ছাত্রনেত্রীকে গ্রেপ্তারে তীব্র
ধিক্কার শিলিগুড়ির মানুষের

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

শিলিগুড়ি, ১১ই অক্টোবর — সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রনেত্রী সুকৃতি আঁশকে গ্রেপ্তার করায় তীব্র ধিক্কার জানালেন শিলিগুড়ির সংবেদনশীল মানুষ। তাঁদের কথায়, যে তৎপরতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো, সেখানে দাগী দুষ্কৃতীরা গরাদের বাইরে কেন? ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ ছাত্ররা জানাবে না তো কে জানাবে! শিলিগুড়ির এই সব মানুষ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করার প্রতিবাদ জানিয়ে, অবিলম্বে তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিছিলে প্রথম সারিতে ছিল সুকৃতি। এটাই ওর স্পর্ধা! দাঁড়িভিটে পুলিশের গুলিতে দুই ছাত্রের মৃত্যুতে ও ছিল সরব। মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুলটাও ছিল ওর কাছে ঘৃণার। তাই ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সাদা পোশাকের পুলিশ। কেড়ে নিয়েছিল কুশপুতুল। ওর এই দুঃসাহস দাপুটে সব পুলিশ অফিসারদের সম্মানে লেগেছিল। তাই তাৎক্ষণিকভাবেই শুরু হলো ষড়যন্ত্র। মিথ্যা মামলা রুজু করা হলো সুকৃতিসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

চারদিকে যখন লুটতরাজ, সমাজবিরোধী, জমি মাফিয়ারা আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, থানা চড়াও হচ্ছে তখন ওই পুলিশ আধিকারিকরা নজর ঘুরিয়ে নিচ্ছে। আর গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ছাত্র হত্যার বিরুদ্ধে ঝড়ো স্লোগান তুলছে যারা তাদের খুঁজে আনতে পুলিশের ঘুম ছুটেছে।

উৎসবের বাতায়নে লড়াইয়ের মেজাজ। প্রিয় সাথিকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই দলে দলে এসেছেন ছাত্রছাত্রীরা। অনেক অভিভাবকরাও ছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দেখলেন কমরেডের পাশে দাঁড়ানোর ছবি। শরীরের ভাষায় লড়াই চালিয়ে যাবার স্পর্ধা। হাসিমুখে মাথা উঁচু করেই সুকৃতি এদিন আদালত কক্ষে প্রবেশ করে। জানিয়ে দেয় সে কোনও দুষ্কৃতী নয়। পুলিশের গুলিতে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ জানাতেই পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করার অভিযোগ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অনেকেরই মনে পড়ছিল, ২০১৩সালের ১০ই এপ্রিলের সেই পুলিশি সন্ত্রাসের কথা। বামপন্থীদের সুবিশাল মিছিল দেখে বুক কেঁপেছিল শাসকদলের। পুলিশকে সাথে নিয়ে হামলা হয়েছিল অনিল বিশ্বাস ভবনে। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সি পি আই (এম) নেতাদের। আর ৭ই অক্টোবরও পুলিশ একই রকম ষড়যন্ত্র করে নেতৃবৃন্দকে ধরার চেষ্টা করে। তবে আর সাহস দেখায়নি অনিল বিশ্বাস ভবনে ঢোকার।

বহু লড়াই সংগ্রাম প্রতিবাদী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে শিলিগুড়িতে লড়াইয়ের একটা ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। সেই ঐতিহ্যের পথ ধরে লড়াই কখনও কখনও প্রতিরোধের পর্যায়েও উঠেছে। বামপন্থীদের প্রতিটি মিছিলে লোক বাড়ছে। ছাত্র যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ যোগ দিচ্ছে। বামপন্থীদের ডাকে গত ৭ই অক্টোবরের মিছিল আরও সুবিশাল হয়েছে। মিথ্যে মামলা রুজু করা মেনে নিতে পারেনি সাধারণ মানুষ। ওরা তো সবাই আমাদের পাড়ার ছেলেমেয়ে অনেকেরই পরিচিত মুখ। মানুষের আপদে বিপদে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসতে দেখে তাদের। সেই তাগিদেই বহু মানুষ সেদিন মিছিলে হেঁটেছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement