বেলাশেষে সোনা জিতলেন বজরং

  ২০শে আগস্ট , ২০১৮

জাকার্তা, ১৯শে আগস্ট— এক চিলতে হলুদের খোঁজ সন্ধ্যা অবধি জারি ছিল। শেষমেশ বজরঙ পুনিয়ার হাত ধরেই ভারতের ঝুলিতে প্রথম স্বর্ণপদক এল। রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচ থামল জাপানের তাকাতানি দাইচিকে ১১-৮ ফলে হারিয়েই। ম্যাচ শেষ হতে বজরঙের জাপানি প্রতিদ্বন্দ্বী বিচারকের একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান। আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। একটি পয়েন্ট অতিরিক্ত পেয়ে যান ভারতীয় কুস্তিগির বজরঙ। সোনা জয়ের পথে ফাইনালের আগে হারিয়েছেন উজবেকিস্তানের খাসানোভ সিরোজিদ্দিন, ফায়জিভ আব্দুলকসিম (তাজিকিস্তান) ও মঙ্গোলিয়ার বাতচুলুন বাতমাগনাইকে। প্রথম রাউন্ডে জিতলেন ১৩-৩ ফলে। তারপর আব্দুলকসিমের বিরুদ্ধেও সহজে ১২-২ ফলে জয় পান। মঙ্গোলিয়ার বাতমাগনাই তাঁর বিরুদ্ধে একটিও পয়েন্ট আদায় করতে ব্যর্থ হন এবং ০-১০ ফলে আত্মসমর্পণ করেন।

ফাইনালের আগে বজরঙ পুনিয়া যে বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন, তাতে তাঁর সোনা জয় প্রত্যাশিতই ছিল। ফাইনালের শুরুটাও সেভাবেই করলেন। একেবারে আগের রাউন্ডগুলোর মতো আগ্রসী মেজাজে। ইরানি কৌশলে প্রথম আক্রমণেই ৬-০ করে নেন হরিয়ানার ২৪ বছর বয়সি কুস্তিগির। সেখান থেকে সোনা খুব দূরে ছিল বলে কেউই মনে করেননি। দাইচি এত তাড়াতাড়ি হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না। বজরঙের হাঁটুর নিচের অংশ লক্ষ্য করে আক্রমণ করছিলেন তিনি। প্রতিবারই পয়েন্ট আসছিল। প্রথম আক্রমণে ৪-৬ করেন দাইচি। দ্বিতীয়বার একেবারে ৬-৬। খেলায় ফিরে এসেছিলেন জাপানি কুস্তিগির। নিজের পা বাঁচাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল বজরঙকে। ম্যাচের রং পালটাচ্ছিল, ভারতের সম্ভাব্য হলুদ পদকও ক্রমশ রুপোলি হতে যাচ্ছিল। সব ভয়-ভীতি গুঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুপয়েন্ট জিতে নেন বজরঙ। পরের একটি মুহূর্তে বজরঙ ও দাইচি দুজনেই দুপয়েন্ট করে পেলে স্কোর দাঁড়ায় ১০-৮।

ম্যাচের দশ সেকেন্ড তখন বাকি। কোনোমতে ওই দশটা সেকেন্ড কাটিয়ে দিতে পারলেই প্রথম ভারতীয় হিসাবে জাকার্তা এশিয়াডে সোনা জিতবেন। দাইচি ঝাঁপিয়ে পড়ে গোড়ালি লক করার চেষ্টা করেন। বিপদ বাড়ার আগেই সময় শেষ হয়ে যায়। দাইচি বিচারকদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান সঙ্গে সঙ্গেই। তাতে কাজের কাজ হয়নি। উলটে একটি পয়েন্ট যোগ হয়ে বজরঙের পক্ষে ম্যাচের ফল ১০-৮ থেকে ১১-৮ হয়ে দাঁড়ায়। চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতের পতাকা নিয়ে কুস্তির ম্যাটে চক্কর কাটলেন আনন্দে। কুস্তি দলের সহকারীরা তাঁকে কাঁধে তুলে নেন। দেশের বিখ্যাত কুস্তিগির যোগেশ্বর দত্তকে নিজের গুরু মানেন বজরঙ। ২০১৪-তে ইঞ্চেয়নে যোগেশ্বর ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে সোনা জিতেছিলেন। শিষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যোগেশ্বর ট্যুইট করেন, ‘এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের জন্য অনেক অভিনন্দন। এভাবেই দেশের পতাকা উঁচু করে যাও। দেশের নাম উজ্জ্বল করে যাও। আমি এবং গোটা দেশ তোমাকে নিয়ে গর্বিত।’

এদিন কুস্তির পাঁচটি বিভাগে নামা প্রত্যেকের থেকেই পদক জয়ের আশা করেছিল দেশ। সন্দীপ তোমার (৫৭ কেজি), মৌসম খাত্রি (৯৭ কেজি) ও পবন কুমার (৮৬ কেজি)–রা শুরুতেই হারেন। পবন যাঁর কাছে হারেন, তিনি ফাইনালে পৌঁছানোয় তাঁর কাছে রেপিশাজের সুযোগ ছিল। দ্বিতীয় সুযোগেও ০-১১ হারেন। দিনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা সুশীল কুমারের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ছিটকে যাওয়া। বজরঙের সাফল্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাইনা নেহাল, বিজেন্দর সিং, বীরেন্দ্র সেওয়াগরা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement