাচ্ছে ১৯০০ এ টি এম থেকে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। আরও বহু কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে। ৩ কর্মী ইতিমধ্যে আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা সমস্ত এ টি এমে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আমাদের দাবি, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সমস্ত নিরাপত্তা কর্মীদের চাকরিগত সুরক্ষা সুযোগ সুবিধা দেখতে হবে ব্যাঙ্ককেই। পুনরায় নিয়োগ করতে হবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement