সারেঙ্গার গ্রামে আদিবাসী মহিলাদের
কটূক্তি, শ্লীলতাহানি করলো তৃণমূলীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা   ১২ই অক্টোবর , ২০১৮

বাঁকুড়া, ১১ই অক্টোবর— রেগার কাজ চাইতে এসে কাজ তো পেলেনই না উপরন্তু তৃণমূলের সুপারভাইজার ও দলীয় বাহিনীর হাতে মার খেলেন গ্রামের আদিবাসী খেতমজুর মহিলারা। খালি মারধর নয়, প্রকাশ্যে কটূক্তি করে তাঁদের শাড়ি খুলে শ্লীলতাহানিও করল তৃণমূলের লোকজন। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে সারেঙ্গা থানার নেতুড়পুর অঞ্চলের বেলাটুকরি গ্রামে। ঘটনার পরই খেতমজুর আদিবাসী মহিলারা সারেঙ্গা থানায় লিখিতভাবে অভিযোগও জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ নির্বিকার। ঘটনাস্থলে আসা তো দূরের কথা, অপরাধীদের একজনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও ডাকা হয়নি। কার্যত চোখে জল ফেলতে ফেলতে একাধিক মহিলা এদিন শরীরে তৃণমূলের মারের চিহ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

এদিন বেলাটুকরি গ্রামে রেগার কাজ করতে আসা সন্ধ্যারানি মুর্মু, উর্মিলা মুর্মু, মালতি হাঁসদারা জানান, আমরা বরাবরই মাটি কাটার (রেগার) কাজ পাই। এখন গ্রামে কোনও কাজ নেই। জঙ্গলের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। পেট চালানো দায় হয়ে গেছে আমাদের। গ্রামে একটি রেগার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমরা কোদাল, ঝুড়ি নিয়ে একাধিক মহিলা কাজের জায়গায় গিয়ে দেখি কাজ শুরু হয়ে গেছে। তাঁরা সুপারভাইজারের কাছে জানতে চান তাঁদের কেন খবর দেওয়া হয়নি। তাঁদের সবারই জবকার্ড আছে। আগেও কাজ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, আমাদের কোন কথা শোনা হয়নি। কাজের জায়গায় হাজির ছিল উদয়ভানু ঘোষ, ভোলানাথ মণ্ডল, গণেশ মণ্ডল, ঠাকুরদাস মুর্মুসহ একাধিক তৃণমূলের নেতা। তারা এই খেতমজুর মহিলাদের কাজের বিষয়টি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে কটূক্তি করতে থাকে বলে অভিযোগ। মহিলারা জানান, যারা উপস্থিত ছিল তাদের মধ্যে একজন সুপারভাইজার। বাকিরা সব স্রেফ তৃণমূলের ঝান্ডা ধরার জন্য এই কাজ থেকে টাকা ভাগ নেওয়ার জন্য হাজির ছিল। এরকমই চলে এখানে। মহিলারা জানান, খালি কটূক্তি নয়, প্রকাশ্যে এত মানুষজনের মাঝে তাঁদের কোদালের আঘাত করে ঐ শাসকদলের লোকজন। বলে, এখান থেকে বেরিয়ে না গেলে কাপড় খুলে দেওয়া দেওয়া হবে। নিয়তি মুর্মু জানান খালি মুখের কথা নয়, অনেকেরই কাপড় খুলে দেয় ওরা । এত বড় অপমান, অত্যাচারের মুখে পরতে হবে আমরা ভাবিনি বলে জানান সুমিত্র টুডু, মিতালি মুর্মুরা। এঁরা জানান, কেন আমরা কাজ পেলাম না তা জানতে পারলাম না । উলটে মার খেয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হলো। এঁরা ঘটনাস্থল থেকে সোজা সারেঙ্গা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে আসেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এদিন সন্ধ্যায় সারেঙ্গা থানায় ফোন করা হলে এক পুলিশকর্মী জানান, ঘটনার খবর পেয়েছি। কোনও ব্যবস্থা কি নেওয়া হচ্ছে, এই জিজ্ঞাসার উত্তরে তিনি নীরব থেকে ফোন কেটে দেন। কার কাছে যাবেন এই আদিবাসী খেতমজুর মহিলারা? সংবিধান স্বীকৃত রেগার কাজ চাইতে গেলে মহিলাদের প্রকাশ্যে কাপড় খুলে নেবে রাজ্যের শাসকদলের লোকজন? নেতুড়পুর অঞ্চলের মানুষজনের কথা, এ ভাবেই গ্রামের গরিব আদিবাসী মহিলারা অপমান সইবেন?

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement