পুজোর মুখে শিলিগুড়িতে যানজট
ভয়ংকর আকার নিয়েছে,
নির্বিকার পুলিশ প্রশাসন

অনিন্দিতা দত্ত   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

শিলিগুড়ি : ১১ ই অক্টোবর — যানজটে অবরুদ্ধ শহর শিলিগুড়ি। যানজট সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ শহরের পুলিশ। দিনের একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শহরের মূল রাস্তাসহ একাধিক রাস্তায় যানজট নিত্যসঙ্গী। যানজটের কারণে প্রতিনিয়ত নাকাল হতে হচ্ছে শহরবাসীকে। বিশেষ করে নিত্য অফিস যাত্রী ও স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের। শুধুমাত্র ‘সাবধানে চালাও, জীবন বাঁচাও’ এই স্লোগানের ভিত্তিতে পুলিশের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি রূপায়ণে ব্যস্ত প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। অভিযোগ, শহরকে যানজট মুক্ত করতে প্রশাসনের কোনও সুপরিকল্পিত চিন্তাভাবনাই নেই।

শহরে যানজট নতুন কোনও বিষয় নয়। দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু সমস্যা সমাধানের জন্য আলাপ আলোচনার সদিচ্ছা বা উদ্যোগ কোনও কিছুই নেই প্রশাসনের। যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একাধিকবার আলোচনার জন্য শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বৈঠক ডাকা হলেও প্রশাসনের পক্ষে কোনও প্রতিনিধি কোনও বৈঠকেই যোগ দেননি। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের উদাসীন ভূমিকারও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, যত্রতত্র বেআইনি ও বিশৃঙ্খলভাবে ছোট বড় গাড়ি পার্কিং-এর কারণেও শহরে যানজট বাড়ছে। শহরের ফুটপাতগুলি দখল হয়ে গেছে। যানজট এড়াতে বাইক বা সাইকেল চালকরা ফুটপাত বেছে নিয়েছেন।

পুজোর মুখে শহরে যানজট আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের বাইরে থেকে বহু মানুষের সমাগম ঘটে শহরে। পুজোর ছুটিতে সকলেই নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। কেউ ব্যবসায়িক কাজে, কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, কেউ ছুটি কাটাতেও শহরে আসেন। আবার অনেকে পুজোর কেনাকাটা করতে গাড়ি নিয়ে আসেন ও ফিরে যান। সেই কারণে শহরে এখন বাড়তি ভিড়। স্বাভাবিকভাবে যানজটের মাত্রাও বেড়েছে। পা ফেলার জায়গা নেই। এছাড়াও শহরের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। পাল্লা দিয়ে শহরের যানবাহনের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু রাস্তার সংখ্যা সেই একই থেকে গেছে। ফলে সমস্যা প্রকট আকার নিচ্ছে।

বিধানরোড লাগোয়া হাকিমপাড়ার হরেন মুখার্জি রোডের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগকারী রাস্তা ঋষি অরবিন্দ রোডের রাস্তার দুধার জুড়ে মোটরবাইক দাঁড় করিয়ে রাখার ছবি সকলেরও চেনা জানা। যানজটের কারণে এই রাস্তায় গাড়ি চালকদের নিজেদের মধ্যে বচসা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

দীর্ঘ বছর ধরে সেবক রোড ও চার্চ রোডের সংযোগস্থলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্র্যাফিক পুলিসের স্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও সেখানে যান নিয়ন্ত্রণে কোনও ট্রাফিক পুলিশ নেই। শহরের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেই এই একই অবস্থা। হিলকার্ট রোড, সেবক রোড, বিধান রোড শহরের মূল এই রাস্তাগুলিতে যানজটের তো রয়েছেই। দিন ও রাতের বিভিন্ন সময় হাসপাতাল মোড় থেকে কোর্ট মোড় কিংবা কোর্ট মোড় থেকে ভেনাস মোড়ে রাস্তার যানজটের ছবি একেবারেই অবর্ণনীয়। হিলকার্ট রোড ধরে মাল্লাগুড়ি হয়ে দার্জিলিঙ মোড়ের অবস্থা আরো সঙ্গীন। ৩১নং জাতীয় সড়ক ধরে চম্পাসারি মোড়ে পৌঁছাতে গিয়েও একই দুর্ভোগ। যানজটের দরুন এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

রিকশা আর টোটোতে ভরে গেছে শহর। শহরের অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য ভোগান্তি বাড়ছে শহরবাসীর। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা পায়ে হাঁটা দূরত্বে স্কুলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শহরের যানজটের আরও করুণ দৃশ্য ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুল বাসগুলির দীর্ঘসময় যানজটে আটকে থাকা। নির্দিষ্ট সময়ে স্কুল বাস না পৌঁছানোয় অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। যানজটে জেরবার শিলিগুড়ি শহরে শব্দ দূষণ বাড়ছে। বিভিন্ন যানবাহনের হর্নে যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। সকলেই চাইছে এই যানজট সমস্যার স্থায়ী প্রতিকার।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement