তরুণীকে প্রতারণা, মারধরে
অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

রায়গঞ্জ, ১১ই অক্টোবর— বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুবছর সহবাসের পরে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে তরুণীকে প্রতারণা ও তার প্রাণনাশের অভিযোগ উঠল কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবলের পরিবারের বিরুদ্ধে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই তরুণী। খবর পেয়ে পাশে দাঁড়ালো সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দ। প্রতারণার দায়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে মহিলা সমিতি।

জলপাইগুড়ি রাজগঞ্জের সাহেবগঞ্জে তরুণীর বাড়ি। দাদা পুলিশ কনস্টেবল। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের বাসিন্দা আকবর সিদ্দিকি কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। পারিবারিক সম্পর্ক হতেই আকবর সিদ্দিকির সঙ্গে বন্ধুর বোনের সম্পর্ক তৈরি হয়। দুবছর দুজনের জলপাইগুড়ি থেকে ইসলামপুর আসা যাওয়া চলে। বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেয় যুবক। বিয়ের আগাম খরচ হিসাবে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়েও নেয় আকবর ও তার পরিবার। প্রলোভন দেখিয়ে মাসখানেক ধরে আরও টাকার দাবিও করে সে। বিয়ের দিন কবে ঠিক হবে তা নিয়ে পাকা কথা বলার জন্য আকবরের মা পেয়ার বেগম ১লা অক্টোবর তরুণীকে ইসলামপুরের বাড়িতে ডেকে পাঠায়। ফোন পেয়ে তরুণী ৫ই অক্টোবর ইসলামপুরে আসে। তাকে বলা হয় আরও টাকা না দিলে অন্যত্র ছেলের বিয়ে দেওয়া হবে। এই নিয়ে বচসা থেকে ঘরে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি থেকে তরুণীর পরিবার ইসলামপুরে পৌঁছায়। তরুণীর বাবা প্রতারক হবু জামাই, মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তরুণীর পরিবারের সদস্যরা প্রতারক পুলিশ কনস্টেবলের শাস্তির দাবি জানিয়ে রায়গঞ্জের সাংসদের কাছেও আবেদন করেন। বুধবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে তাঁর সাথে দেখা করেন। সমস্ত ঘটনা শুনে ইসলামপুর থানায় আই সি-র সাথে দেখা করে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি করেন তাঁরা। ইসলামপুর থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার ৫দিন কেটে গেলেও তরুণীর এখনো শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়নি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement