বিজ্ঞানীকে ৫০লক্ষ টাকা
ক্ষতিপূরণ সুপ্রিম কোর্টে

সংবাদসংস্থা   ১৫ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১৪ই সেপ্টেম্বর— ‘ইসরো’-র তথ্য বিদেশে পাচারের মামলায় বিজ্ঞানী নাম্বি নারায়ণকে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন ছিল না জানাল আদালত। এই মামলায় বিজ্ঞানী নারায়ণনকে আদালত ৫০লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন ডিভিসন বেঞ্চে ইসরো গুপ্তচর মামলার শুনানি হয়। দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’ সংক্রান্ত এই সংবেদনশীল তদন্তের শুরু ১৯৯৪-এ।

এই মামলায় বিজ্ঞানী নারায়ণনকে অযথা গ্রেপ্তার, হেনস্তা এবং মানসিক নৃশংসতার শিকার হতে হয় বলেই জানিয়েছে আদালত। তদন্তকারী কেরালা পুলিশের আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের ডিভিসন বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি এ এম খানউইলকর এবং ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানী নারায়ণনকে ফাঁসানোর মামলায় তদন্তের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি ডি কে জৈনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্যানেলও গঠন করেছে।

প্রসঙ্গত, নারায়ণনকে গুপ্তচর হিসাবে ফাঁসানোর ক্ষেত্রে কেরালার প্রাক্তন ডি জি পি এবং অবসরপ্রাপ্ত দুই এস পি কে কে জোসুয়া এবং এস বিজয়নকে চিহ্নিত করে সি বি আই। যদিও অভিযোগ থাকা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনও দরকার নেই জানায় কেরালা হাইকোর্ট। কেরালা হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন নারায়ণন।

১৯৯৮সালে নারায়ণন এবং মামলায় জড়িত অন্যদের ১লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। রাজ্য সরকারকে আদালতের থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে (এন এইচ আর সি) মানসিক যন্ত্রণা ও অত্যাচারের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেন নারায়ণন। দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর ১৯৯৮সালের ২৯শে এপ্রিল অন্তবর্তীকালীন ১০লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে এন এইচ আর সি।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে নারায়ণন বলেন, ইসরো গুপ্তচর মামলায় কেরালা পুলিশ তাঁকে পরিকল্পিতভাবেই ফাঁসিয়েছিল। তিনি আরও জানান, ১৯৯৪সালে যে প্রযুক্তি চুরি করে বিক্রি করার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার কোনও অস্তিত্ত্বই ছিল না।

অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে কেরালায় কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্পর্ক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন করুণাকরণকে সরাতে ইসরোর তথ্য পাকিস্তানকে পাচারের অভিযোগ আনার পিছনে কংগ্রেসেরই অপর নেতা এ কে অ্যান্টনির হাত ছিল। করুণাকরণের পরিবারও এমন অভিযোগ তুলেছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement