বললেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি
রাশিয়ার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার
জের শীঘ্রই টের পাবে ভারত

সংবাদসংস্থা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

নয়াদিল্লি, ১১ই অক্টোবর— রাশিয়ার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জের ভারত শীঘ্রই টের পাবে বলে হুমকি শুনিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সপ্তাহও হয়নি, দূরপাল্লার রুশ এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তিতে সই করেছে দিল্লি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা ছিলই। ট্রাম্প বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা চাপবে কি না, তা খুব শীঘ্রই ‘বুঝতে পারবে’ ভারত।

নতুন আইন কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশন অ্যাক্ট (সি এ এ টি এস এ) অনুযায়ী ইরান, গণতান্ত্রিক কোরিয়া অথবা রাশিয়ার সঙ্গে ‘তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবসায়িক লেনদেন’ করা যে কোনও দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের মতো দেশকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়ার জন্য অতি সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাশ হলেও, এখনও পর্যন্ত তাতে সই করেননি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পুতিনের দুদিনের ভারত সফরে দিল্লি ও মস্কোর মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি হয়। জাঁক করে সেকথা ঘোষণা না করে যৌথ বিবৃতির ৪৫ অনুচ্ছেদে বলা হলেও, সেদিনই নরমে গরমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ‘শরিক দেশের’ কথা মনে রেখে প্রাথমিকভাবে সংযত প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথা না বললেও, একেবারে উড়িয়েও দেয়নি।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বুধবার ভারত-রাশিয়া চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, খুব শীঘ্রই ‘ভারত বুঝতে পারবে। তাই নয় কী?’

‘ভারত এখনই বুঝতে শুরু করেছে।’ বলেছেন ট্রাম্প। আরও স্পষ্ট উত্তর চেয়ে নাছোড় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যোগ করেছেন, ‘আপনারা দেখতে পাবেন। শীঘ্রই দেখতে পাবেন। আপনাদের ভাবনার চেয়েও দ্রুত সময়ের মধ্যে তা দেখতে পাবেন।’

সি এ এ টি এস এর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প যখন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, তখন সেই ঘরে ছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেও। পরে আবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পম্পেও এবং মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব জেমস ম্যাটিস আগে ভারতকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে ছিলেন।

আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে একমাত্র ট্রাম্পই ভারতকে দিতে পারেন এই ছার।

ভারতের আশা এই সমরাস্ত্র ব্যবস্থায় ছাড় পাওয়া যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে, কারণ নয়াদিল্লির চোখে এটি হবে চীনের সামরিকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক। তাছাড়া, এই অঞ্চলে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিশ্বস্ত দেশ।

দুসপ্তাহও হয়নি, এই একই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রাশিয়ার থেকে কেনার জন্য চীনের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ভারতের ক্ষেত্রে কী হবে? প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় নরমে গরমে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, ‘বিদ্বেষমূলক আচরণের’ জন্য রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ ‘শরিক বা পার্টনারদের’ সামরিক সক্ষমতাকে ক্ষতি করার লক্ষ্যে নয়। সেইসঙ্গে এও জানিয়েছিল, ব্যবসায়িক লেনদেন ভিত্তিক এই ছাড় দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ‘ছাড় দেওয়ার কর্তৃপক্ষ ছাড়ের কার্পেট পেতে বসে নেই। এটা হবে লেনদেন ভিত্তিক। ছাড় বিবেচনার করার জন্য রয়েছে কড়া মাপকাঠি।’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement