গোল নষ্টের ভিড়েও জয়ের
ভরসা দিল মোহনবাগান

মোহনবাগান ৩ (ডিকা, আজহারউদ্দিন, লালনুন ফেলা) টালিগঞ্জ অগ্রগামী ০

নিজস্ব প্রতিনিধি   ২০শে আগস্ট , ২০১৮

কলকাতা, ১৯শে আগস্ট — প্যাচপ্যাচে মাঠ। আঠার মতো মাটিতে পা আটকে যাচ্ছে। এর মধ্যেই পেনাল্টি নিতে গেলেন ডিপান্ডা ডিকা। ডানদিকের পোস্টে নিচু শট নিলেন। গোলরক্ষক শুভম সেন বাঁচিয়ে দিতেই একরাশ হতাশা।

আগের চারটি ম্যাচের একটিতেও শুরুতে গোল পায়নি মোহনবাগান। ডিকার গোল নষ্ট কিসের ইঙ্গিত? ম্যাচের মধ্যেই কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। জলভরা মেঘ ভেসে আসছে ফোর্ট উইলিয়ামের দিক থেকে। ফ্লাড লাইটের আলো ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সমর্থকদের বিরক্তি বাড়ছে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। উনিশ মিনিট গড়িয়েছে সবে। অরিজিৎ বাগুইয়ের ক্রস থেকে হেড। এবারও ডিপান্ডা ডিকা। তবে এবার বল গোলে। মোহনবাগান এগিয়ে যায়। কলকাতা লিগের পাঁচ ম্যাচে এই প্রথম।

টালিগঞ্জ অগ্রাগামীর বিরুদ্ধে মোহনবাগান যেন অন্যরূপ নেয়। গোল নষ্ট করে শুরুতেই চাপ বাড়িয়ে নিলেও, শেষ পর্যন্ত মোহনবাগান ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। যেখানে বল পায়ে রাখা মুশকিল, সেখানে নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলেছে। বেশি পাস খেলতে গেলে প্রতিপক্ষের পায়ের জালে আটকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু পিণ্টু মাহাতোর দুরন্ত পারফরম্যান্সে মোহনবাগান একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করে। সুযোগ তৈরি করলেও, সেই সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারেনি। অরিজিৎ বাগুইয়ের বাঁ পায়ে নেওয়া ফ্রি কিক থেকে ৩৫ মিনিটে গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। তারপর থেকে হাতে আসা যত সুযোগ নষ্ট করেছেন ডিকা, আজহারউদ্দিনরা, তা নিয়ে সাতকাহন লিখে ফেলা যায় সহজেই।

শুরুর অর্ধে দুই গোলে এগিয়ে যাওয়াতেই বোধ হয় আত্মবিশ্বাস পেয়েছিল সবুজমেরুন শিবির। প্রথম একাদশে পি এম ব্রিটোকে খেলিয়েছেন কোচ শংকরলাল চক্রবর্তী। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আরও দুই তরুণ ফুটবলারকে খেলিয়ে দেখে নিয়েছেন তিনি। আমে গণেশ রানাওয়াড়ে এবং উইলিয়াম লালনুন ফেলাকে খেলিয়েছেন অরিজিৎ বাগুই ও ব্রিটোর বদলে। মোহনবাগানে অভিষেকের এক মিনিটের মধ্যেই গোল করে ব্যবধান বাড়িয়েছেন আইজল থেকে আসা উইলিয়াম লালনুন ফেলা। তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ায় স্বস্তি দিলেও, যে রকম সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন সবুজমেরুন ফুটবলাররা তা চিন্তার কারণ হতে পারে পরবর্তী ম্যাচে। গোল নষ্ট নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন মোহনবাগান কোচ শংকরলাল, ‘যদি একটা গোল হতো, তাহলে চিন্তা হতে পারত। তবে তিন গোল হওয়ায় ততটা চিন্তিত নই।’ এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের শীর্ষে পৌঁছালো মোহনবাগান। এদিকে ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে বসে মদ্যপান করার জন্য দুই সমর্থককে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন সমর্থকরাই।

মোহনবাগান: শংকর, অরিজিৎ (গণেশ রানাওয়াড়ে), লালচন কিমা, কিংসলে, অভিষেক, ব্রিটো (লালনুন ফেলা), শিলটন ডি সিলভা (ক্যালডেরা), সৌরভ, পিণ্টু, আজহারউদ্দিন, ডিকা।



Current Affairs

Featured Posts

Advertisement