ঘাটাল হাসপাতালে বিক্ষোভ
চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যু
প্রসূতি, নবজাতকের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

মেদিনীপুর, ১১ই অক্টোবর— চিকিৎসার গাফিলতিতে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রসূতি ও তাঁর নবজাতক শিশুর মৃত্যু হলো। সেই অভিযোগে হাসপাতালে তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানালেন মৃতের পরিবারসহ অন্যান্য রোগীর বাড়ির লোকজন।

মৃতার স্বামী প্রসেনজিৎ মাইতি জানান, নামে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। বাইরে নীল-সাদা ঝাঁ চকচকে রং। আর ভিতরে পরিষেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, ডাক্তার, নার্স নেই। চরম গাফিলতির কারণেই এমন হাসপাতালে স্ত্রী ও নবজাতকের মৃত্যু হলো। সোমবার মধ্যরাতে প্রসব যন্ত্রণা হওয়ায় খুকুমণি মাইতিকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর স্বামী। তখন ভোর সাড়ে চারটা হবে। হাসপাতালের খাতায় মঙ্গলবার ৯ই অক্টোবর ভর্তি করানো হয়। প্রসূতিকে স্যালাইন দিয়ে রেখে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বলা হয় ডেলিভারির দেরি আছে। ফলে মঙ্গলবার সারা দিন বেডেই রেখে দেওয়া হয়। প্রসূতির শারীরিক অবস্থা তারপর খারাপ হতে থাকে। প্রসূতি বিভাগের কোনও ডাক্তারকে দেখতে না পেয়ে বারে বারে নার্সদের বিষয়টি জানান প্রসূতির পরিবার। বুধবার দুপুরে প্রসূতিকে ডেলিভারি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ সেই রুমে রাখা হয়। সন্তান জন্মানোর পর বলা হয় শিশুটি মৃত। গর্ভের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। দুইদিন ধরে হাসপাতালে প্রসূতিকে চিকিৎসা না করে এইভাবে ফেলে রাখার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু হাসপাতালের সুপার বলেন, জন্মানোর পর মৃত্যু হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথার বলার সুযোগ দেননি।

বুধবার থেকেই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়েছিল। মৃত সন্তান প্রসবের সময়ের পর থেকে আরও অবনতি হতে থাকে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ঐ প্রসূতিরও মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবার চরমতম অব্যবস্থা ও অবহেলার কারণে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতালের গেটে তুমুল বিক্ষোভ হয়। পরিবারের লোকজনসহ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা মানুষজন প্রতিবাদে শামিল হন। পরিবারের পক্ষ থেকে সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement