উঠল দৃপ্ত স্লোগান, বাজল মাদল
‍‌পুরুলিয়ায় সূচনা অধিকার যাত্রার

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১৫ই সেপ্টেম্বর , ২০১৮

পুরুলিয়া, ১৪ই সেপ্টেম্বর— লালঝান্ডার স্রোত সোচ্চারে জানিয়ে দিল পুরুলিয়াবাসীর মনের কথা। লালপতাকা আর মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে দৃপ্ত মানুষের পদচারণা জানান দিল, অধিকারের জন্য লড়াই এই অধিকার যাত্রাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বি পি এম ও-র আহ্বায়ক শ্যামল চক্রবর্তী পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে যাত্রার সূচনা করেন। পদযাত্রা যত এগিয়েছে, লালঝান্ডা হাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ততই বেড়েছে। রাস্তার দুই ধারে মানুষ ফুল ছড়িয়ে তাঁদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। কোথাও আবার আদিবাসী ও কলাকুশলী সঙ্ঘের সদস্যরা ধামসা-মাদল বাজিয়ে সংবর্ধিত করেছেন পদযাত্রীদের। সারাদিন পর এদিন সন্ধ্যা নাগাদ অধিকার যাত্রা পৌঁছায় রঘুনাথপুরে। শেষ হয় প্রথম দিনের অভিযান। শনিবার সকালে ফের যাত্রা শুরু হবে।

শুক্রবার সকালে পুরুলিয়া ট্যাক্সি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা ঢেকে গিয়েছিল লালপতাকায়। সেখানে অধিকার যাত্রার সূচনা করে বক্তব্য রাখেন শ্যামল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, শ্রমিক-কর্মীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ সেই কারণেই। একদিকে রাজ্যে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। আর অন্যদিকে নিরাপত্তা কমছে মানুষের, মেয়েদের জন্য বিপদ বাড়ছে। একে তো রাজ্যে শিল্প আর কলকারখানা প্রায় নেই। তার উপর ছাঁটাইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। স্থায়ী কাজের বদলে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ হচ্ছে, যাঁদের কোনও সামাজিক সুরক্ষা নেই। কেন্দ্রের উদারীকরণ নীতির কুফল ফলছে। এসব চলবে না। স্থায়ী কাজের সঙ্গে ন্যূনতম বেতন ১৮হাজার টাকা দিতে হবে শ্রমিক ও কর্মচারীদের। শ্যামল চক্রবর্তী রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বামফ্রন্টের আমলে কেউ না খেয়ে মারা যাননি, কিন্তু এখন হচ্ছে। কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর মানুষের টাকা লুট করে একদল বিদেশে উধাও হচ্ছেন। এর বিরুদ্ধেই আজ পথে নেমেছে বি পি এম ও।

এদিন বক্তব্য রেখেছেন বি পি এম ও-র জেলা আহ্বায়ক নিখিল মুখার্জি। তিনি বলেন, পুঁজিপতিদের সরকার কৃষকদের ঋণ মকুব করে না। সরকার জিনিপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ। সাধারণ মানুষ জীবন যুদ্ধে জেরবার হয়ে পড়ছেন। এর আরও জোরালো প্রতিবাদ হবে আগামী দিনে। এদিন অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হারাধন ব্যানার্জি, নরহরি মাহাতো, দীপক দাস প্রমুখ। সভাপতিত্ব করে কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, অত্রি চৌধুরি, স্বপন মাহাতা, সাম্যপ্যারী মাহাতো, কাশীনাথ ব্যানার্জি ও তপন রায়চৌধুরিকে নিয়ে গঠিত এক সভাপতিমণ্ডলী। উপস্থিত ছিলেন সি পি আই (এম) জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়। অধিকার যাত্রা এরপর গঙ্গাবাড়ি, আনারা, কুস্তাউর, লিপানিয়া অতিক্রম করে। বহু মানুষ সংবর্ধনা জানান পদযাত্রীদের। রঘুনাথপুরে পদযাত্রীরা পৌঁছালে সেখানে সভায় বক্তব্য রাখেন অমিয় পাত্র, প্রদীপ রায় এবং অন্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন শক্তি বাউরি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement